ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 7 months ago

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী



রাঙামাটি প্রতিনিধি:

পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, রাঙামাটিতে পাহাড় ধস এ অঞ্চলের জনগণকে কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। যারা স্বজন হারিয়েছেন, বাড়িঘর হারিয়েছেন তারা এ মুহূর্তে একেবারেই বিধ্বস্থ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে, এসব মানুষগুলো নিজেদেরকে কোনোভাবেই অসহায় না ভাবে, নিঃস্ব না ভাবে। সরকার পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে।

 

শুক্রবার রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য আমরাও কম দায়ী নই। পরিকল্পিত বনায়ন নেই, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ, কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের কারণেই প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। আমাদের উচিত এ পথ পরিহার করা। যদি আমরা সবকিছুর বিষয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াই, এর চেয়েও বড় দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। তাই এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাসহ সকলের সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা দরকার।

 

তিনি বলেন, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে। কোনোভাবেই যাতে খাদ্য, চিকিৎসা, বস্ত্র সংকট তৈরি না হয় সেটাও দেখতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার যে অবস্থা সেখানে গিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে এ মুহূর্তে থাকা আরো বিপদজনক। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, ততদিন ক্ষতিগ্রস্তরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকুক। ওদের দেখভালের দায়িত্ব সরকার নিবে। তিনি পাহাড় ধসে ভেঙে যাওয়া রাস্তাঘাট যতদ্রুত সম্ভব চলাচলের উপযোগী করে তোলার হবে বলে জানান।

 

 

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান এর সভাপতিত্বে এদিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ভাইস চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কাপ্তাই উপজেলা হয়ে নদী পথে রাঙামাটি এসে পৌছান। রাঙামাটিতে তিনি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

 

এদিকে, প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে আজও আরো একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা ১১২ তে গিয়ে দাঁড়াল। অবশিষ্ট নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, শহরে ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজার ১ শ’ লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে