ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

নড়াইলে পাষণ্ড পিতার কাণ্ড!



নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে পাষণ্ড পিতা কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করছে। তার নাম মীম খাতুন। পাষণ্ড পিতা আহাদ মোল্যা (৩৮)। এ ঘটনায় আহাদ পলাতক রয়েছেন।

প্রতিবেশিসহ স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে বাগডাঙ্গা গ্রামের আহাদ মোল্যা তার শিশুকন্যা মীমকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করেন। সদর উপজেলার দক্ষিণ বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মীমের দুই চোখ, মুখ, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।

এদিকে সদর হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত মীমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। বাড়িতে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মীমের বাবা তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক আচরণ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, আহাদ মোল্যার নির্যাতনের শিকার হয়ে বেশ আগেই মীমের মা তার (আহাদ) সংসার ছেড়ে চলে গেছেন। মা কাছে না থাকার সুযোগে মীমের ওপর প্রায়ই নির্যাতন করা হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন প্রতিবেশিরা। এমনকি মীমের ওপর নির্যাতন বন্ধে কথা বললে প্রতিবেশিদের গালমন্দ শুনতে হয়। চিকিৎসাসেবার জন্য কোনো সহযোগিতা করতে দেয়া হয় না। গত বৃহস্পতিবার নির্যাতনের পরেও মীমকে ঠিকমত চিকিৎসা দেয়া হয়নি। এমনকি কান্নার শব্দ বন্ধে মীমের গালের মধ্যে গামছা দিয়ে রাখা হয়।

সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ইউনুস আহমেদ জানান, আহত অবস্থায় মীমকে গত শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন তার ভাই। তার চোখ-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মীমকে যথাযথ চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়।

প্রতিবেশিরা আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে মীমকে অমানবিক নির্যাতন করলেও তার কোনো প্রতিকার মেলেনি। তার ওপর নির্যাতনের কথা কাউকে না জানানোর জন্য প্রতিবারই মীমকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। নানান ভয়ভীতি দেখানো হয়। এবারও নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হলে তা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, আহাদ মোল্যা একাধিক বিয়ে করলেও তার নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রীরা সংসার ছেড়ে চলে গেছেন।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে