ব্রেকিং নিউজঃ

এবার সু চির খেতাব ফিরিয়ে নিল ‘ডাবলিন সিটি কাউন্সিল’  ***  রোনালদো-বেলের গোলে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ  ***  নেতাকর্মীদের নিয়ে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বেগম খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা  ***  ব্লগার নিলয় হত্যার প্রতিবেদন দাখিল ২৪ জানুয়ারি  ***  ঢাবির প্রশ্ন ফাঁসে রাবি ছাত্রসহ আটক ১০  ***  টেকনাফে রোহিঙ্গা শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে স্কুলসহ ২৫ দোকান পুড়ে ছাই  ***  জেরুজালেমকে ট্রাম্পের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : আব্বাস  ***  ঘন কুয়াশায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ  ***  মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা  ***  ট্রাম্পের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান, জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলো ওআইসি
Published: 3 months ago

মসজিদের পাশে তৈরি হচ্ছে দুর্গামূর্তি!



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:
মসজিদের পাশের জমিতে দাঁড়িয়ে দুর্গাপ্রতিমার চোখ আঁকছেন মৃৎশিল্পী তারক পাল। পাশে রঙের কৌটো নিয়ে দাঁড়িয়ে মসজিদ কমিটির সম্পাদক শেখ সালাউদ্দিন। মহালয়া দোরগোড়ায়। তাই তারকের পাশাপাশি নাওয়াখাওয়ার সময় নেই পড়শি শেখ জামশেদ, জহির আনোয়ার, শাহ আলম, মহম্মদ সাবিরদের। বৈদ্যবাটির শুঁড়িঘাট এলাকায় উৎসব সর্বজনীন।

শুঁড়িঘাট এলাকায় গঙ্গার পাড়েই ১০৭ বছরের পুরনো মসজিদ গরিব নওয়াজ। ওই মসজিদের পাশেই মূর্তি তৈরির স্টুডিও তারকের। মসজিদ কমিটির সম্পাদক সালাউদ্দিন তাঁর বাল্যবন্ধু। তারক জানান, তাঁকে সব রকমভাবে সাহায্য করেন মসজিদের কর্তৃপক্ষ। এলাকার মুসলিম বাসিন্দারা হাতেকলমে সাহায্য করেন প্রতিমা তৈরিতে। অন্যদিকে, তাঁরাও সামিল হন ঈদ বা মহরমে। কালীপুজোয় ভোগ খেতে একসঙ্গেই পাত পড়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের।

সালাউদ্দিনেরা চার পুরুষ ধরে বৈদ্যবাটির বাসিন্দা। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘এর মধ্যে আশ্চর্যের তো কিছু নেই! উৎসব তো সকলের। তাছাড়া, তারক দারুণ মূর্তি তৈরি করে। বছর দশেক আগে যখন বলল, মসজিদের পাশের জমিতে স্টুডিও তৈরি করবে, আমরা খুশিই হয়েছিলাম। ছোটবেলার বন্ধু, দিনভর আড্ডা দেওয়া যাবে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ওকে সবসময় সাহায্য করে শেখ জামশেদ। আমরা সকলেই হাতে হাতে সাহায্য করি। ওর কাজ মানে তো আমাদের সকলেরই কাজ।”

তারকের পরিবার বংশ পরম্পরায় মৃৎশিল্পী। তাঁর কথায়, ‘‘মসজিদ কমিটির লোকজন সাহায্য না করলে এত কাজ করতে পারতাম না। আমি, সালাউদ্দিন মিলেমিশেই বড় হয়েছি। একসঙ্গে ফুটবল খেলতাম। ইদানিং বিভিন্ন জায়গায় অনেক রকম কথা শোনা যাচ্ছে, কিন্তু এই এলাকায় কোনোরকম বিভেদ নেই।”

স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রতিবছর শ্রাবণী মেলার সময় ওই এলাকা উপচেপড়ে তীর্থযাত্রীদের ভিড়ে মুসলিম বাসিন্দারা মেডিক্যাল ক্যাম্প করেন তাঁদের জন্য। মহরমের যাত্রায় ধর্ম নির্বিশেষে অংশ নেন সকলে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মসজিদের উদ্যোগে জলসা হয়। সেই উদ্যোগে সামিল হন সকলেই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পাপ্পু দোলুই বলেন, ‘‘বাবরি মসজিদ নিয়ে বিতর্কের বছরে আমাদের আশেপাশের এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। কিন্তু এই অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিম হাতে হাত রেখে সম্প্রীতি বজায় রেখেছিলাম। গত কয়েক বছর ধরে নানা রকম উস্কানি আসছে। কিন্তু এই এলাকায় সুবিধা করতে পারবে না ওরা।” দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অনুরূপ মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘এত ধর্ম দেখার কী আছে! সব উৎসবেই থাকি আমরা।”

উত্তেজনার সংক্রমণের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখেন কীভাবে? সালাউদ্দিনের উত্তর, ‘‘এত জটিল করে ভাবার দরকার নেই। সকলের রক্তই তো লাল। বিপদে, আপদে একে অন্যের পাশে থাকলেই বিভেদের ভূত কাছে ঘেঁষবে না।” সূত্র: এবেলা।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে