ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

রায় নিয়ে আ. লীগ-বিএনপির তিনদিনের কর্মসূচি



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া রায় নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। রায়ে বিএনপি উল্লসিত হলেও ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ। রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তাতে বিএনপি ইতিবাচক দেখলেও শঙ্কায় আওয়ামী লীগ। রায়ের বিষয়ে দলের করণীয় কী হতে পারে তা নিয়ে দলের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

দলের সমর্থক আইন পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা বলেছেন, একটি মহল এ রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে ধানমণ্ডীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এ সপ্তাহে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা যে তিনদিন সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করবে, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি।

গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এরপর গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতাদের মতোই রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায় দেন।

তার সমালোচনায় গতকাল শুক্রবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এ বি এম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি করে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার সারাদেশের আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ দেখাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

আজ শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে সারাদেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যেসব ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধঃস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন।

ফজলে নুর তাপস বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। প্রধান বিচারপতি জাতীয় সংসদকে হেয় করে কটূক্তি করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানে গণতন্ত্র ও জনগণকে হেয় করা।

তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে নস্যাৎ করতে চায়, তারা সরকার ও বিচার বিভাগকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। যারা বিচার অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে চায় আমরা তাদের প্রতিহত করব।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যকে সমর্থন করে লিখিত বক্তব্যে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা মনে করি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

 

বাংলা রিপোর্ট/এফএম