ব্রেকিং নিউজঃ

বঙ্গোপসাগরে বছরের সর্বোচ্চ জোয়ার, উচ্চতা সাড়ে ১০ ফুট  ***  নয়া অ্যাকশনে মোস্তাফিজ  ***  অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরে হামলা, নিহত ৮  ***  আগামিকাল বুধবার থেকে পবিত্র জিলক্বদ মাস গণনা শুরু  ***  পাকিস্তানকে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার দিলো রাশিয়া  ***  ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শপথ নিচ্ছেন রামনাথ কোবিন্দ  ***  কক্সবাজারে প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধস : নিহত ৪, আহত ৫ জন  ***  সারাদেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত  ***  ভারতের গুজরাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, সরিয়ে নেয়া হয়েছে ২৫ হাজার মানুষকে  ***  ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
Published: 2 months ago

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েলের অন্যরকম প্রেম



ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রনের নতুন জীবনী মানুষকে আহত করে এটি জেনে, একজন টিনএজারের স্ত্রী হবেন ৪০ বছর বয়স্কা নারী।

স্কুল ছাত্রের পিতা-মাতা জানতেন যে, তাদের ছেলে শিক্ষকের কন্যার সঙ্গে প্রেম করছে কিন্তু পরিবারের এক বন্ধুর মাধ্যমে তারা আসল ঘটনা জানতে পারেন।

খবরটি জানতে পেরে বিস্ময়কর মেধাবী বালক ম্যাক্রনকে স্কুল থেকে সরিয়ে আনেন। ম্যাক্রনের মা ফ্রাঁসোয়া নগুয়েস ম্যাক্রন বলেন, ‘ইম্যানুয়েল যখন ব্রিগিটিক্সের সঙ্গে দেখা করতো এটি আমরা বিশ্বাস করতাম না।’ ‘আমরা এটিকে কোনো বড় ঘটনা মনে করতাম না।’ ‘আমার কাছে বিশ্বাস হতো না যে, সে ব্রিগ্রির সঙ্গে সম্পর্ক করেছে।’

ইম্যানুয়েলের মা বলেন, আমরা যখন জানতে পারি ইম্যানুয়েলের ব্রিগ্রিটির সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্ক রয়েছে। তখন আমি ব্রিগ্রিটিকে বলি তুমি ইম্যানুয়েলের জীবনে কেন? সে যে তোমার সন্তানের মত।

পিতা জিন মাইকেল ম্যাক্রন বলেন, ‘তিনি যখন তার ছেলের প্রেমিকার খবর জানতে পারেন, তখন তার চেয়ার থেকে পড়ার অবস্থা হয়।’ ‘যখন ইম্যানুয়েল ব্রিগ্রিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতো তখন আমরা নিশ্চিত করতে পারতাম না, বাহ! কী চমৎকার।’

চিন্তিত মা-বাবা মিসেস ট্রাগনিউক্সের সঙ্গে দেখা করে তার ছেলে বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে ‘ডেটিং’ না করার অনুরোধ করলে তিনি তাদের আশ্বস্ত করতে পারবে না বলে জানান।

কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের নানী বিস্ময়করভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করেন।

ইম্যানুয়েলের মা ফ্রাঁসোয়া স্মরণ করে বলেন, ‘তার মা তার সন্তানের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি কখনই মেনে নিতেন না। কিন্তু তার নাতীর এই অসম প্রেম সম্পর্কে মনখোলা ও সহিষ্ণু হয়েছিলেন।’

পিতামাতা উভয়ই স্কুলছাত্রকে বাড়ির বাইরে পাঠাতে ও তার ফাইনাল ইয়ারের লেখাপড়ার জন্য প্যারিসের স্বনামধন্য লাইস হেনরি প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে অস্বীকার করেন।

ম্যাক্রনকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর ফ্রান্সের জনগণ উদাম উল্লাসে ফেটে পড়েন।

যুবক ম্যাক্রন তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীর ফ্রেঞ্চ ক্লাসের ছাত্র ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন নাটক শিক্ষার ক্লাসের ছাত্র।

ইম্যানুয়েলের স্ত্রী স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘সে ছিল ব্যতিক্রমী মেধাবি। যা তিনি পূর্বে কখনও দেখেননি।’ এবং তিনি যখন ‘লা’ প্রদেশে পৌঁছান, তখন শিক্ষকগণ ইম্যানুয়েলকে নিয়ে প্রশংসাসূচক ধ্বনি করতে থাকে।

এই বিসদৃশ জুটি ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হন যখন তারা যৌথভাবে একটি নাটক লিখেন। মিসেস ট্রগনিউক্স গত বছর এক বন্ধুকে বলেন, ‘মোজরাটের সঙ্গে কাজে আমার অনুভ’তি ছিল দারুণ।

‘লেখা অজুহাত হয়ে দাঁড়ায় এবং আমি মনে করতাম যে, সবসময় একসঙ্গে রয়েছি।’ নব ফার্স্টলেডি প্যারিসের ম্যাচ ম্যাগাজিনে নিশ্চিত করেন যে, রোমান্টিক ম্যাক্রন ১৭ বছর বয়সে নিশ্চিত করেন যে, তাকে সে বিয়ে করবে। ম্যাক্রন প্যারিস থেকে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞবদ্ধ ছিলেন এবং ফিরে আসেন। পূর্বে আমার থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যে তাকে রাজধানীতে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ‘তুমি আমার থেকে মুক্তি পেতে পারো না। আমি ফিরে আসবো এবং তোমাকে বিয়ে করবো।’

তার প্রেম নিয়ে পিতামাতার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘তাঁরা এটি খারাপভাবে নেয়। আমাকে আমার ব্যক্তিগত ও প্রমোশনাল জীবন নিয়ে রীতিমত যুদ্দ করতে হয়। সেই যুদ্ধ সহজ ছিল না, আমাদের আচার-আচরণ সমাজ সহজ মেনে নেয়নি।

এই জুটি অবশেষে ২০০৭ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তখন একজনের বয়স ছিল ২৯ আর অন্যজনের ছিল ৫৪। স্ত্রীর ছেলেমেয়েরা যুবক সৎপিতা ম্যাক্রন বিবাহ সংবর্ধনায় বলেন, ‘আমাকে গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ যদিও এই জুটি স্বাভাবিক কোনো জুটি নয়।’

মি. ম্যাক্রন ৩৯ বছর বয়সে সর্বাধিক যুবা প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এবং তার ৬৪ বছর বয়স্ক স্ত্রীর একই বয়স ছিল যখন তারা প্রথম প্রেম করতেন।

মন্তব্যে অনেকে বলেছেন, তাদের বয়স ভেদ গভীর কৌতুহলউদ্দীপক। সাধারণত উচ্চাসীন পুরুষ অল্প বয়স্ক যুবতী বিয়ে করেন।

ফার্স্ট লেডি হিসেবে কী ভ’মিকা মিসেস ট্রগনিউক্স পালন করবেন তা পরিষ্কার না হলেও আশা করা হচ্ছে যে, প্রাক্তন শিক্ষিকা হিসেবে দেশের শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অবলম্বনে

রেজা আফসারী