ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 1 month ago

চলে গেলেন লেখক ও নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা



বাংলা  রিপোর্ট ডেস্ক:

দেশবরেণ্য নিসর্গবিদ অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা আর নেই। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ছাড়াও ফুসফুসে সংক্রমণে ভোগা দ্বিজেন শর্মাকে হাসপাতালটির আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত ২৩ জুলাই দ্বিজেন শর্মাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৯ জুলাই তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ১০ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৮ আগস্ট থেকে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।সেখান থেকে গত বুধবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়৷

মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিজেন শর্মার মেয়ে শ্রেয়সী শর্মা লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই ‘নিসর্গসখা’র শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে যেন দাহ না করে সিলেটের বড়লেখায় গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়। আপাতত মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।

১৯২৯ সালের ২৯ মে সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে কবিরাজ চন্দ্রকাণ্ড শর্মা ও সমাজসেবী মগ্নময়ী দেবীর ঘরে জন্ম নেন দ্বিজেন শর্মা। বাবা ভিষক বা গ্রাম্যভাষায় কবিরাজ ছিলেন বলে বাড়িতেই দেখেছেন নানা লতাপাতা আর বৃক্ষের সমাহার। প্রজাপতি ডানা মেলা দিনগুলোতে পাথারিয়া পাহাড়ের আরণ্যক নিসর্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। সেখান থেকেই হয়তো গাছপালার প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার জন্ম।

শৈশবেই গ্রামের পাঠশালায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর করিমগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুলে পড়াশোনা। মায়ের ইচ্ছে ছিল ছেলে ডাক্তার হবে; কিন্তু প্রকৃতিপ্রেম তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করল। আর তাই কলকাতা সিটি কলেজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (১৯৫৮) ডিগ্রি লাভ করেন।

দ্বিজেন শর্মা উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে চাকরি করেছেন করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ ও নটর ডেম কলেজে। পরে মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে চাকরি করেছেন প্রায় কুড়ি বছর। এরপর দেশে ফিরে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে। বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

দ্বিজেন শর্মার লেখা বইয়ের মধ্যে রয়েছে—‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘গাছের কথা ফুলের কথা’, ‘এমি নামের দুরন্ত মেয়েটি’, ‘নিসর্গ নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘জীবনের শেষ নেই’, ‘বিজ্ঞান ও শিক্ষা : দায়বদ্ধতার নিরিখ’, ‘ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘বিগল যাত্রীর ভ্রমণ কথা’, ‘গহন কোন বনের ধারে’, ‘হিমালয়ের উদ্ভিদরাজ্যে ডালটন হুকার’, ‘বাংলার বৃক্ষ’ ইত্যাদি।

১৯৬০ সালে বরিশালে দেবী চক্রবতীর সঙ্গে বিয়ে হয়। ছেলে ডা. সুমিত শর্মা ও কন্যা শ্রেয়সী শর্মা। ড. দেবী শর্মা ঢাকার সেন্ট্রাল উইমেনস কলেজের দর্শনের সাবেক অধ্যাপিকা।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম