ব্রেকিং নিউজঃ

পথে পথে ভোগান্তি আর ঝুঁকি মেনেই নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ , সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি : লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী  ***  সহায়ক সরকারের একাধিক ফর্মূলার আভাস বিএনপির : শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচনের বিষয়ে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ  ***  সৌদি আরবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপন হবে ঈদুল ফিতর *** বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার অনুষ্ঠিত হবে  ***  কাবা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে সৌদি আরব  ***  আজীবন নিষিদ্ধ অভিনেতা শাকিব খান: চিত্রপরিচালক গুলজারের পদত্যাগ  ***  ঈদ করতে ট্রাকের ছাদে বাড়ি ফেরা, নিহত ১৬  ***  পাটুরিয়ায় ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ৪ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক  ***  একসঙ্গে ৩১ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারত  ***  আফগানিস্তানের হেলমান্দে জঙ্গি হামলায় নিহত ৩৪  ***  বাগদাদীকে হত্যা করা হয়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ নিশ্চিত : রাশিয়া

সাতক্ষীরায় জমে ওঠেছে ঈদ বাজার



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

রমজানের শেষ মুহূর্তে সাতক্ষীরায় জমে ওঠেছে ঈদ বাজার। শহরের অভিজাত শপিং মল থেকে শরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে তিল ধারণের ঠাই নেই। ঈদে চাই নতুন পোশাক। তাইতো সাধ আর সাধ্যের মধ্যে না থাকলেও প্রিয়জনের উপহার দিতে ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে নিম্নবিত্তের মানুষও।

 

আর কয়েকদিন বাদেই ঈদ। শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা সারতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। আর সে কারণে সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট, চায়না-বাংলা শপিং সেন্টার, আল বারাকা সিটি কমপ্লেক্স, বসুন্ধরা টাওয়ার, মেহেরুন প্লাজা, লন্ডন পালাজা, মেহেদি সুপার মার্কেট, আমিনিয়া মার্কেট, সুলতানপুর বড় বাজার ও থানা সড়কের দোকানগুলোতে রয়েছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতারা  এ মার্কেট থেকে ও মার্কেট ঘুরছেন নিজেদের পছেন্দের পোশাক কিনতে। সাধ্যের মধ্য থেকে কেনাকাটা করতে অনেকে আবার শপিং মল ছেড়ে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন।

 

এদিকে ঈদ উপলক্ষ্যে সাতক্ষীরার বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে ভারতীয় পোশাকে ছেয়ে গেছে। তবে এসব মার্কেটে মানসম্মত দেশীয় পোশাক সামগ্রী থাকলেও ক্রেতাসাধারণের চাহিদা ভারতীয় পোশাকের প্রতি একটু বেশি।

এবার ঈদে মেয়েদের জন্য আকর্ষণীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে বাহুবলি টু, রাখিবন্ধন, পটল কুমার, বাজরাঙ্গি ভাইজা, ফ্লোর টার্চ, লাসা, লং স্কট, শর্ট স্কটসহ বিভিন্ন নামের থ্রি-পিস ও ফোর পিস পোশাক। তবে, দেশী অনেক পোশাক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে। আকৃষ্ট করেছে দেশীয় পণ্য টাঙ্গাইল শাড়ি, জামদানী, খদ্দর, মনীপুরী, রাজগুরু, বালুচুরী, জর্জেট শাড়ি ইত্যাদি।

 

গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নবিত্তরা পড়েছেন বিপাকে। অবশ্য নিম্নবিত্তদের কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে থানা মসজিদের সামনে ফুটপাতে বেশ কয়েকটি পোশাকের দোকান দিয়েছে স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীরা। বড় বড় মার্কেটের চেয়ে এই সব মার্কেটে জমে ওঠেছে বেচাকেনা। তাছাড়া জুতার দোকানেও ভিড়ের কমতি নেই, বেড়েছে কসমেটিকসের বেচাকেনাও। বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে পছেন্দের জুতা, স্যান্ডেল, প্যান্ট, জামা কিনছে শিশুরা। সব ধরনের ক্রেতাদের চাপে দোকানীদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই বললে চলে।

 

শহরের মিম গার্মেন্টস-এর স্বত্বাধিকারী শাহিনুর রহমান বলেন, তিনি শূন্য থেকে সাত বছরের শিশুদের পোশাক বিক্রি করছেন। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি বাড়লেও লাভ কম হচ্ছে। পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়া এবং ক্রেতাদের গত বছরের দাম ধরে রাখার চেষ্টার কারণে এবার লাভ কম হচ্ছে।

 

সাত রং বস্ত্র বিপনীর স্বত্বাধিকারী আকবার হোসেন বলেন, ঈদের বাজারে শাড়ির প্রতি আকর্ষণ কম। তারপরও কিছু শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। তার দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জর্জেট শাড়ি ১২০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ি দুই হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

 

নবরূপা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী মো: জহিরুল ইসলাম বাবু ও ফ্যাশন এশিয়ার স্বত্বাধিকারী রুহুল কুদ্দুস বাবলু বলেন, তার দোকানে পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট বিক্রি হয়। পাঞ্জাবির মধ্যে সূতি পাঞ্জাবি ৩০০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা, জর্জেট পাঞ্জাবি দেড় হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা, সিল্ক পাঞ্জাবি (ভারতীয়) দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, জামদানি পাঞ্জাবি ৭০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা, টিস্যু পাঞ্জাবি সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা, মটকা পাঞ্জাবি ১২০০ টাকা থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে।

 

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদের আগেই পুলিশ প্রশাসন সাতক্ষীরা শহরে ইঞ্জিন ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও ইজিবাইকসহ অবৈধ যান চলাচল বিরোধী অভিযানে নামায় শহরের বড় বড় বিপনীগুলোতে এবার ক্রেতার সংখ্যা গতবারের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে। ফলে তারা অনেকটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

 

সাতক্ষীরা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সাতক্ষীরার পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ ঈদের কেনাকাটা করে নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরতে পারে সে জন্য জেলা শহরের চারটি পয়েন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে