ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে রাজিবের ছবিতে ঐতিহ্য সংগ্রহশালা



বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশা, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সিনেমা নাটকের বিখ্যাত পরিচালক, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ, ক্রীড়াবিদ, ভাস্কর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কোনো না কোনোভাবে বিখ্যাত হয়েছে এমন দুই সহস্রাধিক ছবির মালিক মেহেরপুরের জাহিদ হাসান রাজিব।

 

এ বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কালের বিভিন্ন বয়সের বিখ্যাত মানুষের ছবি সংগ্রহ করে ব্যক্তি উদ্যোগে ‘ছবিতে ঐতিহ্য সংগ্রহশালা’ গড়ে নিজেও বিখ্যাত হয়ে গেছেন রাজিব। তাঁর সংগহে এখন দুই সহস্রাধিক ছবি। এসব ছবি দেখতে রাজিবের সংগ্রহশালায় প্রতিদিন অনেক গুণীজন ভিড় করেন।  খবর বাসস।

 
স্বাধীনতাযুদ্ধের পাদপিঠ মুজিবনগরে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে নির্মিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরভিত্তিক বাংলাদেশ মানচিত্র’। ঐতিহাসিক মুজিবনগর যাবার পথে মেহেরপুরের দারিয়াপুর বাজারের রাস্তার বামদিকে বিশাল গেটে চোখে পড়বে বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তিদের শতাধিকছবিসম্বলিত একটি গেট। গেটের ভেতরেই মায়ের নামে ‘ফিরোজা বারি কমপ্লেক্স’ এর মধ্যে ৫০ ঢ ১২ সাইজের কাঠ দিয়ে ঘেরা টিনশেডের ঘরে থরে থরে সাজানো আছে বিখ্যাত নারী পুরুষের ছবি।

 
রাজীব হাজার বছর পূর্ব থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁদের মৌলিক অবদান রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহশালায় রেখেছেন। বিখ্যাত রাজা-বাদশা, সঙ্গীতশিল্পী, মডেল, ভাস্কর, ব্লগার, সহ দুই সহস্রাধিক ছবি সংগ্রহে আছে মেহেরপুরের দারিয়াপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাজিবের। রাজিবের জন্মের আগেই তাঁর দাদা মারা যায়। প্রথমে সেই দাদার একটি ছবি সংরক্ষণ করেন তিনি, পরে তাঁর পাশে যোগ হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি।

 
রাজিব জানান, দাদার ছবির পাশে বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখার পর থেকেই বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহ করার ইচ্ছেটা প্রবল হয়ে ওঠে। সেই ইচ্ছে ক্রমে ক্রমে রূপ নেয় নেশায়। তারপর আর বসে থাকা নয়, শুরু হয়ে যায় ছবি সংগ্রহের অভিযান। ইন্টারনেটে গুগুল ঘেঁটে গত ছয় বছরে তিনি এসব ছবি সংগ্রহ করেছেন। রঙিন এসব প্রতিটি ছবিই ১০ঢ১২ সাইজে লেমিনেটিং করে কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো হয়েছে। প্রতিটি ছবি এভাবে বাইন্ডিং করতে ছবি পিছু তাঁর প্রায় ১০০ টাকা করে খরচ হয়েছে বলেও জানান। তাঁকে একাজে যারা বেশি সহযোগিতা করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চান্দু।

 
এছাড়া স্থানীয় নটরাজ গ্রুপ থিয়েটারের সকলেই তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা দান করেন। রাজিব নটরাজ গ্রুপ থিয়েটারের সভাপতি। দুই সহস্রাধিক ছবি বাইন্ডিং করে টানানোর পাশাপাশি আরও সহস্রাধিক ছবি তাঁর সংগ্রহে আছে। ঘরে জায়গা সংকটের কারণেই সেসব ছবি বাইন্ডিং না করে রেখে দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে তাঁর সংগ্রহশালাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছবির মিউজিয়াম হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্থায়ী পাকা ঘর নির্মাণ করবেন বলে জানান।

 
মাহবুবুল হক মন্টু মেহেরপুরের সমাজকর্মি। তিনি এই প্রতিনিধিকে রাজিব প্রসঙ্গে বলেন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিখ্যাত। রাজিব বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি সংগ্রহ করে বিখ্যাত হয়েছে।
মেহেরপুরের ইতিহাস ঐতিহ্যসহ বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক প্রবীণ সাংবাদিক তোজাম্মেল আযম জানান, রাজিব মেহেরপুর তথা বাংলাদেশের গর্ব। যেকোনো ব্যক্তি, ঐতিহাসিক স্থানের ছবির প্রয়োজনে রাজিব আমাদের ভরসা।
মেহেরপুরের দারিয়াপুরের রাজিব ঢাকার তিতুমির কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছেন। মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের আইসিটি কেন্দ্রে চাকুরির পাশাপাশি ‘স’ মিলের ব্যবসা করছেন। বাবা কয়েকবছর আগে মারা গেছেন। বাবার একমাত্র পুত্র রাজিবের দারিয়াপুর বাজারে ভৈরব নদের কোল ঘেঁষে আছে সাত বিঘা লিচুবাগান। ওই বাগানের মধ্যে তাঁর ছবিঘর। ভবিষ্যতে তিনি ওই জমিতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তুলতে চান পর্যটন কেন্দ্র।

 
মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চান্দু জানান, রাজিবের এই ফটো গ্যালারিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গ্যালারি হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
মুজিবনগরের দারিয়াপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেরামত আলী মালিথা বলেন, রাজিব ছোটবেলা থেকেই খেয়ালি প্রকৃতির। কোন অহংকার নেই তাঁর মনে। তাঁর ফটো গ্যালারি দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করে। রাজিব তাঁর স্কুলের ছাত্র, এতে তিনি গর্বিত।
জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ এ প্রসঙ্গে বলেন মুজিবনগরে যাওয়া আসার পথে রাজিবের ছবিতলায় দু‘দ- দাঁড়ালে অন্যজগতে হারিয়ে যায়। এভাবে হারাতে ভালো লাগে। অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার অনেক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করছে এই দারিয়াপুর। সেই দারিয়াপুর তার হারানো ঐতিহ্যের অনেকটাই ফিরে পাচ্ছে রাজিবের ফটো গ্যালারির কারণে।

 
রাজিবের বন্ধু নিশান সাবের জানান, মেহেরপুরের মুজিবনগরে সেক্টরভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসে। তারাও ফেরার পথে রাজিবের ফটো গ্যালারি ঘুরে যায়। ফলে দারিয়াপুর গ্রাম পরিচিতি পাচ্ছে দেশ বিদেশে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ