ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যালোচনা: নিয়োগকর্তার মামলা কী শুনবেন বিচারপতি?



টিএ:

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে বিচারকদের আচরণবিধি তুলে ধরা হয়েছে। আচরণবিধিতে বিচারকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মানদণ্ড কেমন হবে, কোন সচেতন থাকবেন, কি ধরনের আচরণ পরিহার করতে হবে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সতর্ক থাকতে হবে- এসবের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে নিজের নিয়োগকর্তার মামলা কি শুনবেন নাকি নিজেকে গুটিয়ে নিবেন এ বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়নি।

সংবিধান অনুসারে বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পেশায় আইনজীবী হলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আইন পেশায় ফিরে আসতে পারেন। প্রশ্ন হচ্ছে নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতি তাঁর নিয়োগ দেয়া বিচারপতির আদালতে পরবর্তীতে কোনো মামলা নিয়ে গেলে তা সংশ্লিষ্ট বিচারপতি শুনবেন নাকি মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবেন?

ঘোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে বিচারকদের আচরণবিধি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বিচারকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মানদণ্ড কেমন হবে, কোন কোন বিষয়ে তাঁরা সচেতন থাকবেন, কোন ধরনের আচরণ তাঁদের পরিহার করতে হবে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কোন কোন বিষয়ে তাঁদের সতর্ক থাকতে হবে- এসবের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো বিষয়ে সুনির্দ্দিষ্ট উদাহরণও দেয়া হয়েছে রায়ে।

৩৯ দফার এই আচরণ বিধিতে বলা হয়েছে: একজন বিচারকের স্ত্রী, স্বামী, ছেলে, মেয়ে, শ্যালক, শ্যালিকা বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন, যাঁরা আইনজীবী সমিতিতে অনুশীলন করেন, তাঁদের কাউকে তাঁর আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি ওই বিচারক দেবেন না। অথচ নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতি পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবে তাঁর আদালতে মামলা নিয়ে গেলে বিচারকের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি আচরণবিধিতে।

বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়া সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পর এ নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের অনেকেই এর সমালোচনা করেছিলেন। সমালোচনায় তাঁরা বলেছিলেন, সংসদ সদস্যরা যদি বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পান, তবে তাঁদের মধ্যে যাঁরা আইন পেশায় জড়িত, সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় তাঁদের আইন পেশার সঙ্গে জড়িত থাকার পথ বন্ধ থাকা উচিত। তা না হলে ‘অপসারণের ক্ষমতাপ্রাপ্তের’ মামলায় বিচারকের নিরপেক্ষতা হারানোর বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঝুঁকি আছে। এই প্রসঙ্গে এই কথাও উঠেছিল যে, নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতির মামলা সংশ্লিষ্ট বিচারক যেন শুনতে না পারেন সে পথও বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ এতেও বিচারকের নিরপেক্ষতা হারানোর বা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঝুঁকি আছে। পরে অবশ্য মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এই আলোচনা থেমে যায় এবং আপিল বিভাগের রায়ে আচরণবিধি সংযুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা আবার সামনে আসে।

উদাহরণ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের অনেকেই বলছেন, হাইকোর্ট বিভাগের এক থেকে পাঁচ নম্বর ক্রমিকে থাকা বিচারপতিদের চার জনকেই নিয়োগ দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে তিনি ‘রাষ্ট্রপতির দায়িত্বপ্রাপ্ত’ ছিলেন। দায়িত্ব নেয়ার ৩৮ দিন পর ২৯ জুলাই নিয়োগগুলো দেন তিনি। ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আড়াই মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন জমিরউদ্দিন সরকার। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে আবার তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় ফিরে আসেন।

আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, যদি যৌক্তিক কারণে কোনো মামলায় বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ওই বিচারক নিজেকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে নেবেন। এ প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, আচরণবিধিতে পরোক্ষভাবে থাকলেও প্রত্যক্ষভাবেই এই বিষয়ে নির্দেশনা থাকলে ভালো হতো। কারণ ভবিষ্যতেও কোন সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন পেশায় ফিরে আসতে পারেন এবং এ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে