ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

আর্ট : শৈল্পিকভাবে বেঁচে থাকার একটি মাধ্যম



ছবি আঁকা যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি মাধ্যম ,একটি শিল্প, নিজেই তো একটি ভাষা! যেসব শিশু স্বভাবসুলভভাবে স্বল্প কথা বলে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ছবি আঁকাকে কিন্তু দারুণ এক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাকহীন শিশুদের জন্যও কিন্তু এই পন্থা প্রয়োগ করা যেতে পারে। আসলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটা মাধ্যম তো চাই!  ছবি আঁকার গুরুত্ব নানা দিকে। বিশেষ করে শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অনন্য।

একটা শিশুকে যখন আমরা ছবি আঁকতে দেই, তখন শিশুটি তার বয়সের একেবারে শুরুর দিকে খাতায় নানা আঁকিবুঁকি কাটতে থাকে। এর মানে আমরা না বুঝলেও বোঝে শিশুটি নিজে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে আধো আধো বোলে সে অনেক কিছুই বলার চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে আমরাও যখন নানা শব্দ জুড়ে দিয়ে তার ভাব বোঝার চেষ্টা করি, তখনই কিন্তু শিশুর ভাষা শেখার প্রক্রিয়াটা শৈল্পিকভাবেই শুরু হয়ে যায়। শিশুরা যখন আঁকে তখন কথা বলাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কী আঁকছে, তার বর্ণনা যখন ওরা করে, তখন বক্তা ও শ্রোতার মাঝে একটা বন্ধন তৈরি হয়। এই বন্ধন শিশুর সামাজিক উন্নয়নের পক্ষে জরুরি ভূমিকা পালন করে। এ কেবল আমাদের সঙ্গে বলে নয়! শিশুরা নিজেদের মধ্যেও যখন তাদের সৃষ্টি নিয়ে কথা বলে, তখন তাদের আপন আপন শিল্প নিয়ে পারস্পরিক এই আলাপ সামাজিক বন্ধন জোরালো করার ক্ষেত্রে সত্যিই এক দৃপ্ত পদক্ষেপ।

ধরা যাক, একটি শিশুকে ছবি আঁকতে দেয়া হলো। ছবি আঁকার আগে শিশুটিকে বলা হলো, ‘তুমি তোমার চারপাশ থেকে দেখে একটি ছবি আঁকো।’ শিশুটি শহুরে হলে তার বাড়ির ভেতরের পরিবেশ, বাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে চারপাশের পরিবেশ দেখে কিছু একটা আঁকার চেষ্টা করবে। আর যদি গ্রামে হয় তাহলে মাঠে, ঘাটে, বাগানে দৌড়ে বেড়াবে। পরিবেশ যা-ই হোক, মূল বিষয়টি হচ্ছে শিশুর মধ্যে একটা কৌতূহল তৈরি হবে। সে চারপাশে তাকাবে। পর্যবেক্ষণ করবে। এভাবে পর্যবেক্ষণের শুরুটা শিশুর মধ্যে পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক দক্ষতা তৈরি করে। এর পর শিশুটি যখন ছবি আঁকতে শুরু করবে, তখন সে রঙ নির্বাচন করবে, বিবিধ বস্তুর আকৃতি সম্পর্কে ভাববে, ছবিতে মানুষ থাকলে বা ঘর থাকলে একে অন্যের মধ্যে আয়তনগত দিকে একটা তুলনা চলে আসবে। এ বিষয়গুলো কিন্তু আবার তার মধ্যে গাণিতিক দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
ছবি আঁকতে আঁকতেই একটি শিশুর মেধা সবার সামনে উন্মোচিত হয়। সে পদ্ধতিগতভাবে তার কল্পনাকে বাস্তব রূপ দিতে পারে। তার চিত্রকর্মে  গ্রামবাংলার দৈনন্দিন চিত্র ফুটে ওঠে। এভাবে যদি সে নিয়মিত সপ্তাহে এক কি দুদিন কয়েক ঘণ্টা করে ছবি আঁকা অনুশীলন করে, তখন সে অদূর ভবিষ্যতেই হয়ে উঠতে থাকে একজন অধ্যবসায়ী মানুষ।

অনুশীলনের ব্যাপার। মাধ্যম যা-ই হোক না কেন, অনুশীলন করা চাই। আর আঁকাআঁকিকেই যদি মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়, তখন এই বড় হয়ে ওঠাটা এগোতে থাকে শৈল্পিকভাবে।

আসলে ছবি আঁকার সুবিধা অনেক! এই যেমন বুদ্ধিমত্তার দিকটি বিকাশ করে, ঠিক তেমনি সামাজিক আবেগগুলো অনুধাবনেও সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনেও যুক্ত করে নতুন মাত্রা, আনে আনন্দ।

ছবি আঁকার ক্ষেত্রে বহু মাধ্যম ব্যবহার করা যায়। পেপার, পেন্সিল, ক্রেয়ন, মার্কার, মডেলিং ম্যাটেরিয়াল (কাদা, ময়দা), প্যাস্টেল, কাঁচি, আঠা, রঙ ও তুলি, ফাউন্ড অবজেক্ট (বোতাম, পুঁতি, স্ট্যাম্প, সুতা ইত্যাদি)। আর ভিজুয়াল আর্ট বা দৃশ্যগত ছবির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হল লাইন, আকৃতি, রঙ, টেক্সচার ও অবকাঠামোগত নীতি।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এ এইচ