ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

মানুষ-পাখিতে ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত



রাঙামাটি প্রতিনিধি

মানুষ ও পাখির মধ্যে ভালোবাসার বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মাঝেরবস্তী এলাকার শোভা ত্রিপুরা। এ যেন মানুষ আর প্রকৃতির মধ্যে এক আত্মীয়তার প্রগাঢ় বন্ধন।

শনিবার শোভা ত্রিপুরার সাথে কথা বলে জানা যায়, যেখানেই মানুষের সবচেয়ে বেশী আনাগোনা ঠিক বাড়ির প্রধান দরজার পাশে লাগানো ছোট্ট পাতাবাহার গাছের ডালেই গত তিন সপ্তাহ আগে বাসা বেঁধেছিল দেশীয় পাখি বুলবুলি। যে পাখি কখনো পোষ মানেনা এবং মানুষের সংস্পর্শেও আসে না। সেই বুলবুলি পাখি ডিমে তা দিয়ে তিনটি বাচ্চা নিয়ে মা-বাবা পাখি তার বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

প্রথম দিকে মানুষের আনাগোনায় পাখিরা ভয় পেলেও এখন আর তেমন ভয় পায় না। পাখিদের নিজের সংগ্রহ করা খাবারের পাশাপাশি শোভা ত্রিপুরা ও তার তিন কন্যা- শান্তা, পুষ্প ও ফাল্গুনীর হাতে দেয়া খাবার ও পানি নির্ভয়ে খেয়েই বড় করছেন মা-বাবা পাখিগুলো তাদের বাচ্চাদের। পাখিগুলো বাধ্য মানব শিশুর মত ভালোবাসা, শাসন, আদর, সবই যেন বোঝে মানুষের মত। সচরাচর খুব কমই দেখা যায় এ ধরনের দৃশ্য। এ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই প্রতিবেশীরা ভিড় জমায় শোভা ত্রিপুরার বাসায়।

শোভা ত্রিপুরা বলেন, আমার তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। তেমনি এই পাখিগুলোরও রয়েছে তিনটি বাচ্চা তাই আমি আমার সন্তানের মতো করেই তাদের দেখি। কেউ যেন তাদের ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে সবসময় লক্ষ রাখি।

তিনি বলেন, ভালোবাস-মায়া মমতা পেলে পাখি কেন, হিংস্র বাঘকেও পোষ মানানো সম্ভব। কেউ যেন পাখি শিকার এবং প্রাণিকুল ও প্রকৃতিকে ধংস না করে তাদের সংরক্ষণ করার কথাও বলেন তিনি।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে