ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 7 months ago

ডুমুর এর উপকারীতা



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

ডুমুরগাছ কেউ লাগায় না, আপনা আপনি হয় । তবে ডুমুর খুবই উপকারী । দুই ধরনের ডুমুর দেখা যায় – গোল ডুমুর ও যজ্ঞ ডুমুর । ডুমুরের পাতা খসখসে হয় । গোল ডুমুরের পাতা লম্বা এবং যজ্ঞ ডুমুরের পাতা গোল। যে ডুমুর ফল হিসেবে খাওয়া হয় তা মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া যায়।

 

 

 

এটি আকারে বড় এবং মিষ্টি। এটি ফল হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই ডুমুর বানিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। ডুমুর ফল হিসেবে অনন্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশক্তি, ভিটামিন এ, বি, শর্করা, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও আয়রন। ডুমুরের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা।

 

 

 

ধর্মীয় গুরুত্বঃ

ত্বীন ফলের আরেক নাম ডুমুর ফল ।আশ্চর্জজনক ও বিস্ময়কর এক ফলের নাম ডুমুর বা ত্বীন ফল। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা পবিত্র কুরআনে যার বর্ণনা করেছেন ।

 

 
ত্বীন ফলের উল্লেখ আছে পবিত্র কুরআনের সুরা ত্বীনে। এই বরকতময় ফলের নামেই নামকরণ করা হয়েছে এই সুরার। সুরা নাম্বার ৯৫। “কসম ‘তীন ও যায়তূন’ (ফল) এর, কসম ‘সিনাই’ পর্বতের, কসম এই নিরাপদ নগরীর, অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠন ও আকৃতিতে।”

 

 
বাইবেলে এই ফলের উল্লেখ আছে; সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত যীশু একটি ডুমুর (আঞ্জির) গাছ দেখলেন কিন্তু সেখানে কোনো ফল ছিল না, তাই তিনি গাছকে অভিশাপ দিলেন।

 

 
* ডুমুর পিত্ত ও আমাশয় রোগে উপকারী ।
* এতে লোহা বেশি আছে বলে বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে ।
* ডুমুর রক্তপিত্তা, রক্তপ্রদর, রক্তপড়া অর্থাৎ রক্তহীনতা রোগে উপকারী।
* জ্বরের পর ডুমুর রান্না করে খেলে টনিকের কাজ করে ।
* মেয়েদের মাসিকের সময় বেশি রক্তস্রাব হলে কচি ডুমুরের রসের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে উপকার হয় ।
* আমাশয় হলে কচি ডুমুরের পাতা আতপ চালের সঙ্গে চিবিয়ে খেলে ভালো হয় । তিন দিন খেতে হয় ।
* মাথাঘোরা রোগে, ডুমুর ভাজা করে খেলে ভালো হয় । তবে সর্বদা মনে রাখতে হবে ডুমুরের ভেতরের অংশ অখাদ্য । খেলে ক্ষতি হবে । সবসময় ডুমুরের বাইরের অংশ রান্না করে খাওয়া যায় ।
* ডায়াবেটিস রোগে ডুমুর গাছের মূলের রস খুবই উপকারী ।

 

 

কেন খাবেন ত্বীন বা ডুমুর ফল ?

 

* ডুমুর নারী-পুরুষের শক্তি বৃদ্ধি করে।
* ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখে।
* ডুমুর রক্তে ক্ষতিকর সুগারের পরিবর্তে ন্যাচারাল সুগার তৈরি করে ব্যালান্স রক্ষা করে।
* ডুমুর মারণব্যাধি ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।
* ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে ফাইবার সমৃদ্ধ ডুমুর সাহায্য করে।
* ডুমুর চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে একান্ত অপরিহার্য।
*ডুমুর শরীরের অপ্রয়োজনীয় মেদ বা চর্বি কমায়।
* ডুমুর হার্ট এটাকের ঝুঁকি কমায়।
* মারণব্যাধি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে। ইনসুলিনের ওপর নির্ভরশীল ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ডুমুর খুবই উপকারী।
* ডুমুর গর্ভবতী মা ও শিশুর রক্তশূন্যতা রোধ করে।
* ডুমুর শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানি রোগ নিরাময়েও সহায়তা করে।
* যাদের দুধ ও দুধের তৈরি খাবারে অ্যালার্জি আছে তাঁরা ক্যালসিয়ামের ঘাটতির পূরণের জন্য নিয়মিত ত্বীন ফল খান। কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।
* কাঁচা ডুমুর চর্মরোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। থেঁতো করে ব্রণ ও মেছতায় নিয়মিত লাগালে তা সেরে যায়।

 

 

এছাড়াও নিম্নোক্ত উপকারিতা রয়েছে :-

 
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে :

ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস না থাকলেও আমরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে থাকি। ডায়েটে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে হাইপারটেনশনের সমস্যা হতে পারে। তাই ডায়েটে রাখুন ডুমুর ফল। এর পটাশিয়াম হাইপারটেনশন প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

 

 

 

ওজন কমাতে সাহায্য করে :

খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনার খাদ্যতালিকায় ডুমুর রাখুন। ডুমুর বিদ্যমান পেকটিন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, মেনোপজ পরবর্তী পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ডুমুর সাহায্য করে। আঁশ সমৃদ্ধ ডুমুর খাদ্যতালিকায় রাখার ফলে ৩৪% মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখা দিয়েছে।

 

 

 

হাড় বৃদ্ধিতে সহায়ক :

ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। অতিরিক্ত হাই-সল্ট ডায়েট মেনে চললে ইউরিনের মধ্য দিয়ে অনেক ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যায়। এই ক্যালসিয়াম লস প্রতিরোধ করতে ডুমুরের পটাশিয়াম সাহায্য করে। এভাবে ডুমুর হাড় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া ডুমুর হাড়ের ক্ষয়রোগও প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

 

 

 

হার্ট ভালো রাখে :

গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, ডুমুর ও ডুমুরের পাতা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হার্ট ভালো থাকে। এছাড়া ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাংগানিজ। যা বয়েসজনিত কারণের নানা অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন ডুমুর।

 

 

 

পেটের সমস্যা দূর করে :

ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ। ফলে পেটের সমস্যার জন্য ডুমুর খুব ভালো কাজ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যাও কমাতে সাহায্য করে।

 

 

 

যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে ডুমুর :

প্রতিদিন ডুমুর সেবন কারলে শুক্রানু বৃদ্ধি ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়। সেবনবিধিঃ ডুমুরঃ ৩-৫ টি । সতর্কতা: অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

 

চর্মের বিবর্ণতা দূরীকরণে :

ডুমুর ছাল পানিসহ সিদ্ধ করে সেই পানি দ্বারা ত্বক ধৌত করলে চর্মের বিবর্ণতা এবং ক্ষত রোগে উপকার হয়। সেবনবিধিঃ ডুমুর ছালঃ প্রয়োজনমত ।  সতর্কতাঃ তেমন কোন সতর্কতার প্রয়োজন নেই ।

 

 

 

শ্বেতী রোগ আরোগ্যে ডুমুর :

শুষ্ক ছাল থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ হলে নামিয়ে সকাল- বিকাল কয়েকদিন সেবন করলে শ্বেতী রোগ আরোগ্য হয়। সেবনবিধিঃ ছালঃ ১০ গ্রাম । সতর্কতা অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

 

পরিপাক শক্তি বৃদ্ধিতে ডুমুর :

শুষ্ক ছাল থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে জ্বাল করে ১ কাপ হলে নামিয়ে ছেঁকে উক্ত নির্যাসের সাথে সমপরিমাণ পুদিনা কিংবা জৈন মিশিয়ে দিনে ২ বার সেবন করতে হবে। নিয়মিত ১মাস সেবন করতে হবে। সেবনবিধিঃ ছালঃ ৫-১০ গ্রাম । সতর্কতা অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

 

ফোঁড়া পাকাতে ডুমুর :
ডুমুর দুধের সাথে সিদ্ধ করে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পাকে। সেবনবিধিঃ ডুমুরঃ প্রয়োজনমত । সতর্কতাঃ তেমন কোন সতর্কতার প্রয়োজন নেই।

 

 

 

ক্ষুধামন্দা রোগে ডুমুর :

ক্ষুধামন্দা রোগে কাঁচা ডুমুরের রস দিনে ১ বা ২ বার খাওয়ার পর সেবনে ভাল ফল পাওয়া যাবে। সেবনবিধিঃ কাঁচা ফলের রসঃ ২ চা চামচ । সতর্কতা অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

 

অপুষ্টিজনিত রোগে ডুমুর :

পাকা ডুমুর কেটে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর আধা কাপ দুধে সিদ্ধ করে নিয়মিত খেতে হবে। এক সপ্তাহ পর ভাল ফল পাওয়া যাবে। সেবনবিধিঃ শুকনো ফলঃ ৫ গ্রাম । সতর্কতা অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 

 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডুমুর :

শুকনো ডুমুর পাতা পানিতে ভিজিয়ে রস দিনে ২-৩ বার সেবন করলে ডায়াবেটিস রোগের উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া ডুমুর ফল সিদ্ধ করে পেঁপের সাথে ভর্তা করে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হয়। সেবনবিধিঃ শুকনো পাতাঃ ১০-১২ গ্রাম । সতর্কতা: অতিরিক্ত মাত্রায় ডুমুর সেবন যকৃৎ, পাকস্থলী ও দাঁতের জন্য ক্ষতিকারক।

 

 
বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এমএম