ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 weeks ago

এইচআইভিকে জানুন, নিজেকে রক্ষা করুন



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

এইচআইভি এমন একটি ভয়ংকর ভাইরাস যার আক্রমণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়ে এবং সময়মত একে চিকিৎসার আওতায় আনা না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যেতে পারে। বলা যেতে পারে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে (ইমিইনো সিস্টেম) অকার্যকর করে দেয় মরণঘাতি এ ভাইরাস।

 

এক সমীক্ষায় জানা গেছে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে এক লাখ লোক এইচআইভি বা এইড্সে আক্রান্ত। অন্যদিকে সারাবিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এ মরণঘাতি ভাইরাস বহন করছে। আর এসব কারণেই এ বিষয়ে সম্যক ধারণা দরকার। কেননা এইচআইভি ভাইরাস যখন এইড্সে রূপ নেয়, তখনই সেটি মারাত্মক অসুস্থতায় পরিণত হয়।

Related image

এইচআইভিতে কিভাবে এত মানুষ মারা যায়?

দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য যে, ১৯৮৪ সাল থেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩ কোটি ৪০ লাখ লোক মারা গেছে। যা পৃথিবীর অন্যতম ধ্বংসাত্মক ইতিহাসের মধ্যে একটি।
প্রতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়ে আসছে। আর এর মধ্যে দিয়ে যারা এইডস নিয়ে বেঁচে আছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানানো এবং যারা মারা গেছেন তাদেরকে স্মরণ করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়। ২৮ বছর আগে ১৯৮৮ সাল থেকে চালু হওয়া এ দিবসটি আজো নানা আয়োজনে পালন হয়ে আসছে এবং এদিনে মানুষ লাল ফিতা পরে এইডস আক্রান্তদের প্রতি তাদের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ৬ হাজার লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে কিন্ত তাদের মধ্যে প্রায় ১৭ ভাগ লোক জানেনা তারা কিভাবে এ রোগে আক্রান্ত হলেন। আর এইচআইভি ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে বেশিরভাগ লোকই সময়মত পরীক্ষার জন্য যাচ্ছেন না। ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতি এই রোগটি বিশেষ করে সাব-সাহারান এলাকার দেশগুলোতে বেশি দেখা যাচ্ছে।

Related image

এতে আক্রান্ত হলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিইনো সিস্টেম অকার্যকর হয়ে যায়। যাতে একজন মানুষ সংক্রমণ ও রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা হারায়। এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ ধাপ হলো এইডস। আর তখনই মানুষ তার প্রাণসংহারি সমস্ত অসুখ-বিসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলায়। কিন্তু সময়মত এইচআইভি ভাইরাসের চিকিৎসা করা হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা এইডসে রুপ নেয় না।

 

এইচআইভি পরীক্ষা:

আপনি যদি মনে করেন এইচআইভি পরীক্ষা করাবেন, সেক্ষেত্রে আপনি রক্ত কিম্বা মুখের লালা পরীক্ষা করাতে পারেন। যৌন ও প্রজনন বিষয়ক স্বাস্থ্য ক্লিনিক এবং বেশকিছ জিপি সার্জারি ক্লিনিক থেকে এর পরীক্ষা করানো যেতে পারে। এর মধ্যে কিছু ক্লিনিক কয়ক মিনিটের মধ্যেই এই পরীক্ষার ফলাফল জানাতে পারে। বাসায় বসে পরীক্ষার কিটস্ও বাজারে রয়েছে যা অনলাইন অর্ডার বা ফার্মেসিতে কিনতে পাওয়া যায়। যদি দেখা যায় আপনি এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন তাহলে জরুরি ভিত্তিতে এন্টি-এইচআইভি ভাকসিন নিতে হবে। এর সংক্রমণ ঠেকাতে তিনদিনের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

লক্ষণসমূহ কি কি?

এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি দুই থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে ঘন ঘন জ্বর বা ফ্লু এর মত অসুস্থতায় ভুগবেন। ৮০ ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য এবং এ সময়ে তার শরীর যে ভাইরাসটির সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে এটি তার বড় লক্ষণ। এছাড়া এ সময়ে বিশেষ বিশেষ লক্ষণগুলো হলো:
জ্বর, গলা ফোলা, শরীরে ঝিমঝিম ভাব, অলসতা, ক্লান্তি, সন্ধি ও পেশীতে ব্যথা, গ্রন্থি ফোলা ইত্যাদি।

Image result for এইচআইভি

তবে এই ধরণের অসুস্থতা সাধারণত এক বা দুই সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। এরপ্র আর ১০ বছর কোন ধরণের লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে। আর এসময়ে তাদেরকে সুস্থ মনে হতে পারে। কিন্ত ভাইরাসটি অব্যাহতভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকে অকার্যকর করতে থাকে।

 

কিভাবে এটি সংক্রমিত হয়?

এটি কোন ছোঁয়াছে রোগ নয়। বরং এটি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, বীর্য, যোনি, পায়ুপথ ও বুকের দুধের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এছাড়া একটি ভঙ্গুর জীবাণু যা শরীরের বাইরের অংশে বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে না এবং মূত্র বা ঘামের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে না। প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয় অনিরাপদ যৌন সঙ্গমে। কনডম ব্যবহার ছাড়া যে কোন ধরণের যৌনতায় এর ঝুঁকি রয়েছে।
এছাড়া ভাইরাসটি জীবাণু বহনকারী দূষিত নিডল, দুদ্ধপান ও প্রসবের সময় মায়ের শরীর থেকে শিশুর, ওর‌্যাল সেক্স এবং খেলনার সঙ্গে সেক্সের ক্ষেত্রে এর সংক্রমণ হতে পারে।

Image result for এইচআইভি থেকে রক্ষা করুণ নিরাপদ যৌন জীবন

এইচআইভির চিকিৎসা

এন্ট্রিরেট্রোভাইরাল ভাইরাস নামের একটি ওষুধ শরীরে ভাইরাস ছড়ানো প্রতিরোধে কাজ করে। এর মাধ্যমে শরীরের এমিইনো ব্যবস্থাকে সক্রিয় এবং নতুন করে যেন কোন ধরণের ক্ষতি না হয় তার ব্যবস্থা করা হয়। এটি ট্যাবলেট আকারেও বাজারে এসেছে। যা প্রতিদিন গ্রহণ করা যেতে পারে। এছাড়া এন্টিরোট্টোভাইরাল থেরাপিও রয়েছে। যে সমস্ত মায়েদের মাধ্যমে শিশু এবং সেক্স পার্টনারদের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার আশংকা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতে পারে।

 

যদিও এক্ষেত্রে বলা যায়, বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্ত ওই সব জীবন প্রত্যাশি যারা এন্টিরোট্টোভাইরাল গ্রহণ করছেন আর সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। তবে তা নির্ভর করছে কত তাড়াতাড়ি তিনি চিকিৎসকের কাছে গেছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন, তিনি কোন লিঙ্গের, তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি ধুমপান, মদ্যপান বা মাদক সেবন করেন কিনা তার ওপর।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/আশরাফুল ইসলাম