ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

গণমাধ্যম পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে: প্রধানমন্ত্রী



নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই এটা ঠিক নয়। পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে বাংলাদেশের মানুষ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হয়েছে।

সোমবার রাতে সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ দেশে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বাধীনতা রয়েছে, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রয়েছে। তবে স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে দায়িত্বশীল হতে হবে। একজনের যেটা অধিকার, আরেকজনের জন্য সেটা দায়িত্ব। কারো অধিকার ক্ষুণ্ণ করার নাম স্বাধীনতা নয়। স্বাধীনতা যদি কেউ ভোগ করতে চায়, তাহলে তাকে সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই করতে হবে। এটাই বাস্তবতা।’ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন ৩৪টি টেলিভিশন, ৭৫০টি দৈনিক পত্রিকা রয়েছে। অথচ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এ দেশে নাকি মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে বসে টকশোতে দিন-রাত সরকারের বিরুদ্ধে সমানে কথা বলা হচ্ছে।’

সংসদ নেতা বলেন, কেউ যদি হলুদ সাংবাদিকতা করে, অসত্য তথ্য দেয়, কারো যদি চরিত্র হরণ করা হয়, নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরও অধিকার রয়েছে, সে মিথ্যাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করার। কিন্তু এখানে কেউ যদি বলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, তা ঠিক নয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে প্রধান বিচারপতির সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না, তিনি কীভাবে এটা বললেন, এ দেশে আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে বলেই একজন নেত্রীর মামলায় ১৪০ দিন সময় দিয়েছে আদালত। আমাদের যদি এ ধরনের মানসিকতা থাকত তাহলে এটা দিতে পারত না। একই মামলায় যদি ৪০ বা ৫০ বার রিট হয় এবং তা যদি গৃহীত হয়, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই কোথায়। স্বাধীনতা না থাকলে এটা হতো না। এটাই বড় দৃষ্টান্ত। আর যাঁরা এ সুযোগ নিচ্ছেন, তাঁরাও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ধরলেই বিএনপি নেত্রী তাদের জন্য মায়াকান্না করেন। এর সঙ্গে যোগসূত্র কী। বিএনপির সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক কোথায়? অবশ্য বিএনপির সময় জঙ্গিবাদের সূচনা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। এখানে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা এগুলো হচ্ছে। তবে এখন হাওরে যে অকালবন্যা হয়েছে, এ বন্যা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তার সবকিছুই করা হবে।’ তিনি বলেন, সুন্দর ও চমৎকার পরিবেশে সংসদ চলছে। এখন এখানে কোনো খিস্তিখেউর নেই। সংসদে সঠিকভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে। বিএনপি সংসদে থাকতে যেগুলো হয়েছে তা এখন আর নেই। সুন্দর একটি পরিবেশ বিরাজমান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র একটি শক্ত ভিত্তির ওপর অবস্থান করছে।

বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, তাদের আন্দোলন মানেই হচ্ছে মানুষ খুন এবং জনগণকে হত্যা করা। তাদের আগুনে দগ্ধ মানুষগুলো এখনো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তারা আগুন দিয়ে কোরআন শরিফ পুড়িয়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে আগুন দিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত অত্যাচার-নির্যাতন করে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে। তাদের হাত থেকে শিশু, গর্ভবতী মা থেকে শুরু করে কেউ রক্ষা পায়নি। নির্বাচনে তারা যায়নি। এটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত। এর খেসারত কেন জনগণ দেবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে জনগণের জন্য কিছুই করেনি। মানুষ হত্যা, লুটপাট, মানি লন্ডারিং, এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। এখন মামলায় হাজিরা না দিয়ে সময় নিচ্ছে।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচআর