ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 5 months ago

মন্ত্রিসভায় ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন’-এর নীতিগত অনুমোদন



মন্ত্রিপরিষদ ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস আইন-২০১৭’-এর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

এই আইনের মাধ্যমে এক ছাতার নিচে প্যাকেজ কর্মসূচির আওতায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, `এই আইনের আওতায় রেজিস্টার্ড কোম্পানির উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারীরা যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ১৬ ধরনের সেবা পাবেন।’

সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে- ট্রেড লাইসেন্স, জামি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি, পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ, টেলিফোন-ইন্টারনেট সংযোগ, বিস্ফোরক লাইসেন্স ও বয়লার সার্টিফিকেট প্রদান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, এই চার প্রতিষ্ঠান, ‘সেন্ট্রাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস অথরিটি’ আইনের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করবে।

এই আইন পূর্বের সকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে এবং ‘ব্যবসাকে আরো সহজ করার জন্য এই আইন তৈরি করা হয়েছে’ উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে এই আইন উৎসাহিত করবে। ওয়ান-স্টপ কেন্দ্র স্থানীয় ও বৈদেশিক উভয় ক্ষেত্রের বিনিয়োগকারীদের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সেবা প্রদান করবে।

শফিউল আলম বলেন, পৃথকভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমায় সেবা পেতে এই আইনের আওতায় বিস্তারিতভাবে নীতিমালার বিবরণ দেয়া হবে। ‘নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সেবা দেয়ার ব্যর্থতাকে এই আইন অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সচিব শফিউল আলম বলেন,এই আইন, ‘গ্লোবালি ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে বাংলাদেশে মর্যাদা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বর্তমানে ১৮৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখানে ১৭৬তম ‘সরকার চাচ্ছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সূচকে প্রথম ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ জায়গা করে নিক।’

মন্ত্রিসভা ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং পরিচালকদের মেয়াদে কতিপয় পরিবর্তন সম্বলিত ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধনী) আইন-২০১৭ও নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।

নতুন আইনে পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা প্রধান নির্বাহী অফিসার (সিইও) পদে কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ার পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে আরো প্রস্তাব করা হয়েছে যে, একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই সঙ্গে একটি পরিবারের দুই সদস্যের পরিবর্তে চার সদস্য থাকতে পারবে এবং কোন ব্যক্তি একটি ব্যাংকের পরিচালক পদে বর্তমান তিন বছরের পরিবর্তে টানা নয় বছর থাকতে পারবেন।

প্রস্তাবিত নতুন আইনে কোন ব্যক্তি ৯ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ৩ বছর বিরতির পর আবারো পরবর্তী মেয়াদের জন্য মনোনিত হতে পারবেন। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিক বিশেষ করে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে সম্পর্কিত পারস্পরিক প্রশাসনিক সহযোগিতা চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ইয়্যুথ ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের গ্লোবাল ইনক্লুশান এ্যাওয়ার্ড-২০১৭ পাওয়ার কথা মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। চাইল্ড ইয়্যুথ ফিন্যান্স ইন্টারন্যাশনাল (সিওআইএফআই) ও জার্মান প্রেসিডেন্স অব দ্য জি-২০ গত ৩ মে এই পুরস্কার প্রদান করে।

গভর্নর বলেন, বিশেষ ৫টি অঞ্চলে ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে এই পুরস্কারের জন্য বেছে নেয়া হয়।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএকে