ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

নদীভাঙা হাওরাঞ্চলের মানুষকে বাড়ি করে দেবো: প্রধানমন্ত্রী



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

নদীভাঙা মানুষকে ঘর নির্মাণসহ হাওরাঞ্চলে আবাসিক স্কুল করে দেয়ার এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যতদিন পর্যন্ত ফসল হবে না সরকার খাদ্য দেবে এমন আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া হাওরের ফসল রক্ষা করতে নদী খনন করার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শনে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে খালিয়াজুরীতে যান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভর দেশ গড়তে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কাজ করছে সরকার। এ সময় দেশে কোনো গৃহহীন থাকবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

হাওরবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব অঞ্চল দুর্গম অঞ্চল। আপনাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে উন্নতি হয়, সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপ নেব। এই এলাকার মানুষের যেন আর্থসামাজিক উন্নতি হয় সেজন্য আরো নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করবো। রাস্তা-ঘাট, পুল কালর্ভাট যাতে উন্নতি হয়, স্কুল কলেজে যাতে উন্নতি হয়, সে পদক্ষেপও আমরা নেব এবং আমরা নিচ্ছি।’

বন্যায় এসব এলাকার মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন সরকার সে ব্যবস্থাও নেবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি আপনাদের দেখতে এসেছি, সেই সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের কী কী সমস্যা সেটাও আমরা জানতে এসেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আপনারা হাওর অঞ্চলের মানুষ, আমরা গোপালগঞ্জবাসী বাওর অঞ্চলের মানুষ। হাওর হলো বিশাল আর বাওর একটু ছোট। তবে অবস্থা একই। আমারও টুঙ্গিপাড়া যেতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতে, নৌকায় করে গোপালগঞ্জ থেকে ৪-৫ ঘণ্টা লাগতো। আমরা আস্তে আস্তে সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করে দিয়ে দিচ্ছি।’

যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হলে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচে এটাই আমাদের লক্ষ্য। কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে এদেশের কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সকলেরই ব্যবস্থা নিয়েছি। সকলের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছি। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দারিদ্রের হার হ্রাস করেছি। এজন্য বিশ্ব আজ আমাদের অভিনন্দন জানায়।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশের করুন অবস্থার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা একবার চিন্তা করেন, ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা এদেশের উন্নতি করে নাই। মানুষের কোনো অধিকার ছিল না। একটার পর একটা ক্যু হতো, মানুষ হত্যা হতো, এই অবস্থা ছিল।’

ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আপনারা হাতে হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। বিদেশে আপনারা আত্বীয়-স্বজনকে দেখতে পান, কথা বলতে পারেন, আজকে প্রযুক্তি ব্যবহার, আওয়ামী লীগ এনে দিয়েছে। বিএনপি থাকতে কেউ পারে নাই। একটা মোবাইল ফোনের দাম ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, ফোন করলে পার মিনিট ১০ টাকা, তাও শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোথাও ছিল না। আমরা সমগ্র বাংলাদেশে করে দিয়েছে।’

এর আগে সকাল নয়টার দিকে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি হেলিকপ্টারে করে নেত্রকোণার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টরটি খালিয়াজুরী পৌঁছায়।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচআর