ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 7 months ago

উৎকণ্ঠায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

আপন জুয়েলার্সের শোরুমে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর অভিযান চালানোর পর থেকে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে রাজধানীর সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাঝে। হঠাৎ করে সামগ্রিক ব্যবসায় অতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বায়তুল মোকাররম মার্কেটের  স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বায়তুল মোকাররমে আপন জুয়েলার্সের শো রুমের পাশেই অবস্থিত সানন্দা জুয়েলার্সের সিনিয়র বিক্রয় জানান, একটি মার্কেটের এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও তার প্রভাব পড়ে। পুরো ব্যবসায় এক ধরনের ইমেজ সংকট তৈরি হয়।। ফলে এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের বড় ছেলে সাফাতের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে বনানী থানায় একটি মামলা হয় শনিবার। এই মামলার আসামিরা হলেন সাফাত এবং তার বন্ধু, বাকি দুজন তার দেহরক্ষী ও গাড়িচালক।

আপন জুয়েলার্স নামে ওই জুয়েলারিটিতে বিপুল পরিমাণ সোনা এবং হীরা মজুদ কোথা থেকে এলো সে ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দিতে না পারার অভিযোগে আপন জুয়েলার্স এর মালিকদের আগামী ১৭ই মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। সিলগালা করে দেয়া হয়েছে আপন জুয়েলার্স এর একটি বিক্রয়কেন্দ্র।

দিলদার আহমেদ ছেলের পক্ষে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার পর ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে সরব হন অনেকে। আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে দিলদার আহমেদের ব্যবসায়িক লেনদেন এবং তার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে বলে জানান শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশের কোনো ব্যবসায়ী এলসি খুলে বাণিজ্যিকভাবে এক তোলা স্বর্ণও আমদানি করেননি। অথচ রাজধানীর বড় স্বর্ণের দোকানগুলোতে শত শত কেজি স্বর্ণ রয়েছে। এ সব স্বর্ণের বেশিরভাগই চোরাপথে দেশে আনা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, আপন জুয়েলার্সে অভিযানের পর বায়তুল মোকাররম, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, সীমান্ত স্কয়ারসহ রাজধানীর কয়েকটি স্বর্ণের মার্কেটের বড় বড় শোরুম থেকে অলঙ্কার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। শোরুমের অনেক তাক এখন খালি।

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) সাবেক সভাপতি দীলিপ রায় বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সে অভিযানের কারণে আমাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীরা কখনই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নন। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র বাংলাদেশকে স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। সে জন্য এখানে বেশি বেশি ধরা পড়ছে।’ আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এ খাতের জন্য একটি নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়ে আসছি এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা করা হলে নিবন্ধিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী স্বর্ণ আমদানি করা যাবে। এর বাইরে বিকল্প হিসেবে সরকার আমদানি করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দিতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভুল নীতির কারণে দেশি স্বর্ণালঙ্কার শিল্প ধুঁকে ধুঁকে মরছে। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে এ খাতের জন্য আলাদা নীতিমালা করা দরকার।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচঅার