ব্রেকিং নিউজঃ

Published: 6 months ago

মুরগি পালনে স্বাবলম্বী খামারিরা



সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

পোল্ট্রি ও কক মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে সাতক্ষীরা জেলার তালার খামারিরা। পৃথিবীর শুরুতে মুরগি পালন ছিল একটি শখের বিষয় কিন্তু কালের বিবর্তনে সেটি আজ ব্যবসায়িক ভাবে রুপ নিয়েছে। বর্তমানে বেকারত্ব দূরীকরণ সহ আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার উপায় স্বরূপ দাড়িয়েছে মুরগি পালন। বেকার যুবকরা সামান্য অর্থ দিয়ে এই ব্যবসা শুরু করে আজ তারা বেকারত্ব ঘোচাতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে।

তালা উপজেলার রহিমাবাদ, হাজরাকাটি, চরগ্রাম, মাগুরা, ইসলামকাটী, বারাত, মির্জাপুর, খলিলনগর, নলতা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুরগি খামার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মুরগি পালনে সামান্য অর্থ ব্যয় করে অনেকেই আর্থিক স্বাবলম্বী হয়েছে। তারই নিদর্শন তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামের মৃত শরফুল বারীর পুত্র মোঃ জাহিদুর রহমান (৩৮)। তিনি গত ৮ বছর যাবৎ খামার করে এই মুরগি পালন করে আসছে। তিনি প্রথমে ১ বিঘা জমির উপরে ছোট্ট একটি খামার করেন পরে ব্যবসায়িক ভাবে লাভবান হওয়ায় বর্তমানে খামারে ৩টি ঘর করে ৩ প্রকৃতির মুরগি পালন করছে। বর্তমানে তার খামারে ৫ হাজার মুরগি আছে।

মুরগি পালনের ব্যাপারে জাহিদুর রহমান জানান, বর্তমানে আমার খামারে এ বছর শুধুমাত্র বয়লার (কক) মুরগি আছে। আগে আমি পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করে তাতে লাভবান হয়েছি। মুরগির খামার করে আমি সংসার পরিচালনা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানো সহ অনেক কিছু করেছি। তবে বর্তমান মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। ২০১৬ সালে মুরগির বাচ্চার দাম ছিল ১৫/২০ টাকা যার বর্তমান মূল্য ৬৫/৭০ টাকা। ২০১৬ সালে ব্যবসায় অনেক লাভ করেছি কিন্তুু ২০১৭ সালে খাবারের বস্তা প্রতি ২/৩শ টাকা এবং মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি হওয়ায় লাভের পরিমাণ বলা সম্ভব না। তবে যদি বর্তমান সরকার বেকারত্ব ঘোচাতে বিভিন্ন ভাবে যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাতে বাচ্চা ও খাবারের দাম না কমালে মুরগি ব্যবসায়ীরা আগামীতে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

একই গ্রামের মোঃ নজরুল মাহমুদের পুত্র খামার ব্যবসায়ী মোঃ শরিফুল ইসলাম (৩৫) জানান, ৬ শতক জমির উপরে একটি খামার করে ১ হাজার বয়লার (কক) মুরগীর বাচ্চা পালন করছি। বাচ্চা ৫৫ দিনে ১ কেজি ওজন হয় আর প্রতি কেজি মুরগির মূল্য ১৭০/১৮০ টাকায় বর্তমান বিক্রয় হচ্ছে। তবে খামার করে শরিফুল ইসলাম আগামী দিনে সোনালী স্বপ্ন দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, লাউতাড়া গ্রামের আঃ জলিল মোড়লের পুত্র মোঃ তাজমুল ইসলাম (৩২) গত ১ বছর যাবৎ এই ব্যবসা করে আসছে। বর্তমানে তার খামারে ১২’শ কয়লার (কক) মুরগি আছে। তিনি এই ব্যবসা থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করেছেন এবং আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

তিনি বলেন, ছোট ব্যবসা হলেও বেকারত্ব দূরীকরণে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে মুরগি পালন।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মুরগির খামার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা কষ্টজড়িত কন্ঠে জানান, বর্তমানে খাবার, ঔষধ এবং বাচ্চার দাম না কমলে ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীরা  সরকারের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, ঔষধ এবং বাচ্চার দাম কমানোর দাবি জানান।

বাংলা রিপোর্ট ডটকম/এইচআর