ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

মসুল ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ



বাংলা রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকি নিরাপত্তাবাহিনী ইসলামিক স্টেট তথা আইএসের কাছ থেকে দেশটির প্রাচীন শহর মসুল উদ্ধারে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে। ইরাক সরকার আশা করছে, এই অভিযানেই আইএসের একমাত্র ও শক্ত ঘাঁটি মসুল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

 

ইরাকের আইএস মসুলকে তাদের রাজধানী হিসেবে ব্যবহার করে। স্বাভাবিকভাবেই এটি তাদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি এবং মসুল রক্ষার্থে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাণপণ লড়াই করছে।

 

কৌশলগত কারণে মসুলে যুদ্ধ পরিচালনা করা খুবই কঠিন। কারণ শহরটিতে এতোই সরু অলি-গলি যে, তা একটি গোলক ধাঁধাঁর মতো। তাছাড়া শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এক প্রকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করতে হয়।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, মসুলে প্রায় এক লাখ বেসামরিক লোক আটকা পড়েছে। তারা ব্যাপক খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকটে রয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসারও তেমন সুযোগ-সুবিধা নেই।

 

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) বলছে, মসুলে এখন স্থলযুদ্ধ চলায় সেখানে আটকে পড়া প্রায় এক লাখ লোক ভয়ংকর সময় অতিক্রম করছে।

 

আইএসবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া সমন্বিত বাহিনী কাউন্টার টেররিজম সার্ভিসের (সিটিএস) কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল ঘানি আল-আসাদি বলেছেন, মসুল উদ্ধারে এটিই চূড়ান্ত অভিযান।

 

এদিকে, আইএসবিরোধী অভিযানে ইরাকি বাহিনীকে বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে সহায়তা করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট।

 

রয়টার্স টিভির খবরে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে শহরের উত্তরে টাইগ্রিস নদীর পশ্চিম তীরবর্তী এলাকায় কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া শহরের উত্তর দিকে সমরযান অগ্রসর হচ্ছে এবং বোমাবর্ষণ ও গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

 

তবে শহরের সবচেয়ে বড় দুটি হাসপাতাল দখল করে রেখেছে আইএস যোদ্ধারা এবং এ ভবনগুলোকে তারা স্নাইপার (গুপ্ত) ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

প্রসঙ্গত, ইরাক সরকার ২০১৬ সালের শেষের দিকে প্রাথমিকভাবে মসুল পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু আইএস যোদ্ধারা শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যাওয়ায় তা বিলম্বিত হয়। কারণ তারা বেসামরিক লোকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

এ ছাড়া আইএস যোদ্ধারা ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা, বুনো ফাঁদ এবং স্নাইপার ও মর্টার হামলা চালাচ্ছে।

আইআরসি বলেছে, শহরের ভবনগুলি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে, নিখুঁতভাবে বিমান হামলা না চালালে বেসামরিক লোক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

 

সিটিএস কমান্ডার মেজর জেনারেল মান সাদি ইরাকি টেলিভিশনে বলেছেন, আমরা খুবই সাবধানে অভিযান পরিচালনা করছি এবং হালকা ও মাঝারি ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছি।

 

উল্লেখ্য, গত তিন সপ্তাহের অভিযানে মসুলে কয়েক শ সাধারণ লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শহরের অনেক লোক পায়ে হেঁটে কিংবা টাইগ্রিস নদী পাড়ি দিয়ে পালিয়ে গেছে।

 

কারণ মে মাসে মনে করা হয়েছিল, শহরটিতে দুই লাখ লোক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সে সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সরকারি বাহিনী যতই শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ততই লোকজন পালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

 

ইরাকি বাহিনী মনে করছে, বর্তমানে মসুলে আইএস যোদ্ধার সংখ্যা তিন শ’র বেশি হবে না। অথচ গত বছরের ১৭ অক্টোবর যখন মসুলে অভিযান শুরু হয় তখন ছিল ছয় হাজারের কাছাকাছি।

 

বাংলা রিপোর্ট/প্রধান