ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 4 months ago

ভারতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলছে



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

আজ সোমবার ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জির পাঁচ বছর মেয়াদ সম্পর্ন করার পর রাইসিনা হিলসের পরবর্তী বাসিন্দা কে হতে যাচ্ছেন তা নির্ধারিত হবে আজ। রাজধানী দিল্লির সংসদ ভবন ও দেশের রাজ্য বিধানসভাগুলোতে লোকসভা, রাজ্যসভা ও বিধানসভার সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ভারতের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতিকে।

 

এবারের লড়াই দ্বিমুখী। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ, বিহারের রাজ্যপাল ছিলেন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রার্থী লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার। ভোট গণনা ২০ জুলাই। দেশের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৪ জুলাই। নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন ২৫ তারিখ।

 

প্রণব মুখার্জিকে দ্বিতীয় দফার জন্য রাষ্ট্রপতি করার যে প্রস্তাব কোনো কোনো বিরোধী দল দিয়েছিল, বিজেপি তা মানেনি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিজেপি তাদের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পেয়েছে। সেই সুযোগ হারাতে তারা রাজি হয়নি। ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদই একমাত্র দুই দফায় (১৯৫০-১৯৬২) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি গত পাঁচ বছরে রাইসিনা হিলসে কী ছাপ রেখে গেলেন? ভারতীয় সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করলেও রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জি কি স্বকীয়তার নিদর্শন রাখেননি? খুব সহজে এই দুই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, প্রতিভা পাতিলের মতো ‘রাবার স্ট্যাম্প’ কিংবা আবদুল কালামের মতো ‘বিক্ষুব্ধ জনতার রাষ্ট্রপতি’ কোনোটাই তিনি হতে চাননি। পাঁচটি বছর সাংবিধানিক আওতায় নিজেকে আবদ্ধ রেখেও প্রয়োজনের সময় উপযুক্ত পরামর্শ তিনি সরকারকে দিয়ে গেছেন। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্পর্শকাতরতাকে একই সময়ে পিঠাপিঠি সফরে তিনি যেভাবে সামলেছিলেন, তাতে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই পরিচয় মেলে।

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই বলেছেন, রাষ্ট্রপতি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁকে সৎ পরামর্শ দিয়ে গেছেন। বিভিন্ন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে গেছেন। সংবিধান ও পররাষ্ট্রনীতি, দুটি ক্ষেত্রে তিনি সব সময় পরামর্শ নিয়েছেন। কিন্তু তাই বলে এমন নয় যে এই পাঁচ বছরে শাসক দলের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মতপার্থক্য ঘটেনি।
মোদি আরো বলেছেন, সংসদকে এড়িয়ে জমি অধিগ্রহণের অর্ডিন্যান্স আনতে চেয়েছিল মোদি-সরকার। বিরোধিতা করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের কট্টরবাদিতায় সামাল দিতে চেয়েছেন। যে অভিন্ন কর ও পণ্য পরিষেবাকে (জিএসটি) মোদি-সরকার তার মুকুটের ঝলমলে পালক হিসেবে গণ্য করছে, সেই আইনের খসড়া অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন যে তাঁরই তৈরি, মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি তা। সে সময় যে রাজ্যগুলো বিরোধিতা করেছিল, গুজরাট ছিল তাদের অন্যতম। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রণব মুখার্জির সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাঁর দীর্ঘ অবিতর্কিত রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, মেধা, ক্ষুরধার রাজনৈতিক বুদ্ধি, দেশপ্রেম, মর্যাদাবোধ, সাংবিধানিক জ্ঞান ও ভারতীয় বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা। এতটাই স্মৃতিধর তিনি যে সব সময় সরকারকে অতীতের উদাহরণ দিয়ে সজাগ করে দিয়েছেন। এই সবকিছুই তাঁকে সব দলের কাছে পেতে দিয়েছিল এক অনন্য আসন। ছোটখাটো চেহারা সত্ত্বেও এমনই ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব যে তাঁর পরামর্শকে সবাই নির্দেশ বলে মেনে এসেছেন।
সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফাত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যাঁরা, তাঁদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮, রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে।

সবচেয়ে বেশি ভোট মূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের, ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, ৮। এবারের ভোটে সাংসদেরা ভোট দেবেন সবুজ ব্যালটে। বিধায়কদের গোলাপি ব্যালটে। রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যরা এই ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নেবেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পদুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪ হাজার ১২০ জন বিধায়ক।

সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট মূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সাংসদদের ভোট মূল্য ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮, বিধায়কদের ৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

 

এর আগে ১৩ বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে ভারত। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব মুখার্জী। তিনি ইউপিএ প্রার্থী ছিলেন। ৭ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৩ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম