ব্রেকিং নিউজঃ

বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল ঘোষণা  ***  রাস্তার ধারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! প্রাণ হারালেন ৪ সেনা, আহত ৬  ***  ঢাবি ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত  ***  রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গণআদালতে দোষী সাব্যস্ত হলেন সু চি ও সেনাপ্রধান  ***  দেশে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু হবে আগামী ডিসেম্বরে : তারানা হালিম  ***  বার্মায় রেডক্রসের ত্রাণবাহী নৌকায় বৌদ্ধদের হামলা  ***  ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট  ***  শ্যামপুরে আগুনে পুড়ে দগ্ধ একই পরিবারের ৫ জন, যেভাবে আগুন লাগে  ***  ভারতের কাছে ৫০ রানে হেরে গেল অস্ট্রেলিয়া  ***  প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮৫ রানে এগিয়ে
Published: 5 days ago

প্রেমিকার সাজানো নাটকে কলেজ ছাত্র লাবিবের আত্মহত্যা! জানুন কী ঘটেছিল ?



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

প্রেমিকার লোকজনের হাতে পিতামাতাসহ আহত হওয়ার মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে লাবিব ইসলাম নামে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এক মেধাবী ছাত্র।

 

লাবিবকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শোকে পাথর হয়ে গেছেন লাবিবের পরিবারের সদস্যরা। লাবিবের পরিবার প্রেমিকা ভিকারুননিসা নূন কলেজের ছাত্রী মেহজাবিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। এ বিষয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে মেহজাবিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে আগ্রহী লাবিবের পিতা বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আনিসুল ইসলাম।

লাবিবের (১৭) বোন আনিকা আন নূর বলেন, তারা রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সেকশনের ৭ নম্বর সড়কের ৪০১ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন। তাদের দুই বোনের একমাত্র ভাই ছিল লাবিব। লাবিব পঞ্চম, অষ্টম ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।

 

লাবিবের সঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী মেহজাবিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মেহজাবিন মগবাজার টিএ্যান্ডটি কলোনিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে বলে জানা গেছে। টানা ছয় মাস তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

মেয়েটি বহু প্রেমিকে বিশ্বাসী। তার একাধিক বয়ফ্রেন্ড আছে। সম্প্রতি লাবিবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। এ নিয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে মেয়েটির প্রায়ই তর্ক চলছিল। মেয়েটি লাবিবের সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছিল না। কিন্তু লাবিব মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ছিল। এমন টানাপোড়েনের কারণে লাবিব ঠিকমতো পড়াশোনা করছিল না। উদাস হয়ে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করছিল। বিষয়টি আব্বা-আম্মাসহ পরিবারের সবাই বুঝতে পারে।

 

পূর্বপরিচিত হওয়ায় আব্বা-আম্মা মেয়েটির সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। একমাত্র ছেলে হওয়ায় এবং বিপজ্জনক বয়সের কারণে আব্বা-আম্মাও বিষয়টি নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন, যাতে ছেলের সঙ্গে মেয়েটির কোন ঝামেলা না হয়। কথাবার্তার একপর্যায়ে মেয়েটি সরাসরি কথা বলতে লাবিবকে নিয়ে বেইলী রোডের পাশে স্কাইভিউ পয়েন্টের ছাদে থাকা রেস্টুরেন্টে আসতে বলে। কথা মোতাবেক আব্বা আম্মা লায়লা ইসলাম ও ভাই লাবিব আর লাবিবের এক বন্ধুকে নিয়ে সেখানে যান।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেখানে সাক্ষাত করতে গেলে মেহজাবিন চিৎকার-চেঁচামেচি করে ব্যাপক শোরগোল করে। লাবিবের পরিবারকে মেহজাবিন চেনে না বলে বলতে থাকে। এ সময় সেখানে আগ থেকে বসে থাকা মেহজাবিনের অন্তত ২০ জন আব্বা, আম্মা, লাবিব ও লাবিবের বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ লাবিবের বন্ধু আর আব্বা-আম্মাকে কোনমতে রক্ষা করতে পারে।

 

কিন্তু ততক্ষণে মেহজাবিনের লোকজন লাবিবকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। পরে হোটেলের লোকজন সবাইকে উদ্ধার করে। তারা গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এ নিয়ে রাতভর বাসায় আলাপ-আলোচনা চলতে থাকে।

 

ভোর চারটার দিকে লাবিব তার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এর কয়েক মিনিট পর থেকেই লাবিবকে ডাকাডাকি করছিলেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। পরে দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় লাবিবকে উদ্ধার করে দ্রুত গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা লাবিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

সোমবার সকাল নয়টার দিকে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে লাবিবের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

আনিকার দাবি, প্রেমের সূত্র ধরে লাবিব আত্মহত্যা করেছে। লাবিব তার প্রেমিকার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে। প্রেমিকা মেহজাবিন বড়লোক ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করে স্বার্থ হাসিল করত। বিষয়টি তারা পরে বুঝতে পেরেছেন। আর প্রেমিকার লোকজনের হাতে পিতা-মাতার আহত হওয়ার মানসিক যন্ত্রণা সইতে পারেনি লাবিব। মূলত এজন্যই লাবিব অভিমানে ও কষ্টে আত্মহত্যা করতে পারে।

 

মেহজাবিন যদি লাবিবের সঙ্গে ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পক শেষ করে দিত তাহলে হয়ত লাবিব আত্মহত্যা নাও করতে পারত। লাবিবের মৃত্যুর জন্য মেহজাবিনই দায়ী। তারা এর সুবিচার চান। একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে দিশাহারা পিতামাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। এমন প্রতারক মেয়ের শাস্তির দাবি করেছেন লাবিবের পরিবারের সবাই।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএম