ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

মনোমুগ্ধকর সুইজারল্যান্ড



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

সময় নিয়ে ঘুরে আসুন সুইজারল্যান্ড থেকে। একটি ছোট দেশ। আল্পস পর্বতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী ও ছবির মত সাজানো গ্রাম সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

তুষার মুকুট পরিহিত আল্পসের চূড়া, ঝিলমিল করা নীল হ্রদ, এমারেল্ড ভ্যালি, হিমবাহ, রূপকথার গল্পের পল্লীর পাশাপাশি এখানে আছে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক রিসোর্ট এবং হাইকিং, বাইকিং, ক্লিম্বিং, স্কিইং, প্যারাগ্লাইডিং ও স্লেজ গাড়িতে চড়ার সুবিধা। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্ন মধ্যযুগীয় পুরনো শহর।
১। মেটারহর্ন:

আল্পস পর্বতের সবচাইতে উঁচু চূড়ার একটি হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের মেটারহর্ন। এই আইকনিক চূড়াটির উচ্চতা ৪৪৭৮ মিটার। ১৮৬৫ সালে প্রথম এই শৃঙ্গে ওঠার সময় ৪জন আরোহীই দুঃখজনকভাবে মৃত্যুবরণ করে। বর্তমানে গরমের সময়ে হাজার হাজার অভিজ্ঞ পর্বতারোহী এই স্থানটিতে যান। এই পর্বতের পাদদেশে মনোমুগ্ধকর গ্রাম জারমেটে অবস্থিত শীর্ষ আন্তর্জাতিক রিসোর্টগুলোর একটি। এখানে আছে ঘোড়ায় টানা গাড়ি, কাঠের তৈরি বাড়ি, বিশ্বমানের হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট। বাতাসের গুনাগুণ ঠিক রাখার জন্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এখানে মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। শীতের সময়ে স্কিইং করার সময় ৩০০ কিলোমিটার ঢালে চলে যেতে পারে মানুষ।
২। জাংফ্রোজস:

গ্রীষ্ম বা শীত উভয় ঋতুর জন্যই সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো জায়গা গুলোর একটি জাংফ্রো অঞ্চল। এক বা দুই শতাব্দী আগেও দুঃসাহসী অভিযাত্রীরাই কেবল আল্পস পর্বতারোহণের জন্য যেত। বর্তমানে রেলপথের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, সুন্দর হাঁটার বা বাইকে চলার পথ বিভিন্ন ধরনের পর্যটকের জন্যই সহজগম্য। গ্রিন্ডেলওয়াল্ড, মুড়েন, লটারব্রুনেন এবং ওয়েঙ্গেন নামের ৪টি চিত্রানুগ শহর এবং ইগার, মনচ ও জাংফ্রু নামের নয়নাভিরাম ৩টি পর্বত নিয়ে জাংফ্রো অঞ্চল গঠিত। সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রেল ভ্রমণ হল ক্লেইন স্কেইডেক পর্বত থেকে ইগার ও মনচ পর্বতের মধ্য দিয়ে জাংফ্রোজস পর্যন্ত যাওয়া।
৩। ইন্টারলাকেন:

ইন্টারলাকেন ঘড়ি তৈরির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে পর্যটন রিসোর্ট হিসেবেও জনপ্রিয়। ১৮০০শতকের গোড়ার দিকে পর্যটকেরা ইন্টারলাকেনে যেত পর্বতের নির্মল বায়ু সেবন ও স্পা ট্রিটমেন্টের জন্য। সুইজারল্যান্ডের ৩টি বিখ্যাত পর্বতের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করা ছাড়াও এটি আল্পস পর্বতের বেসক্যাম্প হিসেবেও জনপ্রিয়। যেসব পর্যটকরা ভিন্ন কিছু করতে চান তারা সেখানকার কাঠ খোদাই করা স্কুলে এক বা দুইটি ক্লাস করেন।
৪। লুসারন:

অনেক পর্যটকের জন্যই লুসারন হচ্ছে সুইজারল্যান্ডের সারভাগ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় অংশের প্রবেশদ্বার হচ্ছে লুসারন। লেক লুসারনের ছবির মত সুন্দর দৃশ্যাবলী এবং এর নিচেই দেখা যায় আল্পসের চমৎকার দৃশ্য। চিত্রানুগ পুরনো এই শহরটি গাড়ী মুক্ত, এই শহরের মাঝখানে চিত্রাঙ্কন সম্বলিত আচ্ছাদনসহ একটি কাঠের তৈরি মধ্যযোগীয় সেতু আছে যা ইউরোপেরও সবচেয়ে প্রাচীন সেতু। এখানকার ঐতিহাসিক বাড়িগুলো দেয়াল চিত্রে সাজানো থাকে এবং এখানে আছে চমৎকার টাউন স্কয়ার। এগুলো দেখার পর আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন কেন লুসারন ভ্রমণবিলাসী মানুষের কাছে সারা বছরই জনপ্রিয় থাকে।
৫। জেনেভা:

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের সদর দপ্তর জেনেভায় অবস্থিত। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি এবং জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দপ্তর এখানে অবস্থিত। এছাড়াও আরো ২০ টি আন্তর্জাতিক সংগঠন আছে এখানে। পরিবেশবাদী পর্যটকদের জন্য জেনেভা আদর্শ স্থান। কারণ জেনেভা গ্রিন সিটি বা সবুজ শহর। এই শহরের ২০% জমি উদ্যানের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। এজন্য একে পার্কের শহর ও বলা হয়। ইউরোপের সর্ববৃহৎ আল্পাইন হ্রদ হচ্ছে জেনেভা হ্রদ যা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
৬। জুরিখ:

সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর। এখানে ৫০টি যাদুঘর ও ১০০টি আর্ট গ্যালারি আছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সুইস ব্র্যান্ডের পণ্য কিনতে কিনতে ভ্রমণকারীরা যখন ক্লান্ত হয়ে যান তখন লেক জুরিখে নৌকা ভ্রমণে যেতে পারেন অথবা কাছাকাছি পাহাড়ে আরোহণ করতে পারেন। সুইজারল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে উৎসর্গ করে নির্মিত রূপকথার দুর্গ “সুইস ন্যাশনাল মিউজিয়াম” দেখার কথা ভুললে চলবে না।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এম/এম.