ব্রেকিং নিউজঃ

মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনীর জয়  ***  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যা  ***  রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ছাদহীন খোলা কারাগার, দশকের পর দশক ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের শিকার এই বাসিন্দারা-অ্যামনেস্টি  ***  জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শুক্রবার শপথ নিতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নাঙ্গাগওয়া  ***  চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণসহ এক যাত্রী আটক  ***  সরকার দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে- মির্জা ফখরুল  ***  মানবতাবিরোধী অপরাধে বসনিয়ার ‘সাক্ষাৎ শয়তান’ রাতকো ম্লাদিচের যাবজ্জীবন  ***  দ. কোরিয়ায় পালাতে গিয়ে সহকর্মীদের গুলিতে নিহত উ. কোরীয় সৈনিক  ***  জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ন্যানগাওয়ের শপথ শুক্রবার, আজ রাতে পালাতে পারেন মুগাবে  ***  কুড়িগ্রামে মৌমাছির কামড়ে ৩৭ জন শিক্ষার্থীসহ আহত অর্ধশতাধিক
Published: 6 months ago

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশ ব্যবস্থায় ভয়াবহ পরিবর্তন



বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে এক ধরনের শৈবাল তৈরি হয়ে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি হয়েছে।

১৯৫০ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলের উষ্ণতা প্রতি দশকে ১/২ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে। যা বৈশ্বিক উষ্ণতার গড় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষকরা সারা অ্যান্টার্কটিকার ৩টি এলাকার ১০০০ কিমি এলাকায় স্টাডি করে দেখেছেন, ১৯৫০ সালের পর ৪ বা ৫ ভাগ করে শৈবাল জন্ম নিয়েছে, যা এর পূর্বের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।

বিজ্ঞানীরা ১৯৫০ সালকে নতুন ভৌগোলিক অবস্থার আবর্তন যাকে- ‘এ্যানথ্রোপোসিন ইপোক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যাকে বিজ্ঞানীরা আখ্যায়িত করেছেন, পৃথিবীতে আধুনিক মানবসভ্যতার মোড় ঘোরানো প্রভাব।

জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রাণি বর্জ, প্লাস্টিক সামগ্রি দুষণ, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মৎস্য সম্পদের জন্য হবে ভয়ংকর পরিণতি। এতদ্ব্যতীত জীবাশ্ম জ্বালানীর ভষ্ম, পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা থেকে উদগত তেজষ্ক্রিয়তা পৃথিবীর জন্য চিরস্থায়ী দুষণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এক্সিটার ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক বৃটিশ অ্যান্টার্কটিকা জরীপকারীরা অ্যান্টার্কটিকার গর্ভে প্রতি বছর দুষণ উপাদানের মিশ্রণ ও গত ১৫০ বছরব্যাপী শৈবাল উৎপাদনের ওপর গবেষণা করেছেন।

ড. ম্যাচ এ্যামেসরুরি যিনি গবেষকদের একজন, তিনি বলেন, আমরা অ্যান্টার্কটিকায় ব্যাপক আকারের নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি।

‘গড়পড়তায় ১৯৫০ সালের আগে ও পরে অ্যান্টার্কটিকায় শৈবাল জন্মানোর হার বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ থেকে ৫ গুণ।’

তিনি আরও বলেন, “অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের ভিন্ন ভিন্ন তিনটি এলাকার ১০০০ কিমি এলাকায় গবেষণা করে দেখেছি যে,  আমাদের শৈবাল ব্যাংকে শৈবাল জন্মায় তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।’

‘সেল বায়োলজি’ জার্নালে গবেষকগণ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে শৈবাল জন্মানোর হার আরও ভয়ংকর।

‘আমাদের ওই গবেষণার ফলাফল বলে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে শৈবাল জন্মিয়ে মহাদেশটিকে সবুজের সমারোহ ভরিয়ে তুলবে।’

‘আমাদের ধারণা- হিমবাহের পরিবর্তন ও বরফ গলছে যা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঘটছে এবং শৈবাল উৎপাদন বেগবান হচ্ছে।’

যাহোক দীর্ঘদিনের ব্যবধানে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের যে বর্তমান রূপ পেয়েছে তা পরিবর্তন হচ্ছে খুব দ্রুতগতিতে।

ড. এ্যামেসরুরি বলেন, ‘অ্যান্টার্কটিকার মহাদেশের ০.৩৪% এলাকা প্রাথমিকভাবে বরফমুক্ত।’

‘আমরা বলছি অ্যান্টার্কটিকা সবুজে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমাদের গবেষণার ফলাফল বলছে যে, শৈবাল বংশবৃদ্ধি এত দ্রুত হচ্ছে যে, সেদিন আর দূরে নেই অ্যান্টার্কটিকার মহাদেশ শুভ্র থেকে সবুজের দেশে পরিণত হবে।

‘কিন্তু দৃশ্যত: ‘এই বরফ শুভ্রতার সবুজের সমারোহ আমাদের ভাবিত করে।’

যারা সন্দেহ করেন বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে মাত্র তাদের সতর্ক হওয়া দরকার। ড. এ্যামেসবুরি বলেন, ‘দূরত্বের ও দুর্গমত্যার বিবেচনায় অ্যান্টার্কটিকা হলো পৃথিবী নামক গ্রহের শেষ প্রান্তে অবস্থিত, যেখানে মানুষের পদার্পণ ছিল কদাচিত।’

‘কিন্তু এটি নির্জলা সত্য যে, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ, বিশেষ করে অ্যান্টার্কটিক উপদ্বীপ মনুষ্য সৃষ্ট দুষণে নাকাল হয়ে উঠছে।

অ্যান্টার্কটিকার অন্য গবেষক প্রফেসর ড্যান চারম্যান বলেন, ‘পরিবর্তন খুবই লক্ষণীয়। তিনি বলেন, ‘গত উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে শৈবাল জন্মানো বলে দেয় যে, আসছে উষ্ণতা বৃদ্ধি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকার ‘প্রতিবেশ ব্যবস্থা’ ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং যা এই এলাকার প্রাণি বৈচিত্র্যের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাবে।’

‘সংক্ষেপে বলা যায়, সুপ্রতিষ্ঠিত অ্যান্টার্কটিকার সবুজায়নের সঙ্গে সমতায় অ্যান্টার্কটিকার সবুজিকরণ ঘটছে।’

‘যদিও আমাদের তথ্য-উপাত্তে কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।’

ন্যাচারাল এনভারয়নমেন্ট রিচার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে গবেষকরা এই গ্রহে মানব কার্যকলাপ শুরুর পূর্বে হাজার হাজার বছর পূর্বের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, কতটুকু, কীভাবে জলবায়ুর পরিবর্ত ‘প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে’ প্রভাবিত করছে তা স্টাডি করছেন।

দ্য ইন্ডেপেনডেন্ট অবলম্বনে রেজা আফসারী