ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার একমাত্র ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল কোনক্রমেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না। আর মিলটির উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে বিটিএমসিকে গুনতে হচ্ছে প্রতি মাসে মোটা অংকের ভর্তুকি।

সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ বলছেন, উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে সুতার দাম কম, শ্রমিক সংকট ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অব্যাহতভাবে লোকসান যাচ্ছে সাতক্ষীরার একমাত্র ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের।

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের জেনারেল ম্যানেজার মো. শফিউল ইসলাম খান মিলের লোকসানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমান এক বেল সুতা উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ১২ হাজার ৫৫০ টাকা। সেখানে বিক্রি মূল্য পাওয়া যাচ্ছে প্রতি বেল ৮ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে প্রতি বেলেই লোকসান যাচ্ছে ৪ হাজার ১৫০ টাকা। এছাড়া চড়া মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হচ্ছে। তার উপর রয়েছে শ্রমিক সংকট।

তিনি আরো বলেন, এখানে দু‘টো ইউনিটে ৩৫০ শ্রমিক কাজ করে। এরমধ্যে নারী শ্রমিক হচ্ছে ৮০ শতাংশ। এসব শ্রমিকদের দৈনিক ১৬০ থেকে ২০০ টাকা করে মজুরী দেয়া হয়। কিন্ত এতো কম মজুরীতে শ্রমিক বাড়ানোও সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, এই মিলটিতে প্রতি মাসে উৎপাদন ব্যয় হয় ৪০ লাখ টাকা। সেখানে মাসে আয় হয়ে থাকে সর্বসাকুল্যে ২৯ থেকে ৩০ লাখ টাকা। ফলে বিটিএমসিকে মাসে ১০ লাখ ভর্তুকি গুনতে হবে বলে তিনি জানান।

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাশে তালতলা এলাকায় ৩০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় জেলার একমাত্র ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল। প্রথম এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই মিলটি ব্যাপক লাভে চলে যায়। এরপর নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চরম লোকসানে পতিত হয় এ সম্ভাবনাময় মিলটির। একপর্যায়ে কয়েক দফা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে নারায়ণগঞ্জের সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শোমা ইয়ার্ন ট্রেডার্স সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের নীলকমল ইউনিটটি চুক্তিভিত্তিক চালু করে। বিটিএমসি’র কাছ থেকে তারা কিছু শর্তসাপেক্ষে উৎপাদন শুরু করে। একপর্যায়ে ২০১৫ সালে মিলের মূল সুন্দরবন ইউনিটও উৎপাদনে ফিরিয়ে আনে তারা। কিন্ত দু’টি ইউনিটই চালু হওয়ার পর থেকে অদ্যবধি মিলটি লাভের মুখ দেখতে পারেনি। অব্যাহতভাবে লোকসানই গুনতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন জানান, খুবই সম্ভাবমনাময় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল। তবে লোকসানের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ইতিমধ্যে মিলটি পরিদর্শন করে এসেছেন।

তিনি আরো জানান, অতি শিগগিরই সংশ্লিষ্ট পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিদ্যমান যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করে পূর্বের ন্যায় যাতে মিলটি লাভজনক অবস্থানে যেতে পারে সেই চেষ্টাই করা হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে