ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

রাঙামাটিতে শিক্ষানবিস নার্সের মৃত্যু : শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ



রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর হাসপাতালের পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল। শিক্ষানবিস এই ‘নার্সের মৃত্যুর জন্য ভুল চিকিৎসা দায়ী’ এমন অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে তার সতীর্থরা। সহপাঠীর মৃত্যুতে তারা চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে বুধবার হাসপাতাল এলাকা ও ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।

এই ঘটনার রেশ ধরে নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নানা অবস্থার কথা তুলে আনে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানায়, শিক্ষার্থী নার্সের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ রিতা রানী বড়ুয়ার অপসারণ এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা দূর না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবে ইন্টার্নি নার্সরা।

শিক্ষানবিস নার্সরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে প্রচণ্ড জর ও মাথা বªথা নিয়ে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি হয় মাহামুদা খাতুন নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী নার্স। সেখানে তাকে দুই ঘণ্টা রাখার পরে চট্টগ্রামে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু তৈয়ব। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোররাতে মাহমুদা মারা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই শিক্ষার্থীকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসার বিষয়ে যথেষ্ট অবহেলা করেন। পরে তাকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম মেডিকেলের ডাক্তার বলেছেন, রাঙামাটি হাসপাতালে ওই রোগীর ভুল চিকিৎসা করা হয়েছে।

বুধবার মাহমুদার লাশ রাঙামাটি আনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে হাসপাতালের পরিবেশ। এ সময় বিক্ষোভ করে নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। এ সময় হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা বিপাকে পড়ে।

নার্সিং ইন্সটিটিউটে বিক্ষোভের পর সেখানে যান সিভিল সার্জন ডাঃ শহীদ তালুকদার। এসময় তিনি উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিমোরেজিক স্ট্রোকে মারা গেছে এবং এটি সিটিস্ক্যান রিপোর্টে উল্লেখ আছে।

শিক্ষার্থীরা আরো জানিয়েছে, ‘আমরা নার্স হয়েও প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেবা পাই না। আমাদের সাথে প্রায় সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। তারা জানায়, আমরা অসুস্থবোধ করে হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছে গেলে তারা আমাদেরকে ‘বয় ফ্রেন্ডের সাথে কি করেছ, বাড়াবাড়ি হয়েছে কিনা, এই ধরনের বিব্রতকর প্রশ্ন তোলা ছাড়াও নানারকম কটুক্তি করে।

তারা অভিযোগ করেছেন এনটিসির সিস্টার টিউটর ইনচার্জ রীতা রানী বড়ুয়া প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

তারা বলেন, ‘আমরা প্রায় সময় বিশুদ্ধ পানি খেতে পারি না, বেসিনের পানি খেতে দেয়া হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে গালাগাল দেয়া হয়। তারা জানায়, নার্সিং ইন্সটিটিউটে ও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বিরাজমান নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার্থী নার্সদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। এসব অভিযোগ সিভিল সার্জনকে জানানো হলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করে তারা।

বুধবার এনটিসি পরিদর্শনকালে এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন জানান, এর আগে আমাকে কেউ এতোসব অভিযোগের বিষয় জানায়নি। বিষয়গুলো নিয়ে আমি আগামী ১৩ মে তারিখ শিক্ষার্থীদের সাথে আবারো বসবো। তাদের বিষয়গুলো জেনে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাস্তবায়নের জন্য পাঠাবো।

এদিকে, রাঙামাটি নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ রীতা রানী বড়ুয়ার কাছে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেয়েদের সাথে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার করা হয়না। তারা আমার মেয়েরই মতো। আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে মেয়েগুলোকে আগলে রাখি।

এদিকে স্টুডেন্ট নার্সদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। একেতো হাসপাতালের মহিলা ও শিশু এই দুইটি ওয়ার্ড অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এতে করে রোগীর সংখ্যা তিনগুণ হয়ে যায় উক্ত ওয়ার্ডে। এত পরিমান রোগীকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত স্টাফ নার্সগণ। রোগীদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা তাৎক্ষণিকভাবে পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

বুধবার হাসপাতাল মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মাহমুদার লাশ তার বাড়ি গাজীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে