ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

সাতক্ষীরায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৯ সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যানসহ নয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক। খাদ্যশস্য নীতিমালা অনুসরণ না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হতদরিদ্র জনগণকে বাদ রেখে ৪৬ জন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়।

 

দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারি পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদি হয়ে গত বুধবার কালিগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

 

এ মামলার আসামীরা হলেন- চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন, ইউপি সদস্য গোলাম কাইয়ুম, আব্দুর রশিদ গাইন, মো. আবু বক্কর গাইন, মো আব্দুস সাত্তার খান, মো. আবু বক্কর, ঠাকুর দাস সরকার, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রাধা রানী অধিকারী, রাফেজা খাতুন ও শ্যামলী রানী সরকার।

 

এদিকে দুদকের মামলার খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান চম্পাফুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক গাইনসহ অপর আসামীরা তড়িঘড়ি করে আত্মগোপন করেছেন।

 

তবে ইউপি সদস্য ঠাকুরদাস সরকার বলেন, দুদক বড্ড বেরসিক তাই ঈদের আগে এমন মামলাটি করলো।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার আওতায় পল্লী অঞ্চলের হত দরিদ্র জনসাধারণকে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য সরকার কর্তৃক খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা, ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়।

 

এরই আলোকে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলাধীন তনং চম্পাফুল ইউনিয়নে হত দরিদ্রদের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১০ টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০ কেজি হারে (পরিবার প্রতি) চাল বিতরণ নীতিমালার আওতায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যগণ এক হাজার ২৫৩ জন হতদরিদ্রের নামের তালিকা উপজেলা পরিষদে জমা দেন। ইউপি চেয়ারম্যান, ছয়জন ইউপি সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পরস্পর যোগসাজসে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, ধনী এমন ৪৬ জন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করে ৪১ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের চার হাজার ১৪০ কেজি চাল আত্মসাৎ করেন। যা দণ্ডবিধি ৪০৯/৪২০/১০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এসব অপরাধ সংগঠিত হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজ্জাম্মেল হক গাইন বলেন, মামলার কপি না পেলে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

 

কালিগঞ্জ থানার ওসি লস্কর জায়াদুল হক জানান, দুনীতি দমন কমিশন খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারি পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদি হয়ে বুধবার থানায় এ মামলা (১৯নং) দায়ের করেন। মামলায় চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও নয়জন ইউপি সদস্যকে আসামী করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দুদকের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে