ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

বিল না মেটানোয় অক্সিজেন বন্ধ, ৪৮ ঘণ্টায় ৩০ শিশুর মৃত্যু



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্বাচনী কেন্দ্র গোরক্ষপুরেই ঘটল ভয়াবহ ঘটনা। গোরক্ষপুরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল বাবা রাঘব দাস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে দু’দিনে মৃত্যু হল ৩০ জন শিশু।

 

 

হাসপাতাল সূত্রে খবর, যে সংস্থা অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাদের ৬৭ লাখ বকেয়া। সেই টাকা না পেয়ে ওই সংস্থা অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলেই এতজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাশাসক রাজীব রৌতেলা অবশ্য দাবি করেছেন, অক্সিজেনের অভাবে কোনও শিশুর মৃত্যু হয়নি।

 

 

যে সংস্থা অক্সিজেন সরবরাহ করে, তাদের বকেয়া অর্থের কিছুটা মিটিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ত কবীর নগর জেলা থেকে অক্সিজেন নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। তবে যদি অক্সিজেনের অভাবে এতগুলি শিশুর মৃত্যু না হয়ে থাকে, তাহলে কী কারণে মৃত্যু হল সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি জেলাশাসক।

 

 

দু’দিন আগেই এই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন আদিত্যনাথ। তিনি সেখানকার ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। এরপরেই ঘটল এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মৃত শিশুদের অধিকাংশই এনসেফেলাইটিসে ভুগছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতির শিকার হল তারা।

 

 

হাসপাতাল সূত্রের খবর, অক্সিজেন সরবরাহকারী সংস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিল মিটিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল মেটানোর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। হাসপাতালের কর্মীরা মজুত থাকা অক্সিজেনের পরিমাণ কমে আসার কথা জানান। এরপরেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। ৩০ জনকে এই গাফিলতির শিকার হতে হল। বৃহস্পতিবার রাতেই ২০ শিশুর মৃত্যু হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সরবরাহ চালু করার ব্যবস্থা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে আজ ফের বন্ধ হয়ে যায় অক্সিজেন। এর ফলে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়।

 

 

জেলাশাসক বলেছেন, শিশুগুলির মৃত্যুর কারণ জানার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং অবশ্য অক্সিজেনের অভাবে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অক্সিজেন বন্ধ হয়ে নয়, অন্য কারণে মৃত্যু হয়েছে শিশুদের।

 

শিশুদের মৃত্যুর জন্য অক্সিজেনের অভাবকে দায়ী করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা বলছেন, তখনকার মতো অন্য জেলা থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনে পরিস্থিতি সামলানো হয়েছে।
বাংলা রিপোর্ট/এফএম