ব্রেকিং নিউজঃ

আইন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্থগিত  ***  পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, আহত ১৫  ***  অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি  ***  নায়করাজের জানাযা হবে একবারই  ***  নায়করাজের মরদেহ আজ নেওয়া হবে শহীদ মিনারে  ***  রাজধানীতে তিন ঘণ্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি  ***  পাবনায় দুই বাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত  ***  সাত খুন মামলা: হাইকোর্টের রায় পড়া শুরু  ***  বাংলা চলচ্ছি্ত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় তার মরদেহ কেন্দীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে :সকালে এফডিসিতে মরদেহ নেওয়া হতে পারে,বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা, দাফন বনানী কবরস্থানে।  ***  নায়করাজ রাজ্জাকের জানাজা মঙ্গলবার বাদ জোহর
Published: 2 weeks ago

প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান নায়ক সালমান শাহের মা



বিনোদন ডেস্ক:


জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে এমন দাবি করে রাবেয়া সুলতানা রুবি নামে আমেরিবা প্রবাসী এক বাংলাদেশি অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা ছেড়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী। চীনাদেরকে দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এরই মধ্যে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে তিনি সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে কাতর কণ্ঠে বলেন, এই খুনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন। বিষয়টি যেভাবেই হোক, আবার যেন তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি যেভাবেই পারেন আদালতে সাক্ষী দেবেন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা রহস্য উন্মোচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়েছেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরী। সোমবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

সালমান শাহ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির প্রকাশিত স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওবার্তাটি দেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তার অনুরোধ করেন নীলা চৌধুরী।

ফেসবুকে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একজন সর্বশান্ত জননী আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একবার ভিডিওটি দেখুন (সুলতানা রুবির ভিডিওবার্তা)। ইমনের (সালমান শাহ) বিচার হলেও আমি আর কোনোদিন ইমনকে পাব না। কিন্তু আপনার সরকার কলঙ্কমুক্ত হবে। আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন, আপনিও আমাকে সাহায্য করুন সত্য উদঘাটনে। আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’

এর আগে সালমান শাহের ভক্ত, অনুরাগী ও দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে তিনি ফেসবুকে বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আমাকে সাহায্য করুন। দেখুন, রুবি সুলতানার স্বীকারোক্তি। কিভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে পারেন এফবিআইকে জানান, বাংলাদেশের সকল চ্যানেলকে অনুরোধ করছি রুবির স্বীকারোক্তিটা চালিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয়জন খেয়াল রাখবেন এই নিউজের পর অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। শান্তভাবে কাজ করবে।’

সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে দিকেও দৃষ্টি রাখতে অনুরোধ করেন তিনি।

সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য নিয়ে নতুন করে জটলা বাঁধে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির প্রকাশ করা এক ভিডিওবার্তায়। সোমবার সকাল থেকেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

বিগত দুই দশকে সালমান শাহের অকালে চলে যাওয়া নিয়ে নানান প্রশ্নের জবাব না মিললেও হঠাৎ করেই বিষয়টি নিয়ে ভিডিওবার্তায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও তার একসময়ের বিউটিশিয়ান রুবি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সালমান শাহের পরিবার ও দেশজুড়ে থাকা তার অগণিত ভক্ত নতুন করে বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।


ভিডিওবার্তায় যা বলেছেন রুবি:
দুই মিনির ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তায় রাবেয়া সুলতানা রুবি অনেক কথাই বলেছেন। রুবি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী যিনি চীনা নাগরিক চ্যান লিং চ্যান ওরফে জন চ্যান নামে বাংলাদেশে পরিচিত। ধানমন্ডির সাংহাই রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি। চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও। এই খুনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন। বিষয়টি যেভাবেই হোক, আবার যেন তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি যেভাবেই পারেন আদালতে সাক্ষী দেবেন।

রুবির ভিডিও বার্তা নিয়ে যা বললেন সালমান শাহের মা:

রুবি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী যিনি চীনা নাগরিক চ্যান লিং চ্যান ওরফে জন চ্যান নামে বাংলাদেশে পরিচিত। ধানমন্ডির সাংহাই রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি।

ভিডিও বার্তায় ওই নারি আরও দাবি করেছেন, চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এরই মধ্যে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এতে তিনি সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে কাতর কণ্ঠে বলেন, এই খুনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন। বিষয়টি যেভাবেই হোক আবার যেন তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি যেভাবেই পারেন আদালতে সাক্ষী দেবেন।

এ ভিডিওটি নজরে এসেছে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর। তিনি এখন লন্ডনে সালমানের ছোট ভাই শাহরানের কাছে। সেখান থেকেই সালমান শাহের মা নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী। আমাকে সাহায্য করুন। দেখুন, রুবি সুলতানার স্বীকারোক্তি। কীভাবে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। যেভাবে পারেন এফবিআইকে জানান, বাংলাদেশের সকল চ্যানেলকে অনুরোধ করছি রুবির স্বীকারোক্তিটা চালিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয়জন, খেয়াল রাখবেন এই নিউজের পর অনেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। শান্তভাবে কাজ করবে।’ এরপর তিনি সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সে দিকেও নজর দিতে অনুরোধ করেন।

রুবি চৌধুরী এখন পেনসিলভানিয়ায়। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ‘জীবন হারানোর আশঙ্কায় আছেন তিনি। তিনিই নাকি একমাত্র জীবিত মানুষ যার কাছে প্রমাণ আছে সালমানকে খুন করা হয়েছে। তাই তাকেও মেরে ফেলা হতে পারে। কেন খুন করা হতে পারে রুবিকে? তার ভাষ্যে, ‘কারণ আবার (সালমানের মৃত্যু রহস্য) কেস ওপেন হইছে।’

রুবির ভিডিও বার্তা দেখে তার কাছে ফোন নাম্বার চেয়ে নীলা চৌধুরী ফেসবুকে লেখেন, ‘রুবি তুমি এতো কথা বলতে পারছ তাহলে এফবিআই বা আমেরিকার পুলিশকে জানাতে পারছ না কেন, তারা যাতে তোমাকে নিরাপদে রাখে। তোমার ফোন নাম্বার দাও।’


কোথায় আছেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরা?

১৯৯৬ সালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ঢালিউডের সাড়াজাগানো নায়ক সালমান শাহ’র। অনেকেরই ধারণা তার স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার মিলে সালমানকে হত্যা করেছে।

সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী রুবিও দাবি করেছেন, সামিরাই স্বামী সালমানকে হত্যা করিয়েছে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে মা নীলা চৌধুরীর বান্ধবীর মেয়ে সামিরাকে বিয়ে করেন সালমান শাহ্‌। সামিরার বাবা জাতীয় দলের প্রাক্তন উইকেটকিপার-অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা। মা থাইল্যান্ডের নাগরিক চট্টগ্রামের বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী লুসি।

সালমানের মৃত্যুর পর তার সামিরা আড়ালে চলে যান। সালমানের মৃত্যুর কয়েক বছর পর ব্যবসায়ী মুস্তাক ওয়াইজকে বিয়ে করেন সামিরা। দ্বিতীয় বিয়ের পর দেশ ছেড়ে চলে যান থাইল্যান্ড। সেখানে সামিরার নতুন সংসারে একটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।

থাইল্যান্ডে সামিরার ছোট দুই বোন ফাহরিয়া হক ও হুনায়জা শেখ তাদের স্বামী সন্তান নিয়ে বাস করেন। সামিরা বাংলাদেশে তেমন আসেন না বললেই চলে।


রুবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পিবিআই:

নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি, তাকে খুন করা হয়েছে- দাবি করে অনলাইনে ভিডিওবার্তা প্রকাশ করে আলোচনায় আসা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনস (পিবিআই)।

রুবি পেশায় ছিলেন বিউটিশিয়ান, তিনি সালমান শাহ’র রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ৭ নম্বর আসামি। সোমবার তার প্রকাশিত ভাইরাল হয়ে পড়া ভিডিওবার্তার তথ্যকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে পিবিআই।

পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুবি ছিলেন সালমান শাহ’র বিউটিশিয়ান। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছে। রুবির সঙ্গে আমরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তিনি দেশে নেই। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে।’

আলোচিত এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সালমান শাহ হত্যা মামলাটি কয়েক পর্যায়ে তদন্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি পিবিআই তদন্ত করছে। অনেক আলামতও নষ্ট হয়েছে। যে কারণে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।’

সালমান শাহ খুনের তথ্য : কে এই রুবি?

ঢাকাই ছবির অমর নায়ক সালমান শাহ। তার স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে অভাবনীয় সাফল্য যেমন গল্প হয়ে আছে ইন্ডাস্ট্রিতে, তেমনি তার অকাল মৃত্যুও রহস্যের মিথ হয়ে আছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসভবনের শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সালমানের মরদেহ। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করলে তাতে আপত্তি জানায় পরিবার। এরপর সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইসহ ১১ জনকে সালমান শাহের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে হত্যা মামলা করে সালমান শাহের পরিবার।

অন্য অভিযুক্তরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগম।

এই খুন ও মামলা নিয়ে গত ২১ বছর ধরেই জিইয়ে আছে রহস্য। এখনো নিশ্চিত হওয়া গেল না সত্যি সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে খুন করা হয়েছিল। এরই মধ্যে সম্প্রতি ফেসবুকে এক ভিডিও প্রকাশ করে সালমানের মৃত্যুর রহস্যের নতুন মোড় সৃষ্টি করেন আমেরিকা প্রবাসী নারী রাবেয়া সুলতানা রুবি। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। তাকে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত সালমানের স্ত্রী ও তার বাড়ির লোকজন। খুনের সঙ্গে আরও জড়িত রুবির ছোট ভাই ও তার স্বামী।

ভিডিও বার্তায় রুবি অনুরোধ করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে, তিনি যেন সালমান খুনের মামলাটি পুনরায় তদন্তের ব্যবস্থা করেন। রুবি নিজে এই খুনের সাক্ষ্য দেবেন।

এরই মধ্যে এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে অনলাইনে। সালমান ভক্তরা নিজেদের ওয়ালে ভিডিওটি শেয়ার করে সালমানের মৃৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন করতে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি আলোচিত হচ্ছে ভিডিও প্রকাশকারী রাবেয়া সুলতানা রুবির নাম। সবাই জানতে চাইছেন কে এই রুবি? কেন এতদিন পর তিনি এভাবে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই রুবি সালমান খুনের মামলার ৭ নম্বর আসামি। রাবেয়া সুলতানা ওরফে রুবি থাকতেন সালমানের ফ্ল্যাটে অর্থাৎ ইস্কাটন প্লাজার উত্তর পাশের ভবনে। তিনি রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রশিদের মেয়ে। প্রয়াত ক্যাপ্টেন জামিল ছিলেন তার স্বামী।

জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর যে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয় তার স্বামী ছিলেন তাদের একজন। বর্তমানে এক চাইনিজের সঙ্গে সংসার করছেন। ক্যাপ্টেন জামিলের সংসারে জন্ম নেয়া পুত্র ভিকিকে নিয়ে ৩১ বছর আগে তিনি এই চাইনিজকে বিয়ে করেন। সালমানের মৃত্যুর পর বেশ কয়েক বছর পর তিনি আমেরিকায় পাড়ি দেন। সেখানেই স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস করছেন তিনি। ঢাকায় তিনি মে-ফেরার নামক একটি বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

তার স্বামী চীনা নাগরিক, সাংহাই রেস্টুরেন্টের মালিক জন চেন রুবির ভাই রুমিকে দিয়ে সালমানকে খুন করিয়েছেন। সেই রুমিকেও পরে খুন করা হয়েছে। আর এখন সালমান হত্যা মামলার সর্বশেষ প্রত্যক্ষদর্শী রুবিকেও খুন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে জন চেন। নিজের ও নিজের সন্তানের ওপর মৃত্যুর ছায়া নেমে আসার পর অবশেষে সালমান খুনের ঘটনা স্বীকার করলেন রুবি। এমনকি সালমানের মা নীলা চৌধুরীর কাছেও সাহায্য চেয়েছেন তিনি এই ভিডিও দিয়ে।

রুবিকে নিয়ে বিতর্ক বহু আগে থেকেই। তিনি ছিলেন সালমানের মায়ের কাছের বান্ধবী। তবে সবকিছুতেই নাক গলানো স্বভাবের এই নারীকে পছন্দ করতেন না সালমান। একবার স্ত্রী সামিরার সঙ্গে ঝগড়ার সময় সেখানে গিয়েও নাক গলান রুবি। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আর কখনো বাসায় না আসতে নির্দেশ দেন সালমান শাহ।

এই অপমান তিনি হজম করতে পারেননি। এই সূত্র ধরে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গেও দূরত্ব বাড়ে রুবির। চলতে থাকে মন কষাকষি। সালমানের মায়ের অভিযোগ, এর কথা ওর কানে, ওর কথা এর কানে লাগিয়েছেন রুবি। উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে মানুষজনকে বিভ্রান্ত করাতে তার খ্যাতি আছে। এ কাজে তিনি বরাবরই সিদ্ধহস্ত। তার ইচ্ছা ছিল আমেরিকা পড়ুয়া ছোট ভাইর জন্য সামিরাকে স্ত্রী করে ঘরে তুলবেন। সেই স্বপ্ন মিথ্যা হয়ে হয়ে গেল সালমান-সামিরার বিয়েতে।

সুপন রায়ের ‘সাংবাদিক ও সালমান শাহ’র অজানা কথা’ বইতে উল্লেখ আছে, সুস্পষ্ট অভিযোগ আছে, সালমান-সামিরার দাস্পত্য কলহের পশ্চাতে রাবেয়া সুলতানা রুবির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। সালমানকে তিনি দেখে নেবেন, এরকম কথাও বলেছেন অনেকের কাছে। জাদুশিল্পী আজরা জ্যাবিনের কাছে এই রুবি বলেছিলেন, ‘সালমানের সব টাকা তার মা নিয়ে যাচ্ছে সামিরার কি হবে? এবং এ অভিযোগটি করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তার ভাষ্য, আমার ছেলের টাকা আমি নিলাম না তার বাবা নিল- এসব নিয়ে রুবির মাথাব্যথা কেন? রুবি কে, যে আমার সংসার জীবনে হস্তক্ষেপ করবে?’

সালমানের মৃত্যু দিন ছিল প্রশ্ন সাপেক্ষ। তার ভূমিকা নিয়েও পত্রপত্রিকাসহ নীলা চৌধুরী অভিযোগ করেছেন। সালমানের মরদেহ একপাশ রেখে রুবি-সামিরা বসে গল্প করার অভিযোগও সুস্পষ্টভাবে কথিত আছে। এই প্রশ্নগুলো যখন লোকমুখে ঠিক তখনই এ প্রতিবেদকের সাথে সরাসরি দেখা করতে আসেন রুবি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে একে একে উত্তর দেন সব প্রশ্নের, খন্ডান যুক্তি। অথচ ও আগে বারদুয়েক তার পার্লারে দেখা করতে গেলে বলা হয়, তিনি পার্লারে নেই, বাইরে আছেন।

রুবি বলেন, ‘ইমনের (সালমান শাহ) আত্মহত্যার খবর শুনে সাথে আমার ছেলে ভিকি, পার্লারের মেয়েরা। ফ্ল্যাটে ঢোকার মুহুতেই দেখলাম- ধরাধরি করে ইমনকে বের করে আনা হচ্ছে। আমি ভাবলাম, স্লিপিং পিল খেয়েছে, ষ্টমাক ওয়াশের জন্যে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ভিতরে ঢুকে দেখি ডাইনিং টেবিল-কিচেনের মাঝামাঝি মেঝেতে সামিরা বসা। কাঁদছে। আমাকে দেখেই ও দৌড়ে এলো। ওকে সান্ত্বনা দেয়ার সময় ৮১ সালের ঘটনা মনে পড়ে গেলো। আমি বুঝতে পারছিলাম ওর ভেতরে তোলপাড় করা অবস্থা। টের পেলাম সুইটি ভাবী, ইয়াসমিন তখনো দাঁড়িয়ে। একটু পরেই ইমনের মা (নীলা চৌধুরী) এসে বললো, ‘ দরজা বন্ধ কর, কাউকে ঢুকতে দেবে না। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। তিনি সামিরাকে বলে উঠবেন, ‘ সামিরা কাইন্দো না, তুমিই ইমনকে মেরেছ’।

তখন সামিরা হিষ্টিরিয়া রোগীর মতো বলে উঠলো, ‘ আমি কেমন করে আপনার ছেলেকে মারলাম।’ তখনো হীরা ভাইকে (সামিরার বাবা) জানানো হয়নি ইমনের খবর। সুইটি ভাবীর বাসায় গিয়ে ফোনে চট্টগ্রামে হীরা ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। কিছুক্ষণ পরে ফ্ল্যাটের ম্যানেজার ডাক্তার নিয়ে এসেন। ডাক্তার কিছু না বলেই চলে গেলেন। আমি স্লাভো ক্লিনিক গিয়ে জিজ্জেস করাতে তিনি বললেন, সালমান মৃত। আমি উল্লেটা প্রশ্ন করলাম, আপনি নিশ্চিত? ডাক্তার সম্মতি জানাতেই, ভালো হলো না, বলে চলে এলাম। সাথে আমার ছেলে ভিকি। এসেই সামিরা, সালমান মহসীন (সুইটি ভাবির বর) ভাইকে জানালাম ইমন মারা গেছে।

কিছুক্ষণ পর ফ্ল্যাট থেকে ফোন করলাম এক উর্ধবতন পুলিশ কর্মকর্তাকে। বললাম পুরো ঘটনা। ও অবস্থায় সামিরাকে নেবো প্রশ্ন করাতেই তিনি বললেন, ‘আপনি ভুলেও এ কাজ করবেন না। জড়িত হয়ে পড়বেন। সামিরা তখন আমাকে বললো, ‘ইমন একটা চিঠি লিখে গেছে। আমি বললাম, কোথায় সেটা? সামিরা বললো, ‘আবুলের হাতে।’ আমি তখন তাকে বললাম, ‘তুমি কি একটা বুদ্ধু মেয়ে? তুমি জানো এ চিঠির মূল্য কতো? এরপর ১/বি-র রুমির আব্বা এসে সামিরাকে ওনার ফ্ল্যাটের নিয়ে যান। আমি আমার বাসায় চলে যাই। আমি বুঝতে পারছি না আমাকে কেন ইমনের আত্মহত্যার সাথে জড়ানো হচ্ছে। গত অক্টোবর ’৯৫ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সামিরার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। ফ্ল্যাটের দারোয়ানই তার প্রমাণ।’

সুপন রায় তার বইতে উল্লেখ করেছেন, রুবির দেয়া ব্যাখ্যাই যে সর্বাংশে সত্যি তারও যথাযথ প্রমাণ নেই। তথাকথিত আত্মহত্যার পর রশি কেটে নামানোর পর সালমানের গায়ে তেল মালিশ করার সময় রুবি যে উপস্থিত ছিলেন সেটা সামিরা নিজেই বলেছেন। পত্রিকার পাতা ওল্টালেই তার প্রমাণ মিলবে। রুবি বলেছেন, সালমানকে ধরাধরি করে ডাক্তারের কাছে নেয়ার পরেই তিনি ফ্ল্যাট ঢোকেন। অথচ নীলা চৌধুরী তাকে ফ্ল্যাটে ঢুকেই দেখতে পান।

ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, ‘কাজটা ভালো হলো না’ বলা, উর্ধবতন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অতি উৎসাহী আলাপনে রুবির স্ববিরোধিতা প্রকাশ পেয়েছে, বুদ্ধিমতি হলেও তিনি তা বুঝে উঠতে পারেননি। সালমানের লিখে যাওয়া চিঠি আবিস্কারের সাথে তার নাটকীয় সম্পর্ক তাকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ফ্ল্যাটে তিনি এক বছর ধরে যান না এবং ফ্ল্যাটের রেজিষ্ট্রার বই তার প্রমাণ বলে যে বক্তব্য রেখেছেন তাতেও অসত্য লুকিয়ে আছে। ইস্কাটন প্লাজায় ঢুকতে যে তার সই করতে হয় না কিংবা রিসেপশন থেকে ইন্টারকমের মাধ্যমে সম্মতি নিতে হয় না এ কথা ফ্ল্যাটের সবাই জানে। ফ্ল্যাটের কর্মচারীদের কাছে ‘তথাকথিত আন্টি’ নামে পরিচিত ছিলেন এই রুবি।

রাবেয়া সুলতানা রুবি ওসামা বিন লাদেনের মতো গর্তে থেকে সালমান শাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন সময় নানা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি ফেসবুকে সালমান শাহ’র মৃত্যু নিয়ে নানা মিথ্যা কথাও প্রচার করছেন। সালমানের মা নীলা চৌধুরীকে কটাক্ষ করে অনেক কথা বলেছেন। সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন এমন কথা খুব জোর দিয়েই তিনি বলে যাচ্ছেন। অথচ সালমান শাহ হত্যা মামলা এখনো পিবিআই পুনঃতদন্ত করছেন!

সালমানের স্ত্রী সামিরার সঙ্গেও রুবির নিয়মিত যোগাযোগ আছে বলে দাবি সালমানের মা নীলা চৌধুরীর। কিন্তু নানা ভিডিও বার্তায় এই দাবিকে পাগলের প্রলাপ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রুবি।

তবে নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন রাবেয়া সুলতানা রুবি। তার ভিডিও থেকে প্রাপ্ত তথ্য সালমান খুনে নতুন মোড় আনবে বলে প্রত্যাশা চলচ্চিত্রের মানুষ ও সালমান ভক্তেদের। তাছাড়া সবসময় সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা এই নারী কেন হঠাৎ করেই এটিকে খুন বলে দাবি করলেন সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। রুবিকে বাংলাদেশে এনে তার সাক্ষ গ্রহণ করে সঠিক ব্যবস্থা নিতে সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে সবাই।

সেইসঙ্গে ভিডিও বার্তায় রুবি নিজের ও তার পুত্র ভিকির জীবন হানির আশংকার কথাও বলেছেন। সেদিক বিবেচনা করে রুবিকে নিরাপদে দেশে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকারকে মনযোগী হওয়ারও অনুরোধ করছেন সবাই।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর। রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় সে সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহের মা নীলুফার চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

পরে ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলুফার চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন।

নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) তদন্তভার প্রদান করেন।

মামলাটিতে র‌্যাবকে তদন্ত দেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র্যা ব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন। ঘটনার ২০ বছর পর আলোচিত ওই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে।
http://

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম