ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 week ago

কলেজছাত্র মোমিন হত্যায় ২ জনের ফাঁসির রায় বহাল



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায়  দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া।

 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মোহাম্মদ জাফর, শরিফ উদ্দিন, মনির হাওলাদার, হাসিবুল হক ওরফে জনি, হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, ঠোঁট উঁচা বাবু। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শাখাওয়াত জুয়েল ও তারেক পলাতক। এছাড় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান ওরফে তাজ, ঠোঁট উঁচা বাবু ছাড়া বাকীরা পলাতক।

 

এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (০৭ ডিসেম্বর) রায় ঘোষণা করেন।

 

চাঞ্চল্যকর মামলাটিতে রাজধানীর মতিঝিল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত।

 

অবশ্য কারাবন্দি অবস্থায় প্রায় দুই বছর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান রফিকুল ইসলাম।আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও নির্মল কুমার দাস।

 

আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আইনজীবী এ কে এম তৌহিদুর এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে  রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।

 

রায়ের পরে বশির আহমেদ বলেন, আদালত ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করেছেন। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখেছেন।

 

২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র ও  জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক মোমিনকে তাদের উত্তর ইব্রাহিপুর বাসার কাছে কলেজে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। বাড়ির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওসি রফিক সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযোগ করে কাফরুল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন  মোমিনের বাবা আবদুর রাজ্জাক (প্রয়াত)। মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি এ কে এম রফিকুল ইসলামসহ ২৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।

 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, মতিঝিল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম রফিকুল ইসলাম এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর মারা যান। এ কারণে মামলাটি বহুল আলোচিত। ২০০৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর খুন হন কলেজছাত্র মোমিন। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

 

এ মামলায় ওসি রফিককে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালের ১৩ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর বিরুদ্ধে বাদী নারাজি আবেদন দিলে ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেন আদালত। ডিবিও তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে ২০০৮ সালের ২ মার্চ অভিযোগপত্র দেয়। এরপর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর দেওয়া এ তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ওই বছরের ১১ নভেম্বর এ অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। এরপর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩-এ ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৪-এ স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে ওসি রফিকের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১১ সালের ২ জানুয়ারি।

 

পরে একই আদালতেই মামলার শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২০ জুলাই রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ওসি রফিকসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাবিবুর রহমান তাজসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

 

এরপর  নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসি অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল করেন। এ আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর ১২ নভেম্বর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম