ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

রপ্তানি পণ্য তালিকায় সাতক্ষীরার কাঁকড়া



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কাঁকড়া দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ক্রমেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে। গত বছরও সাতক্ষীরা থেকে রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার’ এক’শ মেট্রিক টন কাঁকড়া। চলতি বছেরে তিন হাজার তিন’শ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

 
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়, লাভ বেশি ও রোগবালাই কম হওয়ায় সাতক্ষীরায় ক্রমেই বাড়ছে কাকড়া উৎপাদনকারীর সংখ্যা। বাড়ছে খামারের সংখ্যাও।

 
তবে, বাচ্চা কাকড়া পাচার রোধ ও জেলায় একটি কাকড়া প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় প্রভূত পরিমান বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 


সূত্র জানায়, জেলায় ১ হাজার ২৬৪টি খামারে প্রায় ১ হাজার ৫০ মেট্রিক টন কাকড়া উৎপাদিত হয়। জেলার ৩০ হাজার ২৫০টি চিংড়ি ঘের থেকে ৯৪০ মেট্রিক টন কাকড়া আহরণ হয়। এছাড়া সুন্দরবন-নদ-নদী-খাল থেকে আহরণ হয় আরো এক হাজার ১০ মেট্রিক টন কাকড়া। যার সবটাই রপ্তানিযোগ্য। এসব কাকড়া ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠেছে ৮৩টি ডিপো। এ জেলার প্রায় ১৪ হাজার মানুষ বর্তমানে কাকড়া উৎপাদন করে জীবিকা নির্ভর করছেন।

 
এদিকে, এ খাতে নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে কাকড়া মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে ছোট প্লাস্টিকের কেসে (বাক্স) কাকড়া রেখে দু’তিন সপ্তাহ পরিচর্চা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মোটাতাজা (ফ্যাটেনিং) করা কাকড়া সাতক্ষীরা থেকে চলে যাচ্ছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

 

 

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলার কলবাড়ি গ্রামের কাকড়া চাষী বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে কাকড়া উৎপাদনে বেশ লাভ হয়। এছাড়া চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের ঘেরে ভাইরাসজনিত কারণে সর্বদাই চিহ্নিত থাকতে হয়, কিন্তু কাকড়া চাষে এই চিন্তা নেই বললেই চলে।

 

 

 

 
তিনি আরো বলেন, একদিকে অনেকেই কাকড়া উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছেন, অন্যদিকে সুন্দরবন থেকে বাচ্চা কাকড়া আহরণ কমছে, এতে বাচ্চা সংকট দেখা দিতে পারে। এজন্য খুব দ্রুত এ এলাকায় একটি কাকড়া প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন জরুরী। একই সাথে যাতে বাংলাদেশ থেকে কাকড়ার বাচ্চা পাচার হয়ে না যায়- সেদিকেও খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

 
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার শহিদুল ইসলাম সরকার জানান, দেশের মোট রপ্তানিকৃত কাকড়ার এক-তৃতীয়াংশ সাতক্ষীরা থেকে রপ্তানি হয়। জেলায় ক্রমেই কাকড়া চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ৬৪.৬ হেক্টর জমিতে কাকড়া চাষ হয়েছে।

 

 

গত বছরের তুলনায় এ বছর আনুমানিক ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে কাকড়া মোটাতাজাকরন করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারিভাবেও কাকড়া মোটাতাজাকরণের ৬০ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, আশা করা যাচ্ছে আগামীতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে সাতক্ষীরায় উৎপাদিত কাকড়া অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ