ব্রেকিং নিউজঃ

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজা অনুষ্ঠিত  ***  টি-টেনে সাকিবদের ম্যাচ আজ রাত দশটায়, তামিমদের বারোটায়  ***  ইংল্যান্ডের ১ম ইনিংসে সংগ্রহ ৪০৩, অস্ট্রেলিয়া ১৮০/৩  ***  টি-১০ লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক আফ্রিদির, বিধ্বস্ত শেবাগরা  ***  বিকালে লালদীঘি ময়দানে মহিউদ্দিন চৌধুরীর জানাজা  ***  মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক  ***  ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজট  ***  পূর্ব জেরুজালেমে দূতাবাস খুলতে চায় লেবানন  ***  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থী ৭দিন ধরে নিখোঁজ  ***  মুন্সীগঞ্জে গজারিয়ায় নামাজে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮
Published: 4 months ago

সাতক্ষীরা শহরের প্রমত্তা প্রাণসায়ের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা জেলা শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা প্রাণসায়ের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। খালের দুই মুখে অপরিকল্পিত স্লুইজ গেট নির্মাণ, প্রাণসায়রের দু’ তীর জবরদখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপন গড়ে তোলা, খালের মধ্যে বর্জ্য, ময়লা-আবর্জনা ফেলাসহ নানা কারনে খালটি জেলা শহরের মানুষের কাছে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। খালের পঁচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দুষিত হয়ে উঠেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারনে এলাকায় ছড়াচ্ছে নানা রোগজীবানু।

জানা গেছে, ১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পিএন হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণসায়ের খাল খনন করেন। সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গি থেকে সাতক্ষীরা শহর হয়ে এল্লারচর পর্যন্ত এ খালের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। প্রথমাবস্থায় এ খালের চওড়া ছিল ২০০ ফুটের বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সে সময় বড় বড় ব্যবসায়িক নৌকা এসে ভিড় জমাতো এ খালে। এর ফলে সাতক্ষীরা শহর ক্রমশঃ সমৃদ্ধশালী শহরে পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা মহকুমা শহর থেকে জেলা শহরে রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় জনগণের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে বন্যা প্রতিহত করার নামে খালের দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইজ গেট নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দেয়ায় খালটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়।

এরপর জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ১০ কিলোমিটার খাল সংস্কারের টে-ার পায় ঢাকার মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স। ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে প্রাণসায়ের খাল খনন শুরু করে। কিন্তু নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই লোপাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। খাল খননের নামে খালের দু’ধারের শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে খালটিতে বজ্য, ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরে গেছে। খালের দু’ধারে অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসভবন তৈরি করেছে। খালের পঁচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দুষিত হয়ে উঠেছে। খালের দু’ধারে বসবাসের অবস্থা নেই।

সাতক্ষীরা শহরের স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান মাসুম ও আলী নূর খান বাবলু বলেন, এই করুণ অবস্থার অবসান ঘটিয়ে খালটির হারানো যৌবন ফিরিয়ে দেয়ার দাবি সাতক্ষীরা শহরবাসীর। অবিলম্বে খালের দুই ধার পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। প্রাণসায়ের খালের সিংহভাগ অংশ সাতক্ষীরা পৌরসভার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজরদারি নেই।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী বিএম আব্দুল মোমিন বলেন, প্রাণসায়ের খাল সংস্কারের জন্য ৫ বছর আগের শিডিউলের সঙ্গে বর্তমানের শিডিউলের মিল না থাকায় ঠিকাদারা কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। খালটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় বিধায় চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, প্রাণসায়ের খাল আজ মৃতপ্রায়।  ইতিমধ্যে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রায় অর্ধেক দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাকিটা দখলমুক্ত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রাণসায়ের খাল রক্ষার্থে মাইকিং করে ইতিমধ্যে পৌরবাসীকে জানানো হয়েছে, যাতে কেউ কোনো ময়লা আবর্জনা খালের ভেতরে না ফেলেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন বলেন, জরুরিভাবে প্রাণসায়ের খাল খননের চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি। বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেকে জানানো হয়েছে। আর বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে