ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কী ভয় পাচ্ছে আওয়ামী লীগ?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিএনপি স্বপ্ন দেখলেও ভয় পাচ্ছে আওয়ামী লীগ! রায়ে নির্বাচন কমিশন, সংসদকে অপরিপক্ক, অকার্যকর এবং নির্বাচন নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা নিয়ে শঙ্কায় আছে দলটি। রায়ে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীনরা। ষোড়শ সংশোধনী পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব ছাড়ার আহবান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন সরকারের এক মন্ত্রী। তবে রায়ের বিষয়ে কী করা হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত না হলেও রায়ের সঙ্গে দেয়া পর্যবেক্ষণগুলোর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চায় আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে ‘মুক্তিযুদ্ধ একক নেতৃত্বে আসেনি’ রায়ের এই পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীনদের ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। পর্যবেক্ষণে বিএনপির মিথ্যাচারের পক্ষে সাফাই করা হয়েছে বলেও মনে করে সরকারের শীর্ষ মহল।

 

 

এজন্য ঢাকাসহ সারাদেশে দলের সমর্থক আইনজীবীদের মাধ্যমে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম,আলোচনা সভা করার মধ্য দিয়ে জনসচেতনতা ও জনমত তৈরির কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য জানিয়েছেন, সারাদেশে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ঢাকা থেকে এ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

 

 

১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতি ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা প্রথমে রায়ের সঙ্গে দেয়া পর্যবেক্ষণগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছেন। দলের একাধিক সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর কেউ কেউ বলেছেন, রায়ের চেয়ে পর্যবেক্ষণগুলোকে অনাহুত মনে করে সরকার। ফলে পর্যবেক্ষণ নিয়ে জনমত তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক হিসেবে স্বীকৃত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

 

 

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, রায়ের সঙ্গে দেয়া পর্যবেক্ষণ অনাহুত। এর মাধ্যমে ভিন্ন অভিপ্রায় রয়েছে বলে আমরা মনে করি। এর ফলে কিছু দায়িত্ব সরকারের ঘাড়ে এসে পড়ে। ফলে এখানে সরকারেরও নিশ্চয়ই কিছু করণীয় থেকে যায়। চিন্তা ভাবনা করে তা করা হবে ।

 

 

 

এদিকে ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে আগস্টের মধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। তিনি নিজে থেকে চলে না গেলে তার বিরুদ্ধে দু্র্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

 

 

কামরুল বলেন, প্রধান বিচারপতির যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে, সামান্যতম বুঝ থাকে তাহলে স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। তা না হলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। বিএনপির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, বিএনপির সুরে কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশিদিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।

 

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে মোকাবেলায় মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

 

 

১১ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, আবার আমরা দুঃসময়ে পতিত হয়েছি, চক্রান্তের মুখে পতিত হয়েছি, আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিএনপি বিষধর সাপের মতো, সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। ইস্যুর পর ইস্যু খোঁজে, কিন্তু আন্দোলনে মাঠে থাকে না। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে তারা সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মনে হয় ক্ষমতার সিংহদ্বারে পৌঁছে গেছে। গর্ত থেকে ওঠে আবার লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপশক্তিকে প্রতিহত করতে আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবেলা করতে মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরাই আবার জয়ী হবো এবং সরকার গঠন করবো।

 

 

শুক্রবার মাদারীপুরের শিবচরে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে প্রধান বিচারপতি যে রায় দিয়েছেন তাতে ব্যাপকভাবে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কথাবার্তার অবতারণা করেছেন তিনি। রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

 

 

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জনগণের মনে আঘাত দিয়ে উপযাজক হয়ে বিচার ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব নয়। যে দেশে বিচার ব্যবস্থায় আস্থার সংকট দেখা দেয়, সে দেশে প্রলয়ঙ্করী ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় রায়ে উল্লেখ আছে, আমরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।

 

 

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার এখন বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। এই রায়ের যে অবজারভেশন, এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের কথা৷ সেটাই সুপ্রিমকোর্ট বলেছে৷ সুতরাং দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই রায়ের অবজারভেশনের সঙ্গে আছে এবং তারা একমত।

 

মন্ত্রিসভায় যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের কিছু মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, জানি না তা আদালত অবমাননার দায়ে পড়ে কি-না৷

 

বাংলা রিপোর্ট/এফএম