ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

কেশবপুরের সরকারি সেই খাল দখলমুক্ত



যশোর থেকে, বিশেষ প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুর উপজেরার মহাদেবপুর বিলের পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে সরকারি খালের মুখে এক মাছের ঘের ব্যবসায়ীর নির্মাণ করা পাকা গেট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

সরকারি খালে মাছের ঘের করার জন্য এক ঘের ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ওই গেট নির্মাণ করায় এলাকার কৃষকরা ফুঁসে ওঠেন। বিক্ষুব্ধ কৃষকরা একটি অভিযোগপত্র পানিসম্পদ মন্ত্রণালেয়ের সচিবসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দাখিল করার পর উপজেলা প্রশাসন ওই গেট উচ্ছেদ এবং মাছের ঘেরের বেঁড়ি কেটে দিয়ে খাল দখলমুক্ত করেন।

 

সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর, মোমিনপুর, বগা, আড়ংপাড়াসহ ৫/৬ গ্রামের বর্ষার অতিরিক্ত পানি মহাদেবপুর খাল দিয়ে কপোতাক্ষ নদে নিষ্কাশিত হয়। কেশবপুর পৌর এলাকার বায়সা গ্রামের মিনার হোসেন মহাদেবপুর বিলের পূর্বাংশে মাছের ঘের করার জন্য চাষিদের ইরি মৌসুমে বোরো আবাদ করার আশ্বাস দিয়ে বিঘাপ্রতি ৩ হাজার টাকায় জমি হারি নিয়ে ১ হাজার বিঘা জমি ডিড করে নেন।

 

তিনি এলাকার প্রভাবশালীদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে মাছের ঘেরের পৃথক বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করে সরকারি রাস্তা বেঁড়ি হিসেবে ব্যবহারসহ মহাদেবপুর সরকারি খালের মুখে পাকা গেট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেন। এ ছাড়াও তিনি সরকারি খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে ১৫ টি টপ ঘের তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করেন। ফলে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হওয়ায় চলতি বর্ষা মৌসুমে বিলের চারপাশের ৫/৬ গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

মহাদেবপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই ইতিমধ্যে কৃষকদের লাগানো শাক-সবজি, আউশ ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বিল পাড়ের গ্রাম গুলির নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সাক্ষরিত একটি পিটিশন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও কেশবপুরের সংসদ ইসমাত আরা সাদেক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে দাখিল করা হয়।

 

হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জুলমাত আলী বলেন, ওই ঘের ব্যবসায়ী সরকারি খালের মুখে পাকা গেট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাইফুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কবির হোসেন বুধবার ঘটনাস্থলে এসে এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে নিয়ে গেট উচ্ছেদ করেন। এ সময় তাদের উপস্থিতিতে জনগণ সরকারি খালের বাঁধ কেটে দিয়ে দখলমুক্ত করেন।

 

এ ব্যাপারে ঘের মালিক মিনার হোসেন বলেন, ডিডের শর্ত ভঙ্গ করে ওই বিলে কোন ঘের করা হয়নি। তাছাড়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রেখেই ঘের করা হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম সাইফুর রহমান বলেন, সরকারি খালের মুখে নির্মাণ করা পাকা গেট উচ্ছেদ এবং বাঁধ কেটে খাল দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওই মাছের ঘের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্য প্রতাপপুর তহশীল অফিসের নায়েবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে