ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

চকরিয়ায় নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার: পরিবারে শোকের মাতম



কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ লোকনাথ জলদাস  নামের চকরিয়া উপজেলার এক জেলের লাশ বুধবার রাতে কুতুবদিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ এলাকার সাগরের চর থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করেন কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। উদ্ধারকৃত জেলে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহঁরচাদা এলাকার নারায়ণ জলদাসের ছেলে।

 

জানা গেছে, গত ১১ জুন কক্সবাজার সদরের ঈদগাও বোয়ালখালী জলদাস পাড়ার লালসেন বহদ্দারের মালিকাধীন একটি ফিশিংবোটে মাছ ধরতে যায় লোকনাথ। ওইসময় ফিশিংবোটটি ২০ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। গত ১৩ জুন নিখোঁজদের মধ্যে কুতুবদিয়ার চরে ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৪ জুন রাত ৮টার দিকে একই স্থান থেকে লোকনাথ জলদাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। এখনো ওই ফিশিং বোটের আরও ৭জন জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

 

কুতুবদিয়া থানার ওসি জিয়া মো: মোস্তাফিজ ভূইয়া জানান, লাশ পাওয়ার বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করেছেন। লাশটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

অপরদিকে গত ১৩ জুন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকার মৃত নরহরি জলদাসের ছেলে মদন জলদাসের (৪৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার পরিবারে স্ত্রীসহ চার সন্তান রয়েছে। ৫-৬ জন নাতি-নাতনি রয়েছে। আয়ের একমাত্র মানুষকে হারিয়ে পরিবারে চরম বির্পযয় নেমে এসেছে।

 

নিহত মদন জলদাসের আত্মীয় চিত্রসেন জলদাস জানান, তার পরিবারে আয়ের মানুষ মারা যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বর্তমানে তার পরিবারে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে। সরকারকে দ্রুত সাহায্য সহযোগিতা দেয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

 

এদিকে চকরিয়া উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী জানান, সাগরে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বিভিন্ন সংকেত দেয়ার পরও মৎস্য আহরণে বহদ্দারগণ চাপ দেন জেলেদের। অনেক সময় ৩-৪ নম্বর বিপদ সংকেত দেয়ার পরও অতিলোভের কারণে বহদ্দার সমুদ্র থেকে জেলেদের আসতে বাধা দেন। এতে সমুদ্রে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও মাছ ধরতে হয়। অকালে প্রাণ হারাতে হচ্ছে হতদরিদ্র জেলেদেরকে।

 

তিনি আরও জানান, এসব লোভী বহদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে হবে। পাশাপাশি এসব হতদরিদ্র জেলেদের সরকার বা বেসরকারি সংস্থা থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে