ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 5 months ago

ট্রাম্প-এরদোগান বৈঠক : সম্পর্কের মাইলফলক



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগানের নেতৃত্বকে প্রশংসা করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপে এরদোগানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে এবং এ সম্পর্ক দিন দিন আরও উন্নতি হবে।’

মি. ট্রাম্প টার্কিকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি তার্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাণিজ্যক সম্পর্ক বৃদ্ধি ও সামরিক পণ্য বিক্রির বিষয় আলোচনা করেছেন।

মি. এরদোগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে পুলিশের বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীর কয়েকজন আহত হন।

মি. তাইয়েপ আরও বলেন, ‘আমাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে আমাদের উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ করে এই অঞ্চল ও পৃথিবীব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা হবে।’

‘আমাদের বিদ্যমান সম্পর্কের আরও বেগবান করার লক্ষ্যে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রে আমার সফর ইতিহাসের মোড় ঘুরাবে।’

সমালোচকরা মি. ট্রাম্প ও এরদোগানের সফরকে জাস্টিন ট্যুডেন, ম্যালকম টার্নফিল ও এঞ্জেলো মারকেসের উষ্ণ আলোচনা ও সম্বর্ধনার সঙ্গে তুলনা করেন।

 

বারাক ওবামা প্রশাসন টার্কিতে মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও তুরস্কে সরকারের উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আমেরিকা প্রবাসী ফাতাহ গুলেনকে তুরস্কে প্রেরণে অস্বীকার করে বলে তিনি নিজেকে ‘নিভৃতচারি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি, তুরস্কের দাবির সঙ্গে একমত নয় যে, ফাতাহ গুলেন তুরস্কে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বরং এসব দেশ মনে করে, তুরস্ক ভিন্নমতাবলম্বী বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন করছে।

ওয়াশিংটন পোস্টে মি. গুলেন এক নিবন্ধে লিখেন, ‘তুরস্ক প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার একনায়কত্বে পরিণত হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিন্নমত দমন করছেন।’

‘আমি প্রার্থনা করি অনতিবিলম্বে এই স্বৈরতন্ত্র দূরীভূত হবে।’

মি. এরদোগানের মুখপাত্র মি. ইব্রাহিম কেলিন বলেন, গুলেনের সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ফেটো’ (FETO) কে আলোচনা হয়েছে। এটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হলেও বিস্তারিত বলেননি।

দুই নেতার আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াশিংটনকে তুরস্ক দূতাবাসের সম্মুখে সরকারবিরোধীদের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় যে, স্যুট-বুট পরা কয়েকজন ব্যক্তি কুর্দিপন্থী ও এরদোগান বিরোধীদের মারধর করছেন। আহত কয়েকজন রক্তমাখা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ইমার্জেন্সি সরকারি সূত্র জানা যায়, ৯ জন ওই সংঘর্ষে আহত হন ও দুইজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপরাধে।

তার্কি সরকারি সংবাদ সংস্থা অ্যাসাডলু সূত্রে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান মি. ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষণকাল পরে ওয়াশিংটনের তার্কি দূতাবাসে পরিদর্শনের সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। সরকারি এই সংবাদ মাধ্যমে বিক্ষোভকারীগণের সন্ত্রাসী সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

ওই সূত্রে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীগণের প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর না হওয়ায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে যায় বিক্ষোভ দমনে। যদিও ছবিতে দেখা যায়, আমেরিকার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমনে এগিয়ে যায়।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়ে বাউজার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা আমেরিকার অধিকার লঙ্ঘনের সমরূপ।’

হোয়াইট হাউস থেকে এ হামলা বিষয় কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমালোচনা করা হয় এরদোগানের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য । গত মাসে গণভোটে সংবর্ধনা সংশোধনের ক্ষমতা পেয়ে এরদোগান তাঁর প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা একচেটিয়া বর্ধিত করার উদ্যোগ নেয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দ এরদোগানকে কঠোর সমালোচনামুখর।

দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, কুর্দি বিদ্রোহীদের আইএসআইএস দমনে আমেরিকার অস্ত্র সহযোগিতার ইস্যুকে নিয়ে। তার্কি সরকার ‘পিকেকে’ সমর্থককে অস্ত্র সহযোগিতার বিরোধীতা করে আসছে।

গত মাসে তার্কি সরকারি সেনাবাহিনী আমেরিকা বাহিনীর অবস্থান থেকে মাত্র ৬ মাইল অদূরে সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দি বাহিনীর ওপর বোমা হামলা চালায়। তার্কি সরকারি পক্ষ এ ধরনের আরও হামলা করার কথা বলে।

মি. ট্রাম্প ও এরদোগান আলোচনায় মিলিত হয় কয়েকদিন মাত্র পর যখন জুলাই মাসে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে ১৫,০০০ সিভিল সারভন্টস, নিরাপত্তা কর্মকর্তা, বিচারক, সরকারি কৌশলী শিক্ষাবিদকে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে । সরকারি মাধ্যমে দাবী করা হয়েছে, ৬০ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মী, ২৫ জন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গুলেনপন্থী উত্থান-মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে উস্কানি দেয়ার অপরাধে।

গত সোমবার বিরোধী অনলাইন পত্রিকার সম্পাদককে আদালত কারাবাস দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সন্ত্রাসবাদী প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন।

গুলেনপন্থী সমর্থক সম্পাদক ওগুজ গুভেন, যিনি কুমহুরিয়েত থেকে এক ডজন বামপন্থী সাংবাদিক নিয়ে প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন তাকে ৪৩ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জার্মান সরকার ডাই ওয়েন্টের সাংবাদিক ডেনিস ইউসেল, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার মুক্তির দাবি করছে।

এরদোগান বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করেছেন। বিচারক ও কৌসুলি পরিষদে এরদোগানের একে দল ও সমর্থক শরীক দল এমএইচপি থেকে ৭ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দ্য ইন্ডেপেনডেন্ট ইউকে অবলম্বনে রেজা আফসারী