ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে কি অসদাচারণ করা হয়েছে?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

 

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে দেশের প্রধান দুই দলের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। বিএনপি এ রায়কে সাধুবাদ জানালেও প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে কথা বললেও আলোচনা অব্যাহত রেখেছে আওয়ামী লীগ। শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আরও আলোচনা হবে। আলোচনা এখনো শেষ হয়নি।

 

 

তবে ১০ আগস্ট আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে ইতিহাস বিকৃতির মতো অসদাচারণ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তাতে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের স্বাধীনতা কিন্তু রাতারাতি আসেনি। স্বাধীনতার ঘোষণাটাও রাতারাতি হয়নি। একটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের রায়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এটাকে আমি বিকৃত করলেও আমি একটা অপরাধ করব।

 

 

আনিসুল হক বলেন, অসদাচারণের কোনো সংজ্ঞা এখন পর্যন্ত নেই। সে ক্ষেত্রে এটা খতিয়ে দেখতে হবে, এটা অসদাচরণ কি-না বা অন্য কিছু হয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখার কিন্তু অবকাশ আছে।

 

 

‘উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল তা ‘অবৈধ’ ঘোষণার রায় গত ১ অগাস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিমকোর্ট’।

 

 

আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি’- এমন একটি বক্তব্য এসেছে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে, যার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ‘অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

 

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও আদালতের ওই পর্যবেক্ষণকে ‘বাপের নাম ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো বিচারকের অসদাচরণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়ার কর্তৃত্ব কার হাতে- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, এর অথরিটি এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তার কারণ হচ্ছে, সুপ্রিম সুডিশিয়াল কাউন্সিল সম্পর্কে যদি (সংবিধানে) কোনো বক্তব্য না থাকে, আর ষোড়শ সংশোধনীও যদি না থাকে তাহলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর গতি নেই।

 

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, আদালত কিছু বাতিল করলে আগের বিধান আপনা-আপনি ফিরে আসে কি-না তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে।

 

 

 

সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যেভাবে রায়ের সমালোচনা করা হচ্ছে, তাতে আদালত অবমাননা হয় কি-না এমন প্রশ্নও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে রাখেন সাংবাদিকরা।

 

 

আনিসুল হক বলেন, ওই রায়ে এমন এক জায়গায় ‘আঘাত করা হয়েছে’, যা অনেকেরই ‘হৃদয়ে লেগেছে।

 

 

এদিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোট। একইসঙ্গে রায়কে অপ্রাসঙ্গিক, অগ্রহণযোগ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দেয়া হয়। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণের কঠোর সমালোচনা করে এ রায়ের পুনর্বিবেচনা দাবি করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।

 

 

রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

 

 

তিনি বলেন, বৈধ সংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করে দেয়া এ রায় মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আইয়ুব খান ও জিয়াউর রহমানের সামরিক আইনকে বৈধতা দিয়ে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে।

 

 

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বৈধ সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা ১৪ দল প্রত্যাখ্যান করছে। সেই সঙ্গে এ রায় বাতিলের দাবি জানাচ্ছে, এটি বাতিল করতে হবে। আমরা এটা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করব। বঙ্গবন্ধু যে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তা চন্দ্র-সূর্যের মতোই সত্যি। এটা নিয়ে রায়ে যা বলা হয়েছে তা জনগণ মেনে নেবে না, ক্ষমা করবে না।

 

 

তিনি বলেন, এ রায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের উৎসাহিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করা হয়েছে। একে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজনৈতিক মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনতেই এসব চক্রান্ত হচ্ছে। এ চক্রান্ত আমরা মাঠে-ময়দানে মোকাবেলা করব।

 

 

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, এ রায়ে সংসদকে অবমাননা করা হয়েছে। আমি জানি না মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রধান বিচারপতি কোথায় ছিলেন। আসলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তিনি জানেন না বলেই দুঃসাহস দেখিয়েছেন।

 

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় হয়ে যাওয়ার পর তা জনগণের সম্পদ হয়ে যায়। সে সম্পদ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। তা কোনোভাবেই আদালত অবমাননা নয়, অন্যায় নয়। যারা তা বলেন, তারা বালখিল্ল আচরণ করেন।

 

 

 

জাতীয় পার্টি (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে শুধু ১৪ দল নয়, সারাদেশ সংক্ষুব্ধ। সুতরাং এ রায় বাতিল হোক।

 

 

প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে শুধু আওয়ামী লীগ নেতারাই সমালোচনা অব্যাহত রাখেননি, দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে রায়ের বিরুদ্ধে সারাদেশের আইনজীবী নেতারাও সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। আইনজীবী নেতারা রোববার থেকে তিন দিনের কর্মসূচিও পালন করা শুরু করেছেন।

 

বাংলা রিপোর্ট/এফএম