ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

ভেসে আসা রহস্যময় প্রাণীটির পরিচয় মিলেছে



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার সেরাম দ্বীপে ভেসে আসা প্রাণীটি আসলে বেলিন তিমি বলে নিশ্চিত করেছেন সমুদ্র প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন, প্রাণীটি বিশালাকার একটি স্কুইড।

ওসন কনজারভেন্সির প্রধান বিজ্ঞানী জর্জ লিওনার্ড জানিয়েছেন, ৫০ ফুট লম্বা, চার মিটার চওড়া এবং ৩৫ টন ওজনের বিশাল প্রাণীটি আসলে বেলিন তিমি। কোনও কারণে গুরুতর আহত হয়ে তার দেহ থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। ফলে রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল সমুদ্রের পানি। মৃত অবস্থায় তীরে ভেসে এসেছিল প্রাণীটি। পচন ধরে যাওয়ায় তিমির দেহে বিকৃতিও শুরু হয়েছিল। পচে যাওয়া শরীর গ্যাসে ভরে গিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার ইন্দোনেশিয়ার সেরাম দ্বীপে। গত বুধবার এখানেই হঠাৎ বিরাট পাথরের মতো এক প্রাণীর দেহ পানির উপর ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। যে জায়গায় প্রাণীটিকে দেখা গিয়েছিল, সেখানের পানি ছিল টকটকে লাল।

সারা বিশ্বে বেলিন তিমির মোট ১৫টি প্রজাতি রয়েছে। মূলত উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ঠান্ডা পানিতেই এদের বেশি দেখা মেলে। অত্যাধিক শিকার, সামুদ্রিক দূষণ এবং সমুদ্রে অ্যাসিডিফিকেশনের কারণে বর্তমানে বিপন্ন তিমির এই প্রজাতি।

মালুকু দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ সেরাম। সাধারনত বছরের এই সময়ে বেলিন তিমিরা মাইগ্রেশন করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সেরাম দ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে যাওয়ার সময় সম্ভবত অতিরিক্ত গরম পানির সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয়েছিল প্রাণিটির। এছাড়া জাহাজে আঘাত লেগে মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা জানান, তিমি মারা গেলে সাধারণত সমুদ্রের একেবারে নিচে চলে যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে মৃত্যুর পর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে তিমিটির দেহে পচন গ্যাস জমা হয়েছিল। ফলে অস্বাভাবিক ভাবে ফুলে গিয়েছিল সেটি। আর এই কারণেই জলের ওপর ভেসে ওঠে তিমিটির দেহ।

পচে যাওয়া তিমির দেহ থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তা থেকে স্থানীয় এলাকায় সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই তিমির মরদেহটি দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন গ্রামবাসীরা।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচআর