ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

জেমস কেমিকে যে কারণে বরখাস্ত করা হয়



প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেমস কেমিকে বহিষ্কারের পূর্বে রাশিয়া সংক্রান্ত তদন্তে অধিক সম্পদ বরাদ্দ চায়।

এফবিআইয়ের বরখাস্তকৃত পরিচালক জেমস কেমি ২০১৬ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্তের বিষয় অধক সম্পদ বরাদ্দ চান। যার পর তৎক্ষণাৎ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন।

সূত্র জানায়, মি. কেমি জাস্টিস ডিপার্টমেন্টকে তদন্ত দ্রুতগামী করার জন্য সম্পদ বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য বলেন। এই অনুরোধ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে জানানো হলে রড ব্রোসেটাইন পরবর্তীতে এক স্মারকের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়মিত অবহিত করেন সংশ্লিষ্টকে। এবং এই স্মারকপত্র জেমস কেমির বরখাস্তের প্রাথমিক কারণ মর্মে মনে করা হয়।

জেমস কেমিকে বহিষ্কারের পূর্বে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির দুইজন শীর্ষস্থানীয় সিনেটর সোমবার তদন্তটিকে দ্রুত সম্পন্ন করতে বলেন। জেমস কেমি রিপালিকান সিনেটর রিচার্ড বার ও ডেমোক্রাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারের কাছে স্বীকার করেন যে, ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার ‘নাক গলানো’ সংক্রান্ত তদন্ত ধীরে চলছে। সূত্র : সিএনএন

জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, প্রারম্ভিকভাবে জানা যায় যে, মি. কেমি তদন্তে অর্থ বৃদ্ধি করতে বলেছিলেন কিন্তু আসলে তা নয়, কেমি তদন্ত গতিশীল করতে অধিক সম্পদ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।

জেমস কেমির আকস্মিক বহিস্কার ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক আকাশে মেঘ অধিক ঘনীভূত করে।

হিলারী ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার বিষয়ে এফবিআই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুপারিশ করেনি।

গত জুলাই মাসে সংবাদ সম্মেলনে জেমস কেমি এ সংক্রান্ত বক্তব্য দেন, সে বক্তব্যের উদ্ধৃত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মি. রোজেনটাইন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনকে স্মারক লিখে এফবিআই পরিচালক জেমস কেমিকে বরখাস্ত করতে বলেন। স্মারক-এ আরও উল্লেখ করা হয়, জেমস কেমির অক্টোবর মাসের পত্র যাতে, মি. কেমি উল্লেখ করেন, এফবিআই হিলারীর ই-মেইলে তদন্তের নতুন তথ্য পেয়েছে এবং এফবিআই পুন: তদন্ত আরম্ভ করতে যাচ্ছে। অবশ্য কয়েকদিন পরে এফবিআই ই-মেইলে তদন্তের নতুন কোনো তথ্য পায়নি মর্মে বি দেয়।

মি. রোজেনটাই যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, কেমি ওই পাবলিক বিবৃতি দিয়ে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন, সঙ্গে তিনি চলমান বিচারকার্যকে আঘাত করেন।

মি. ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলাকালে হিলারী ক্লিনটনের ই-মেইল বিষয় তদন্ত কার্য পুন: শুরু করার ঘোষণার প্রশংসা করেন।

কিন্তু কংগ্রেসের কিছু সদস্য রিপাবলিকানসহ প্রায় পূর্বের এক বছর কোনো ইস্যুকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত বিষয় তদন্তকে একটি প্রজ্ঞাসম্পন্ন নয় মর্মে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। জেমস কেমিও সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, তিনি খানিকটা অস্বস্তি’বোধ করেন যে, মিসেস ক্লিনটনের ই-মেইল বিষয় আবার তদন্ত করতে যাচ্ছেন এমন ঘোষণা দিয়ে মি. ট্রাম্পকে অনুকূল হাওয়ায় পাল বাইতে সহায়তা করেছিলেন এফবিআই পরিচালক জেমস কেমিকে বরখাস্তের সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড সিনেটে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চলমান তদন্তটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যতীত শেষ করা জরুরি। এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত হবে সর্বজন শ্রদ্ধেয়, যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া যিনি এই দুঃসময়ে এফবিআই পরিচালনা করতে পারবেন।

সিনেট সদস্য কুকার ও অন্যান্য প্রভাবশালী সিনেট সদস্য মি. যুর, জন ম্যাককেইন এবং মি. বুকার মি. কেমির বরখাস্তের বিষয় বলেন, বেচারা সময় ও পরিস্থিতির কারণে সংকটে নিপতিত হন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে ভাষান্তর রেজা আফসারী