ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

কালীগঞ্জে পুলিশ হত্যা মামলার ৪ বছরেও তদন্তে অগ্রগতি নেই



গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিগঞ্জে চার বছর আগে চাঁদাবাজির মামলার আসামি ধরতে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর এলাকাবাসীর হামলায় নিহত হন এক পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় আহত হন আরো চার পুলিশ।

২০১৩ সালের ১০ মে গভীর রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ গ্রামের পূর্বাচল উপশহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে সরকারী কাজে বাধা ও পুলিশ হত্যার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কালিগঞ্জ থানায়  দায়ের করা মামলা  নং ০৯(০১)১৩ ও ২৭(৪)১৩।

মামলার বাদী ও স্বাক্ষী উভয়ই পুলিশ হওয়ার পরও অগ্রগতি না থাকায় নিহতের পরিবারসহ অন্যন্যা পুলিশ সদস্যরা হতাশ প্রকাশ করছেন। হত্যাকাণ্ডের চার বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা আজ পর্যন্ত কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টর জমা দেয়ার পর চার বছরে নথিতে আর কোনো নতুন তথ্য যোগ হয়নি। এছাড়া মামলার অভিযোগপত্র এখনো দাখিল না করায় বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১০ মে মাসের গভির রাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বড়কাউ গ্রামে পূর্বাচল উপশহর এলাকায় বালি ভরাট ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। পরে কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আল-মামুনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে আসামি ধরতে যান।

এ সময় আব্দুল কাদের ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন দিয়ে এলাকার মসজিদের মাইকে বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে বলে ঘোষণা দেন। ডাকাতির ঘোষণা শুনে এলাকাবাসী দা, বটি, ছোরা, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ পোষাক পরিহিত অবস্থায় পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং পিটিয়ে ও কুঁপিয়ে মারাত্মকভাবে পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে আজিজুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। আরো চার পুলিশ সদস্য গুরুতরআহত হন।

এ ঘটনায় নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে মোট ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো দেড় হাজার গ্রামবাসীকে নাম ছাড়াই আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয়।

মামলার বাদি কালিগঞ্জ থানার তৎকালীন পুলিশের এসআই কামরুল ইসলাম। মামলার প্রধান আসামি কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো: আ: কাদের।

নিহত পুলিশ সদস্য আজিজুর রহমানের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম বলেন, আমার স্বামী হত্যা মামলার বাদী ও স্বাক্ষী পুলিশ নিজেই। অথচ ঘটনার চার বছরেও আমার স্বামী হত্যার বিচার পেলাম না। বিচার তো দূরের কথা আজ পর্যন্ত মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। স্বামী হত্যাকারীদের বিচার দাবি করছি। তিন আরো জানান, মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি আমাদের দেখার কেউ নেই।

নাগরী ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান এড. সিরাজ উদ্দিন জানান, এলাকায় ডাকাত এসেছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশ হত্যার খবর পেয়ে পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সরকারি কাজে বাধা দেয়া এবং হত্যা করা দুইটাই অপরাধ। এর বিচার হওয়া উচিত।

মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, আমি তিন মাস আগে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। একজন আসামী মারা গেছেন আরেকজন পলাতক এবং বাকীরা জামিনে আছেন। এজাহার নামীয় আসামীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে