ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

রাজধানীর গাউছিয়া নিউমার্কেটে বেচা-কেনার ভিড়



ঢাকার প্রায় সব এলাকা থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় কেনাকাটা করতে আসে ক্রেতারা। কারণ প্রয়োজনীয় এমন কোনো জিনিস নেই যা নিউমার্কেট এলাকায় পাওয়া যায় না। সাধারণত নারী ও শিশুদের পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রসাধনী ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের জন্য খ্যাতি রয়েছে নিউমার্কেটের।

 

চাঁদনী চক ও গাউছিয়ায় রয়েছে প্রচুর ভারতীয় শাড়ি ও থানকাপড়। এ ছাড়া পাকিস্তান ও চীন থেকে আমদানি করা পোশাকও রয়েছে। তবে এগিয়ে আছে ভারতের জামাকাপড়। ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই বাজারে আসে বাহারি নাম ও ডিজাইনের রং-বেরঙের পোশাক-পরিচ্ছদ।

 

হাল আমলের হিন্দি সিনেমা ও অভিনেত্রীদের নামে বিক্রি হয় এসব জামাকাপড়। কারচুপি ও হাতের কাজ করা এসব শাড়ি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে চার হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সিরিয়াল অনুসারে নামকরণ হয়েছে শাড়ি ও জামাকাপড়ের। এর মধ্যে কাটাপ্পা, শারারা, দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাট ইত্যাদি নামে বিক্রি হচ্ছে শাড়ি।

 

আর বহুদিনের পুরনো মার্কেটগুলোর প্রতি ক্রেতাদেরও যেন রয়েছে বিশেষ টান। বিপুল ক্রেতার উপস্থিতির এটাও একটা অন্যতম কারণ। পণ্যের দামটাও বেশ সহনীয়। আর সে জন্য বিশেষ করে মধ্যবিত্তের কেনাকাটার অন্যতম গন্তব্য এই নিউমার্কেট। শুধু মধ্যবিত্তই নয়, নিম্নবিত্তের মানুষও ছুটে আসে এখানে। বাদ যায় না উচ্চবিত্তরাও।

 

অনেক মার্কেট, যেন ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে। চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসহ ছোট-বড় অনেক বিপণিবিতান রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায়। বাটা মোড়, নীলক্ষেত মোড় হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় পর্যন্ত বলতে গেলে পুরো এলাকাটাই মার্কেট। আর সে সুবাদে সারা বছরই আলাদা ধরনের একটা ব্যস্ততা থাকে নিউমার্কেট এলাকায়।

 

ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতার ভিড়ে গমগম করছে মার্কেটগুলো। মানুষজন চলছে গায়ে গা লাগিয়ে। সঙ্গে যোগ হয়েছে তীব্র যানজট, হকারদের কোরাসের সুর। টের পাওয়া গেল—ঈদবাজার জমে উঠেছে পুরোপুরি।

 

দেখা যায় যে, ঈদের কেনাকাটায় নিউমার্কেট এলাকার মার্কেটগুলোতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে গৃহিণী ও তরুণীর সংখ্যা বেশি। বিশেষত যারা ঘুরে ঘুরে দরদাম করে কিনতে পছন্দ করে, তাদের কাছে এই মার্কেটগুলো আকর্ষণীয়। ঈদ উপলক্ষে এসব মার্কেটে মেয়েদের জন্য শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, আনস্টিচ থ্রি-পিস, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিকস, গয়না, দর্জিবাড়ি সব কিছুই রয়েছে।

 

চাঁদনী চক, গাউছিয়া ও নিউ মার্কেটে গজ কাপড়ের চাহিদা প্রচুর। নান্দনিক নকশার লতাপাতা ও ফুলেল গজ কাপড়ের বিক্রি বেশি। মার্কেটভেদে এসব গজ কাপড়ের দাম পড়ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্যদিকে কারচুপি ও হাতের কাজ করা কাপড়ের চাহিদা রয়েছে। তবে এসবের দাম খানিকটা চড়া।

 

জামাকাপড়ে কাজ যত বেশি, সুতা যত মিহি দামও তত বেশি। ডিজাইন ও ভিন্নতাভেদে এসব কাপড়ের দাম ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসায় এসব কাটা কাপড়ের দোকানে ভিড় কমে আসছে। ক্রেতারা এখন ঝুঁকছে রেডিমেড পোশাকের দিকে।

 

চাঁদনী চক থেকে কাপড় কিনতে কিনতে এক ক্রেতা বলেন, ‘নিউমার্কেট এলাকায় কাপড়ের বৈচিত্র্য বেশি। নানা ধরনের কাপড় কেনা যায়। দরদামেরও সুযোগ রয়েছে। ফলে এখান থেকেই পছন্দ করে জামাকাপড় কিনি।’

 

নিউমার্কেটে উড়াল সেতুর পাশেই জুতা-স্যান্ডেলের ছোট-বড় অনেক দোকান। এখানে বাহারি স্যান্ডেলের দিকে গৃহিণী ও তরুণীদের দেখা গেল বিশেষ টান। চাঁদনী চকের পাশেই ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট। ছেলেদের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট বেশি মেলে এখানে। দরদাম করে কিনতে পারলে এখানে কেটাকাটা বেশ সাশ্রয়ী।

 

গাউছিয়ার নিচতলা ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে প্রচুর শাড়ির দোকান। রেশমি শাড়িঘরের দোকানি শামসুল হক বললেন, ‘দেশ-বিদেশের নানা ধরনের শাড়ি বিক্রি করি আমরা। আদি জামদানি শাড়ি যেমন পাওয়া যায়, তেমনই রয়েছে হাল ফ্যাশনের নানা শাড়ি। এসবের দাম আড়াই হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। দেশি সুতি শাড়ি ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকা। বলাকা সিল্ক শাড়ি তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে।’

 

বাংলা রিপোর্ট/এম/এম.