ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

প্র্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না : ফখরুল



নিজস্ব সংবাদদাতা:

বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে না বুঝতে পেরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

তিনি বলেন, ‘‘ তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে গিয়ে আমাদেরকে বলেছেন, বিএনপিকে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছেন। খুব আনন্দের কথা। আপনি মুখ থেকে আমাদেরকে অংশগ্রহণের কথা বলা –এটা আগে কখনো শুনেনি, শুনালম , এতে কিছুটা আনন্দিত হয়েছি এজন্যে যে, তাহলে আপনি বুঝতে পেরেছেন বিএনপি ছাড়া নির্বাচন হবে না।”
শুক্রবার এক ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় সুইজারল্যান্ডে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কটের বিষয়টি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সেখানে (সুইজারল্যান্ড) গিয়ে যখন তিনি (প্রধানমন্ত্রী) গণতন্ত্রের কথা বলেন, সেখানে গিয়ে যখন তিনি লেসেন দিতে চান, সবক দিতে চান, তখন নিসন্দেহে আমরা আপত্তি শুধু করবো না, প্রতিবাদ করবো। সেখান আপনি যেকথাটা বলেছেন, আমরা (বিএনপি) যেন ভুল না করি নির্বাচনে যাই। আমরা তো নির্বাচনে যেতে চেয়েছি। আপনারা চাতুরি করে, প্রতারণা করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনী করলেন। অর্থাৎ কেয়ার টেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আনলেন।”

 

তিনি বলেন, ‘‘ তখন আমরা যে আন্দোলন করেছি, সেই আন্দোলনে আমরা একা ছিলাম না, দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল ছিলো, দেশের মানুষ ছিলো এবং সেই কারণে সেদিন জাতীয় পার্টির একটা অংশ ছাড়া আপনারা কাউকে আপনাদের সঙ্গে পাননি।”

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ‘একই অবস্থা বিরাজ’ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘ আমরা এখনো দেখতে পারছি, এই সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করতে চাচ্ছেন, একতরফা নির্বাচনই করতে চাচ্ছেন।”

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমরা বলতে চাই, এবার একতরফা নির্বাচন হবে না। অবশ্যই নির্বাচনের সময়ে আপনাকে এমন একটা সরকার নিয়ে আসতে হবে, যে সরকার নিরপেক্ষভাবে একটা নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করবে। সেজন্য আমরা সহায়ক সরকারের কথা বলেছি। আমরা বলেছি যে, নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে।
দলীয় সরকার থাকলে কখনোই সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।”

 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ কিছুদিন পরে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের যদি শুভ বুদ্ধির উদয় হয়ে থাকে, তাহলে সেটা মেনে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, সকলের অংশ গ্রহনে একটা নির্বাচন করবেন, দেশকে এই রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্ত করতে।”

 

তিনি বলেন, ‘‘ আপনরা বড় বড় কথা বলেন। দেশের সবচেয়ে ক্ষতি করেছেন আপনারা। গায়ের জোরে ২০১৪ সালে নির্বাচন করে দেশকে অনিশ্চয়তা দিকে ঠেলে দিয়েছেন, গণতন্ত্রের কবর দিয়েছেন। এই কথাগুলো আমার নয়।দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এদেশের সর্বোচ্চ আদালত তারাই বলছেন দেশে আইনের শাসন নেই, এখানে বিচার বিভাগকেও নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করছে। তারা নিম্ন আদালতকে কবজা করেছে, এখন উচ্চ আদালতকে কবজা করার জন্য চেষ্টা করছে।”

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এমনভাবে দলীয়করণ করছে যে ওইসব সংস্থার প্রধানরা এমনভাবে কথা বলেন যা আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা সেভাবে কথা বলে না। যেটা আমরা আগে কখনো দেখিনি।”

 

বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘‘ আজকে কয়েকবছরে বিরোধী দলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছেন। ৫‘শতের উপরে আমাদের নেতা-কর্মীকে গুম করে দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষকে পঙ্গু করেছেন। আজকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী নেতাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ এমন কোনো নেতা-কর্মী নেই, যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই।”

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আওয়ামী লীগের লোকের ভয় পেয়ে গেছে নির্বাচন যদি হয় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা সকল জরিপে দেখেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৩০টা থেকে ৪০টার বেশি আসন পাবে না। সেই কারণে আমরা বলছি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে এবং সকলের কাছে তা গ্রহনযোগ্য হতে হবে।”

 

রাজধানীর বিজয় নগরে হোটেল ’৭১ এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাললিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (রুনেসা) উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল হয়। এই ইফতারে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের পরিচালনায় আলোচনা সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র দল নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন, শাহিন শওকত, মতিউর রহমান মন্টু, আমিনুল ইসলাম, রমেশ দত্ত, জাহাঙ্গীর হোসেন জাহাঙ্গীর, জিয়াউল ইসলাম জিয়া, রোজিনা আখতার ডলি, মিশতাক আহমেদ রাকী, মঞ্জুর কাদের বাবু, ফরহাদ হোসেন নিয়ন, ইউসুফ মোল্লা, মোস্তাফিজুর রহমান মুনির, ওয়াসিমুল বারী বাবুল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এএইচ