ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 2 months ago

সাঈদীর রিভিউ শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি



মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চে রোববার বেলা ১২টার দিকে এই রিভিউ শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিন প্রায় এক ঘণ্টা শুনানির পর এ মামলার কার্যক্রম সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আদালত।

গত ৬ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সাঈদীর রিভিউ শুনানির জন্য ১৪ মে দিন ধার্য করেন।

রবিবার প্রথম দিনে শুনানি শেষ করেন আসামিপক্ষ। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুরু হয়।

বেলা ১২টার দিকে ঐ দুই আবেদনের শুনানি একসঙ্গে শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে। প্রথমে মাওলানা সাঈদীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তার শেষ হলে বেলা একটা থেকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সোয়া একটায় সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন সর্বোচ্চ আদালত।

২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রিভিউ আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এর পাঁচ দিন পর ১৭ জানুয়ারি এ রায় থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন মাওলানা সাঈদী। তার ৯০ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস পেতে ১৬টি যুক্তি দেখানো হয়।

আপিলের রায়ে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। ১০ নম্বর অভিযোগ বিসাবালিকে হত্যা, ১৬ নম্বর অভিযোগ তিন নারীকে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং ১৯ নম্বর অভিযোগ প্রভাব খাটিয়ে ১০০-১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করার।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। ৬ নম্বর অভিযোগ লুণ্ঠনের, ১১ নম্বর হামলা ও লুণ্ঠনের এবং ১৪ নম্বর অভিযোগ ধর্ষণের।

৮ নম্বর অভিযোগের অংশবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে সাঈদীকে খালাস দেওয়া হয়। একই অভিযোগের অংশবিশেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে তাকে ১২ বছর কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। অষ্টম অভিযোগটি হত্যা ও অগ্নিসংযোগের।

এ ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে ৭ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। এই অভিযোগ নির্যাতন ও বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ।

৮ নম্বর (ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা) ও ১০ নম্বর অভিযোগের (বিসাবালি হত্যা) দায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচআর