ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

খুলনায় ২১ দিনে ৭ খুন



খুলনা প্রতিনিধি:

হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে ওঠেছে খুলনা নগরী। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলা ও নগরে জোড়া হত্যাকাণ্ডসহ ৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন। ফলে নতুন করে শংকিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সর্বশেষ বুধবার রাতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত মোল্লাকে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৫ মে রাতে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে নিজ অফিসে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন খুলনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবং তার দেহরক্ষী নওশের আলী।

 

এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ মে নগরীর আড়ংঘাটা থানার বাইপাস সড়কের আকমানের মোড়ের খাল থেকে পুলিশ অজ্ঞাত (৫৫) পরিচয়ের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। এখনও পর্যন্ত তার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

 

এ ঘটনার একদিন পরই নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ১নম্বর বয়রা ক্রসরোড এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে শেখ মোস্তাক আলী ওরফে হোন্ডার ফকির (৬৪) নামে এক ব্যক্তি খুন হন।

 

একইদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ রূপসা উপজেলার আঠারোবেকী নদীর একটি ইটভাটার ঘাট থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মস্তকবিহীন অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।

 

২ জুন রাত ৮টার দিকে দৌলতপুর আঞ্জুমান রোডের একটি মসজিদের অদূরে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের দৌলতপুর থানার ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইকবাল সরোয়ারকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

 

সর্বশেষ বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর হামিদ নগর রায়ের মহল এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা শাহাদাৎ হোসেন (৬৫) নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাজী মুহম্মদ মুহসিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহত শাহাদাৎ হোসেন সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের (প্রস্তাবিত) মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় মোঃ আব্দুল জব্বারের ছেলে গুলিবিদ্ধ আজম (৩২) কে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এছাড়া আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় মোল্লা শাহাদাৎ হোসেন তার ভাগ্নে দিলুর চায়ের দোকানের সামনে ইফতারের পর স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করছিলেন। রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে (শাহাদৎ) ডেকে স্কুলের দিকে নিয়ে যায় আজম। কিছুক্ষণ পর সে (আজম) ফিরে আসে। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় চায়ের দোকানের সামনে থাকা শাহাদাৎ হোসেনের নিকট আত্মীয়রা ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহাদাৎ হোসেন তার গাড়িতে থাকা (লাইসেন্সকৃত) শর্টগান নিয়ে সেদিকে ফিরে যান এবং দু’পক্ষের গোলাগুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন স্থানীয় লিয়াকত খান (৩২), মোঃ ফজলের ছেলে রুবেল (৩৭), বুলু মোল্লা, মোঃ মোস্তফা (৩৮) ও অপর গ্রুপের আজম (৩২)।

 

পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে স্বজনহারাদের কান্নায় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছিলেন আজম। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। উল্লেখ্য মোল্লা শাহাদাৎ হোসেনের কাছে লাইসেন্সকৃত শর্টগান ও একটি পিস্তল ছিল।

 

চিকিৎসকরা জানায়, নিহতের বুকে, মাথায়, দু’হাতে ও পায়ে অসংখ্য গুলির চিহ্ন রয়েছে।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে ফ্রান্সে ও এক ছেলে কুয়েত প্রবাসী। মোল্লা শাহাদাৎ হোসেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। বছরখানেক আগে তিনি ফ্রান্স থেকে এসেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দ্বিপত্নী।

 

নিহতের বড় বোন শহর বেগম বলেন, “আজম ও নাসির আমার ভাইকে গুলি করেছে। আমি নিজে দেখেছি। গত বছরও আজম আমার ভাই (শাহাদাৎ হোসেন) কে হত্যার চেষ্টা করেছিল। এবার আজম ও নাসির দু’জনে মিলে আমার ভাইকে গুলি করেছে।”

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাগ্নে দিলু জানিয়েছেন, “এলাকার আধিপত্যের বিস্তার নিয়ে একটি গ্রুপের সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। আজম এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। যে মামাকে গুলি করেছে, তাকে দেখলে চিনবো। আর আজমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেই বিস্তারিত বলতে পারবে। আজম তাকে চেনে। তার সাথে কথা বলতে দেখেছি।”

 

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আব্দুল্লাহ আরেফ বলেন, যতদূর জেনেছি শাহাদাৎ হোসেন অন্যায়ের প্রতিবাদী একজন মানুষ ছিলেন। তিনি এলাকার চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ক্লু পেয়েছি, আজমকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। খুব শিগগিরই হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও মূল রহস্য প্রকাশ করা হবে।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে