ব্রেকিং নিউজঃ

মর্যাদার লড়াইয়ে আবাহনীর জয়  ***  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে কুপিয়ে হত্যা  ***  রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য ছাদহীন খোলা কারাগার, দশকের পর দশক ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের শিকার এই বাসিন্দারা-অ্যামনেস্টি  ***  জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শুক্রবার শপথ নিতে যাচ্ছেন দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নাঙ্গাগওয়া  ***  চট্রগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে তিন কেজি স্বর্ণসহ এক যাত্রী আটক  ***  সরকার দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে- মির্জা ফখরুল  ***  মানবতাবিরোধী অপরাধে বসনিয়ার ‘সাক্ষাৎ শয়তান’ রাতকো ম্লাদিচের যাবজ্জীবন  ***  দ. কোরিয়ায় পালাতে গিয়ে সহকর্মীদের গুলিতে নিহত উ. কোরীয় সৈনিক  ***  জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ন্যানগাওয়ের শপথ শুক্রবার, আজ রাতে পালাতে পারেন মুগাবে  ***  কুড়িগ্রামে মৌমাছির কামড়ে ৩৭ জন শিক্ষার্থীসহ আহত অর্ধশতাধিক
Published: 5 months ago

‘ডুব’ নিয়ে ফারুকীর খোলামেলা কথা



বিনোদন  ডেস্ক:

কিছুদিন আগে কলকাতায় এসেছিলেন মোস্তাফা সরোয়ার ফারুকী। ‘ডুব’ মুক্তি এখনও অনিশ্চিত। তবে ছবি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী পরিচালক। খোলামেলা আড্ডা দিলেন ‘ওবেলা’র সঙ্গে।

কেউ আমার মত-পথকে সমর্থন করেন না বলেই তাঁকে ধ্বংস করে ফেলতে হবে, এটা মানা যায় না

• বাংলাদেশের সেন্সরের ছাড়পত্র পায়নি ‘ডুব’। এদিকে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবিটা ইতিমধ্যেই প্রশংসিত…।
সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি, এটা মানতে আমি রাজি নই। ওঁরা ছবিটা নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে সময় নিচ্ছেন। তবে এটাও ঠিক, এই সিদ্ধান্ত জানানো নিয়ে সেন্সর বোর্ডের অকারণ দেরি আমাকে আহত করছে। এই রকম পরিস্থিতি বিশ্বের কোনো ফিল্মমেকারের কাছেই মধুর অনুভূতির কারণ হতে পারে না! বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আমার ছবি প্রশংসিত হচ্ছে, কিন্তু আমার নিজের দেশে ছবিটা ছাড়পত্র পাচ্ছে না— এটা একটা মিশ্র অনুভূতির জন্ম দেয়। তবে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তাঁরা এটাও জানেন, যে ছবিটা আটকে রাখার মতো কোনও কারণ তাঁদের কাছে নেই। বরং ছবিটা আটকে রাখাটাই বেআইনি। আশা করি, সরকার দ্রুত ছবিটা ছাড়পত্র দেওয়ার বন্দোবস্ত করবেন।

 

• সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জীবনকে নিয়ে ছবি বলেই কি ‘ডুব’এ আপত্তি ?
‘ডুব’ কিন্তু কারও বায়োপিক নয়। তাই ছবির বিষয়বস্তু নিয়ে উত্তর দেওয়াটা অর্থহীন। ছবির চিত্রনাট্যে এমন কিছু রয়েছে, যা নিয়ে আমাদের দেশের সরকার চিন্তিত— এমনটাও কিন্তু নয়! কারণ, বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ডের প্রতিটা নিয়ম মেনেই আমরা ছবিটা বানিয়েছি। সেন্সর চিত্রনাট্য দেখে ছাড়পত্র দিয়েছিল বলেই তো আমরা ছবিটা নিয়ে এগিয়েছিলাম।

 

• হুমায়ুন আহমেদের বায়োপিক নয় বলছেন?
একেবারেই নয়। জাভেদ হাসান নামের একজন ফিল্মমেকারের জীবন আমরা গল্পে দেখিয়েছি। দেখুন, আশপাশের জীবন থেকে রসদ নিয়েই তো গল্প লেখা হয়। এমনকী, আমার প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদও সেটাই করতেন। জীবন থেকে নেওয়া হয় বলেই তো প্রতিটা গল্প কোনও না কোনও মানুষের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। আমার কেরিয়ারের প্রতিটা ছবির গল্পই কোনও মানুষের জীবন থেকে নেওয়া। হুমায়ুন আহমেদের বায়োপিক বানাতে চাইলে, ওঁর জীবনের প্রতিটা ঘটনা হুবহু গল্পে তুলে ধরতে হতো। সেটা আমি করতে চাইনি। আমি ফিকশন বানাতে চেয়েছিলাম। গল্পের সত্য এবং তথ্যের সত্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে— সেটা আমাদের এবার বুঝতে হবে।

 

• ‘ডুব’এর ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের মনে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশের দর্শকের মনেও কি একই রকম কৌতূহল?
(একটু ভেবে) আমার ধারণা, এখানকার থেকেও বেশি কৌতূহল ওদেশের মানুষের মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিন আমার ফেসবুক প্রোফাইলে কম করে ২৫০টা মেসেজ পাই। সকলের একটাই প্রশ্ন, ‘ডুব’ করে মুক্তি পাবে!

 

• ছবির প্রধান চরিত্রে রয়েছেন ইরফান খান। যিনি আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক তারকা। কেমন লাগল ওঁর সঙ্গে কাজ করে?
শ্যুটিংয়ের সময় আমার কিন্তু ওঁকে ছবির আর পাঁচজন অভিনেতার মতোই মনে হয়েছে। কখনও মনে হয়নি, সেট’এ একজন স্টার ঢুকছেন। এছাড়াও ছবিটায় বাংলাদেশের নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং কলকাতার পার্নো মিত্র অভিনয় করেছেন। শুধু আমার কেন, তাঁদেরও কারও মনে হয়নি যে উনি ইরফান খান! দ্য ইন্টারন্যাশনাল স্টার।

 

• ‘ডুব’ আপনার কেরিয়ারের ষষ্ঠ ছবি। এক জনপ্রিয় হলিউড পত্রিকার মতে, আপনি বাংলাদেশের ‘লিডিং’ ফিল্মমেকারদের মধ্যে একজন।
আমি কেন ছবি বানাই জানেন? কারণ চিত্রগুলো আমাকে রাতে ঘুমোতে দেয় না। চরিত্রগুলোর অসহায়তা আমাকে কষ্ট দেয়। যে ছবির চরিত্রগুলো আমাকে বেশি যন্ত্রণা দেয়, সেই ছবিটা আমি আগে বানাই। কিছু চরিত্র আমাকে এত যন্ত্রণা দেয়, যে আমার জ্বর এসে যায়! আমি ছবি বানাই এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। দর্শকের যদি আমার কাজ ভাল লাগে, বা হলিউডের কোনও পত্রিকা যদি আমাকে লিডিং ফিল্মমেকার হিসেবে ব্যাখ্যা করেন— পুরো বিষয়টাকে আমি ভালবাসা হিসেবেই নিই। তবে এই প্রশংসা আমার গল্প বলার প্রক্রিয়াকে একেবারেই প্রভাবিত করে না।

 

• বাস্তববাদী গল্প বলাই নাকি আপনার সাফল্যের চাবিকাঠি।
দর্শক শিল্পীর কাজ কেন পছন্দ করছেন, সেটা শিল্পী কখনওই জেনে যেতে পারেন না। তবে ছবি বানানোর সময় নিজের কাছে সৎ থাকার চেষ্টা করি। অনেকে বলেন, আমার গল্প বলার ধরনটা নাকি আলাদা। হয়তো আমার স্বভাবটা একটু অন্যরকম বলেই, আমার ছবির গল্পের বুননটা অন্যরকম।

 

• গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে অনেক নতুন ধরনের ছবি তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে সিনেমায় কোনও নতুন ওয়েভ এসেছে কি না জানি না। কিন্তু বিদেশের অনেক পত্রিকাই বলছে, বাংলাদেশে নাকি অনেক নতুন পরিচালক উঠে আসছেন। যাঁদের গল্প বলার ধরন অনেকটাই আলাদা। আমার মনে হয়, এটা হয়েছে ২০০০ সালের পর টেলিভিশনের হাত ধরে। একটা সময় আমরা সিনেমায় নতুন গল্প বলতে পারতাম না। তখন টেলিফিল্ম বানাতাম। যদি বছরে ১০-১২টা নতুন ধারার ছবি বানানো যায়, তাহলে বোঝা যাবে নতুন স্রোত এসেছে।

 

• এখন তো যৌথ প্রযোজনার ছবির রমরমা। কিন্তু টিপিক্যাল মসালা ছবি ছাড়া সেভাবে যৌথ প্রযোজনার কোনও ছবি নেই কেন?
আমি যৌথ প্রযোজনা সমর্থন করি। পশ্চিমবঙ্গের বাজারের উপর নির্ভর করে বাংলা ছবি বাঁচতে পারবে না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টা প্রায় একই। যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলো কমন বাজার পাচ্ছে ব্যবসার জন্য।

কিন্তু সহজ বিনিয়োগ বলেই তামিল-তেলুগু ছবির রিমেক বানানোর অর্থ হয় না। এই রকম কোনও ছবি বানাতে গেলে যে পরিমাণ খরচ হয়, তার ৩০ শতাংশ টাকায় ভাল গল্পের ছবি বানানো যায়। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ছবির একটা ঐতিহ্য ছিল। সত্যজিৎ রায়ের সময়ের কথাই ধরুন। তখন ভারতীয় সিনেমাকে পথ দেখাত বাংলা ছবি। দুই বাংলার বাজার তো এখন হাতের মুঠোয়, তা-ও প্রযোজকেরা কেন বাংলার মানুষের গল্প পরদায় তুলে ধরছেন না? এটাই তো নতুন গল্প বলার সময়।

 

• যৌথ প্রযোজনার নাকি আর্থিক সুফলটা কেবল বাংলাদেশই পাচ্ছে?
এই বিষয়টা নিয়ে ঢা়কাতেও প্রবল অসন্তোষ রয়েছে। তাঁরা আবার মনে করেন, এতে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কোনও উন্নতি হচ্ছে না। এমনকী, যৌথ প্রযোজনার নিয়মও নাকি মানা হচ্ছে না…।

• আপনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার নাকি বাক্‌স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু, সেই দেশেই মুক্তমনা ব্লগারদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়?
পৃথিবীর দিকে তাকালে মনে হয়, আমরা একটা অসহিষ্ণুতার সময় পার হচ্ছি। কেরলে অধ্যাপকের গায়ে আলকাতরা মাখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অরুন্ধতী রায়কে আক্রমণ করে কথা বলা হচ্ছে। গরু খাওয়ার অপরাধে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনেক দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিরুদ্ধ মত বা ভিন্ন মত পোষণকারীদের আক্রমণেরও শিকার হতে হয়েছে। এটা ঘৃণার সংস্কৃতি।

 

মানুষ কি তাহলে সহাবস্থানের কথা ভুলে গেল? কিছু মুক্তচিন্তা আপনি বাংলাদেশে প্রকাশ করতে পারবেন, সেটা কিন্তু অন্য জায়গায় প্রকাশ করতে পারবেন না। এই যে আমরা একটি সিলেক্টিভ পরিবেশ তৈরি করছি মুক্তচিন্তার, এটা বিপজ্জনক। আমাদের গোড়ায় ফিরে যেতে হবে। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, আমি যে ধর্মে বিশ্বাস করি না, আমি যে খাদ্যাভাসে বিশ্বাস করি না, যে যৌনাভ্যাসে বিশ্বাস করি না, যে রাজনৈতিক মতে বিশ্বাস করি না, তারও এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, সম্মানের সঙ্গে। কেউ আমার মত-পথকে সমর্থন করেন না বলেই তাঁকে ধ্বংস করে ফেলতে হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

 

বাংলা রিপোর্ট ডটকম