ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

দেশের উন্নয়নে কর্ম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান



রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের চর্চা ও বুদ্ধের মহান আদর্শকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কর্মপ্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

১০ মে বুধবার বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠানাদি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছে। এটা বাংলাদেশের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য।

আবদুল হামিদ বলেন, বুদ্ধ পূর্ণিমার সাথে মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও মহাপরিনির্বাণ গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মহামতি বুদ্ধ ছিলেন জীবের মঙ্গল কামনায় সত্যসন্ধ। পৃথিবীকে সুখী ও শান্তিপূর্ণ করে গড়ে তোলার জন্য তিনি নিরন্তর প্রয়াস চালান। বুদ্ধের চেতনায় ছিল দুঃখ জয়ের মাধ্যমে জীবের মুক্তি কামনা। ‘চতুরার্য সত্য’ তত্ত্বে তিনি জীবনে দুঃখ, দুঃখের উৎপত্তি, দুঃখ ভোগের কারণ এবং তা থেকে মুক্তির পথ দেখান। তাঁর মতে ‘নির্বাণ’ লাভের মাধ্যমে মানুষ জীবনের পরমার্থ অর্জন এবং সকল প্রকার দুঃখ থেকে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে।

তিনি বলেন, এজন্য তিনি অষ্টমার্গ তথা প্রজ্ঞা, শীল ও সমাধি চর্চার উপদেশ দেন। তিনি স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে ওঠে পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ ও সুখ কামনা করেন। ‘সব্বে সত্তা সখীতা হোন্তু’-পৃথিবীর সকল প্রাণি সুখী হোক, এ ছিল বুদ্ধের শাশ্বত দর্শন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজো সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রাচীনকাল থেকে বাংলার জনপদের সাথে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস ও কৃষ্টি গভীরভাবে মিশে আছে। পাহাড়পুর ও ময়নামতি শালবন বিহার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে