ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 3 months ago

কুড়িগ্রামে গলদা চিংড়ি চাষে সাফল্য



বাংলা রিপোর্ট ডেস্ক:

লোনা পানিতে বেড়ে ওঠা সাদা সোনা বা গলদা চিংড়ি এখন পরীক্ষামূলকভাবে কুড়িগ্রামের স্বাদু পানিতে চাষ উপযোগী করে সাফল্য অর্জন করেছে কুড়িগ্রাম সরকারি মৎস খামার। চিংড়িচাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় এই সফলতা দেখালেন খামার ব্যবস্থাপক মুসা কালিমুল্লা।

খামার ব্যবস্থাপক মুসা কালিমুল্লা জানান, ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সদর উপজেলা মৎস বীজ উৎপাদন খামারে স্বাদু (মিঠা) পানিতে গলদা চিংড়ি চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী জেলার দুমকি এলাকা থেকে পায়ড়া নদীর মা গলদা চিংড়ি সংগ্রহ করা হয়। কক্সবাজার থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ট্রাকে করে লোনা পানি ( ব্রাইন ওয়াটার) নিয়ে চিংড়ি হ্যাচারীতে হ্যাচিং শুরু করা হয়। গত আড়াই বছর ধরে নিবিড়ভাবে গবেষণার পর হ্যাচারীতে ৩৫দিন বয়সী ৪ থেকে ৫ লক্ষ রেনু বা পোস্ট লার্ভা জীবিত পাওয়া যায়। চলতি বছর নিজস্ব খামারে গলদা চিংড়ি চাষ করে আসে সফলতা। এবার রেনু ও পোনা সরবরাহ করে জেলার ৯ উপজেলার স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। প্রাথমিকভাবে ৯টন গলদা চিংড়ি চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, দীর্ঘদিনের গবেষণার পর স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ির জীবিত রেনু বা পোস্ট লার্ভা তৈরিতে সাফল্য অর্জিত হয়। বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা ছাড়াও এই রেনু বা পোস্ট লার্ভা নিতে আসছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছচাষিরা আসছেন। দ্রুত গলদা চিংড়ির জীবিত রেনু বা পোস্ট লার্ভা বিস্তারে কার্যকরি পদক্ষেপ নেবার আশা প্রকাশ করেন।

২৪ মে বুধবার দুপুরে মৎসচাষিদের কাছে পোনা (ডিভাইন) বিতরণ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, মৎস্য খামার ব্যবস্থাপক মুসা কালিমুল্লা, কুড়িগ্রাম সদরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উলিপুরের মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, টেকনিশিয়ান দেলোয়ার হোসেন দিলু, প্রেসক্লাবের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মঞ্জু প্রমুখ।

এসময় পীরগাছার মৎসচাষি আব্দুল মামুনকে ৩৫ কেজি ও রাজারহাটের চাষি রিপনকে ১০ কেজি পোনা হস্তান্তর করা হয়। স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ করার খবর শুনে জেলার অনেক চাষি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই গলদা চিংড়ি চাষে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক চাকা সচল হবে তেমনি জেলার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবার আশা দেখছে চাষিরা।

চাষি রিপন জানান, লাভজনক চাষ হওয়ায় এবয় পোনা হাতের নাগালে পাওয়ায় তরা চিংড়ি চাষ কার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, স্বাদু পানি উপযোগী গলদা চিংড়ি চাষে সফলতা আসায় জেলাকে গলদা চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানীকারী জেলা হিসেবে পরিচিতি করতে অগ্রগামী মাছ চাষিদের এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচএম